শনিবার | জানুয়ারি ২২, ২০২২ | ৯ মাঘ ১৪২৮

খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ

শত কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছুটবে কক্সবাজারে

শামীম রাহমান, কক্সবাজার থেকে ফিরে

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে রেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করতে তৈরি হচ্ছে নতুন রেলপথ। সিঙ্গেল লাইন ডুয়াল গেজের রেলপথটির ডিজাইন স্পিড ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। লাইনে ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে। এর মধ্য দিয়ে সড়ক আকাশপথের পাশাপাশি রেলপথেও ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা কক্সবাজার। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই রেলপথটি চালুর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

নির্মাণাধীন রেলপথটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ঝিনুকাকৃতির কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটিই হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন রেলওয়ে স্টেশন। পুরো স্টেশনটি গড়ে উঠছে ২৯ একর জমির ওপর। আইকনিক স্টেশন ভবনটি লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার প্রায় সবই থাকছে স্টেশনটিতে।

সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরত্বে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনটি তৈরি করা হচ্ছে। স্টেশনটি পড়েছে ঝিলংঝা ইউনিয়নের চান্দের পাড়া এলাকায়। সরেজমিন নির্মাণাধীন স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছয়তলা স্টেশন ভবনের চারতলা পর্যন্ত মূল কাঠামো এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। চার তলার উপরে চলছে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। কমবেশি ২০০ প্রকৌশলী শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন স্টেশন ভবনটির নির্মাণকাজে। স্টেশন ভবন ছাড়াও আরো ১৭টি স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলো ব্যবহার করা হবে রেলওয়ের পরিচালনা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে।

শুধু কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনটি নির্মাণ করতেই ২১৫ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ঝিনুকাকৃতির স্টেশনটি কক্সবাজারের পর্যটনকে প্রতিনিধিত্ব করছে। পর্যটকরা স্টেশনে এসেই কক্সবাজারের সৌন্দর্যের একটা স্বাদ পাবেন। এজন্য এটাকে আমরা আইকনিক স্টেশন বলছি। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র আইকনিক স্টেশন। স্টেশনটিতে যাত্রী প্রবেশ বের হওয়ার জন্য রাখা হচ্ছে ভিন্ন পথ। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেশনটিতে যাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার প্রায় সবই রাখা হয়েছে। লকারের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এসব লকারে রেখে সমুদ্রস্নানে কিংবা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যেতে পারবেন।

স্টেশনটির নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৪৪ শতাংশ বলে জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারের আইকনিক স্টেশনসহ সবমিলে নয়টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে রেলপথটিতে। কক্সবাজারের পরই রামু স্টেশন। এরপর পর্যায়ক্রমে ইসলামাবাদ, ডুলাহাজারা, চকরিয়া, হারবাং, লোহাগড়া, সাতকানিয়া দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। রেলপথ বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটির কাজ এলাকাজুড়ে এরই মধ্যে শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

মাটির কাজের পাশাপাশি এগিয়ে চলছে রেললাইন বসানোর কাজও। সরেজমিন কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাহ এলাকা থেকে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা এলাকা পর্যন্ত রেলপথ বসানোর কাজ করতে দেখা গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মীদের। চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রেলপথসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। মাক্সের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের রেলপথ বসানো হয়েছে ১২ কিলোমিটার এলাকায়। ঈদগাহ থেকে জোয়ারিয়া নালা পর্যন্ত রেলপথ বসানো শেষ হয়েছে। বাকি অংশের কাজের মধ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের দিকে। স্টেশন ভবনগুলোর কাজও একই সঙ্গে চলমান রয়েছে। আশা করছি, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের অংশের সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।

আনুষঙ্গিক অবকাঠামোসহ দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আরো প্রায় ৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অংশে ১৯টি সেতুর সব টি তৈরি হয়ে গেছে। স্টেশন বিল্ডিংগুলোর নির্মাণকাজ চলমান। ভূমি উন্নয়নকাজও শেষ পর্যায়ে। রেলপথটির দোহাজারী-চকরিয়া অংশের নির্মাণকাজও ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালে। কাজ শুরুর এক বছর যেতে না যেতেই করোনা মহামারী আমাদের জন্য একটা বড় ধাক্কা হয়ে আসে। শুরুর দিকে নির্মাণকাজের অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমানে পুরোদমে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। আমাদের প্রত্যাশা, ২০২২ সালের মধ্যেই চালু হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন