মঙ্গলবার | জুন ২৮, ২০২২ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯  

খবর

পিপলস ডিবেটের আলোচনায় বক্তারা

অফশোর সম্পদের ৫৫% গচ্ছিত উন্নত দেশগুলোতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সিংহভাগই হয় অফশোর সম্পদের মাধ্যমে। এর ৫৫ শতাংশ গচ্ছিত আছে উন্নত দেশগুলোতে এবং তারা সেই অর্থকে স্বাগত জানায়। ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অনেক অফশোর সম্পদের দ্বীপগুলোর থেকেও অধিক আকর্ষণীয়। দেশ থেকে অর্থসম্পদ পাচার রোধ করতে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি রাজনৈতিক সদিচ্ছার দিকে জোর দেন। যে দেশে টাকা পাচার হচ্ছে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেশের টাকা ফেরত আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। এর আগেও বাংলাদেশ পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনেছে।

উন্নয়নশীল দেশসমূহের অফশোর সম্পদ: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির পথে বাধা শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির গণমাধ্যম সহযোগী ছিল বণিক বার্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার (ইএসসি) দি ইএমকে সেন্টারের যৌথ আয়োজন পিপলস ডিবেটের তৃতীয় পর্বের অংশ হিসেবে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে . ইফতেখারুজ্জামান ছাড়াও ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় রিসার্চ ফেলো অধ্যাপক . মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আসিফ ইকবাল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টেগ্রেশন ডেভেলপমেন্টের গবেষণা অর্থনীতিবিদ রবিউল ইসলাম।

. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের জিডিপির একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অফশোর সম্পদের কারণে, যার ফলে স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আগে ধারণা করা হতো, অফশোর সম্পদ রাখার হার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই বেশি, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও একই অবস্থা। সুশাসনের অভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিচার দাঁড় করানো যাচ্ছে না, এর ফলে ট্যাক্স হ্যাভেনে টাকা চলে যাচ্ছে। আইন থাকলেও যথার্থ প্রয়োগ কম। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দায় সুশাসন নিশ্চিত করা আবশ্যক। গণতান্ত্রিক সুশাসন শক্তিশালী করতে চাইলে যারা অর্থ পাচার করেছে তাদের অর্থ ফিরিয়ে আনা দরকার। এতে অন্যরাও অর্থ পাচার করতে ভয় পাবে। ডাটা ইন্টেগ্রিটি নিশ্চিত করতে হবে; এজন্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার।

তিনি আরো বলেন, যেসব দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) কিংবা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বেশি হয়ে থাকে সেসব দেশে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল মানি লন্ডারিং হয়ে থাকে।

আসিফ ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্য বেসরকারিভাবে তৈরি আর্থিক বিষয়াদির ডাটা তৈরি করা। গত ১০ বছরে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদের হার বেড়েছে। অনেকেই শক্তিশালী পাসপোর্ট কিংবা উন্নত জীবন লাভের আশায় অর্থ বিদেশে প্রেরণ করে। তাই আমাদের জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের দেখতে হবে অর্থ বৈধ নাকি অবৈধভাবে অর্জিত। বৈধ হলে সেই অর্থ দেশেই রেখে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমেও আজকাল বড় ধরনের মানি লন্ডারিং হয়ে থাকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×