শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

পূর্ণ বিদেশী মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত ইউএই

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিদেশী কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে আমিরাতি শেয়ারহোল্ডার থাকার বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির বিদেশী মালিকানা আইনে এটি বড় ধরনের পদক্ষেপ। মূলত করোনাভাইরাস মহামারী এবং তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় পরিবর্তিত অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বিনিয়োগ আনার উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ।

আগামী ডিসেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমককে উদারকরণের লক্ষ্যে নেয়া ধারাবাহিক ব্যবস্থাগুলোর সর্বশেষ সংযুক্তি। যেখানে বিদেশীরা জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি। এই সংশোধনগুলো নকশা করা হয়েছে কোম্পানির ব্যয় হ্রাস করার জন্য এবং বিদেশী উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার জন্য। যেখানে এর আগে দাবি করা হতো যে তারা তাদের ব্যবসার ৫১ শতাংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেবে।

নমোরা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের মধ্যপ্রাচ্য ইউনিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক ফাদাল্লাহ বলেন, স্থানীয়রা তাদের পাসপোর্ট ভাড়া দেয়ার কারণে এটা খুবই সংবেদনশীল একটা বিষয় ছিল।

ফাদাল্লাহর মতে, শ্রমবাজারের অন্যান্য সংস্কারের সঙ্গে এই পরিবর্তনটির অর্থ যেকোনো উচাকাঙ্ক্ষী কয়েকজন উদ্যোক্তা দীর্ঘমেয়াদি বাধা নিয়ে দুবাইয়ে আসতে পারবেন এবং নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে বিস্তারিত বিবরণে কিছু সমস্যা আছে বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে অর্থনীতিবিদ জিয়াদ দাউদ বলেন, তেলের বাইরে উপসাগরীয় অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার জন্য এবং একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজারকে ঠিক করার জন্য বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা জরুরি। বেশির ভাগ পদক্ষেপই এখানে প্রসাধনীমূলক। আমরা দেখতে চাই কীভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু নতুন বিধানের প্রাথমিক মূল্যায়ন ইতিবাচক।

আইএমএফের হিসাব মতে, বছর আরব আমিরাত দশমিক শতাংশ অর্থনৈতিক সংকোচন দেখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির বাজেটেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাইভেট কোম্পানিগুলোয় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝড়ে অনেক বিদেশী কর্মীকে চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে এবং আইএইচএস মার্কিট দ্বারা করা একটি কর্মসংস্থান সূচকেও ব্যাপক পতন লক্ষ করা গেছে।

বছরের শুরুতে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাব মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যা ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে। ক্ষতি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ফলাফল নিয়ে আসবে। যদিও এখন পর্যন্ত এটা পরিষ্কার নয় যে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিক কত বিদেশী আরব আমিরাত ছেড়ে গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন