বুধবার | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে সব যাত্রীবাহী ট্রেন

তৃতীয় দফায় আরো ১৩ জোড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ২৫ মার্চ থেকে সারা দেশের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৬৭ দিন টানা বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি নেমে যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু করে রেলওয়ে। সারা দেশে দুই দফায় ১৯ জোড়া ট্রেন চালু করা হয়। এবার ১৬ আগস্ট তৃতীয় দফায় চালু হচ্ছে আরো ১৩ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের বন্ধ থাকা বাদবাকি ট্রেনগুলোর কার্যক্রমও শুরু করা হবে। তবে আগের নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রেলভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরুর পর রেলওয়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম শুরু করে। দুই দফায় ১৯ জোড়া ট্রেন চালুর পর যাত্রীর অভাবে বেশ কয়েকটি ট্রেন সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধও করে দেয় রেলওয়ে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তে নতুন করে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১২ জোড়া আন্তঃনগর এবং এক জোড়া কমিউটার ট্রেন।

আগস্ট রেলভবন থেকে দেয়া এক চিঠিতে দেখা গেছে, ১৬ আগস্ট থেকে চালু হতে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের একতা এক্সপ্রেস ট্রেন (৭০৫/৭০৬), খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫/৭২৬), রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটের পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০/৭৫৯), ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯/৭১০), ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটের হাওড় এক্সপ্রেস (৭৭৭/৭৭৮), ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫/৭৩৬), রাজশাহী-চিলাহাটী-রাজশাহী রুটের তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৩/৭৩৪), চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১/৭২২), চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটের বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫/৭৮৬), ঢাকা-নোয়াখালী-ঢাকা রুটের উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১/৭১২), খুলনা-চিলাহাটী-খুলনা রুটের সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭/৭৪৮), গোবরা-রাজশাহী-গোবরা রুটের টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৩/৭৮৪) এছাড়া একই দিন ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের জামালপুর কমিউটার (৫১/৫২) নম্বর ট্রেনও চালু করা হবে।

রেলওয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ৬৭ দিন যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাদবাকি সব ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১৬ আগস্টের পর ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের শর্তে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ পরিপালনের মাধ্যমে রেলের সব ট্রেন পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের দৈনিক চলাচলরত মোট ট্রেনের সংখ্যা ৩৪৮। এর মধ্যে প্রতিদিন ২০-২৫টি গুডস ট্রেন গড়ে ছয়টি কনটেইনারবাহী ট্রেন ছাড়া বাকিগুলো যাত্রীবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন ৮৬টি, মেইল এক্সপ্রেস-কমিউটার-ডেমু ১৩২টি এবং লোকাল ট্রেনের সংখ্যা ৯৫। এছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রেন রয়েছে পাঁচটি। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন