রবিবার | আগস্ট ০৯, ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

প্রথম পাতা

পাট সুতা উৎপাদনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিল আকিজের

বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২৫% মেটাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি

সাইদ শাহীন

অতীতের সব জৌলুশ হারিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছে দেশের  সোনালি আঁশ পাটশিল্প। লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে রাষ্ট্রায়ত্ত সবগুলো পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। অবস্থার মধ্যেও পাটপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে বেসরকারি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, যার একটি আকিজ জুট মিলস লিমিটেড। একসময় মাত্র ৩০০ জন শ্রমিক ১০ টন উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা করা আকিজ জুট মিলস পাট সুতা উৎপাদনে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পাট সুতার বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্ববাজারে পাট সুতার বার্ষিক চাহিদা চার থেকে সাড়ে চার লাখ টন। চাহিদার এক লাখ টনের বেশি সরবরাহ করছে আকিজ জুট মিলস। গত অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটি পাটজাত দ্রব্যে রেকর্ড পরিমাণ রফতানি আয় করে। প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ডলার ছাড়ায় তাদের রফতানি আয়।

আকিজ গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত ভালো পাটের সিংহভাগই প্রক্রিয়াজাত করে সুতায় রূপান্তর করছে আকিজ জুট মিলস। বিশ্বের প্রায় ৪০টির মতো দেশে পাটপণ্য রফতানি করছে আকিজ। আকিজ জুট মিলসে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি জুট মিলের ওপর পরোক্ষভাবে আরো প্রায় ১৫ হাজারের বেশি পরিবার নির্ভরশীল।  প্রতিষ্ঠানটিকে কাঁচা পাট সরবরাহ করে দেশের প্রায় আড়াই লাখ কৃষক।

উৎপাদন সক্ষমতা সরবরাহে দেশে পাট খাতে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে আকিজ জুট মিলস। মাত্র দুটি ইউনিট নিয়ে যাত্রা করা আকিজ জুট মিলসের অধীন এখন সাতটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনতা সাদাত জুট মিলস এবং করিম জুট মিলসও পাট সুতা পণ্য উৎপাদন করছে। তবে বাজারের এক-তৃতীয়াংশই এখন আকিজের দখলে। আকিজ জুট মিলসে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ টন সুতা উৎপাদন হচ্ছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জনতা জুট মিলসের উৎপাদন ১০০ টনের কাছাকাছি এবং করিম জুট মিলসের ১০০ টনের নিচে।

পাট খাতে এমন ঈর্ষণীয় সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান সেখ নাসির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, পাট খাতের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী হিসেবে আমার বাবা খাতের সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে খুলনায় পাটকলের দায়িত্ব নিই। এরপর পরিচালনা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনার পাশাপাশি পাটপণ্যের মানে পরিবর্তন আনি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই সফলতা ধরা দেয়। সৃষ্টিকর্তার রহমতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাট সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পেরেছি আমাদের মিলকে। তকদির চেষ্টার মাধ্যমে দেশের সুনাম মর্যাদা বৃদ্ধি করব। দেশবাসীর দোয়া সহযোগিতা নিয়ে শুধু আকিজ জুট মিলসের মাধ্যমেই ৫০ হাজার কর্মসংস্থান করার স্বপ্ন রয়েছে। এজন্য নতুন কারখানা স্থাপন দক্ষতা এনে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের অবস্থান আরো সুসংহত করব। আমাদের পণ্যের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গেও ব্যবসা করতে ইচ্ছুক।

বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে আকিজ জুট মিলসের রফতানি ১০ কোটি ডলার ছাড়ালেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা জনতা সাদাত জুট মিলসের রফতানি ছিল সাড়ে তিন কোটি ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে করিম জুট মিলসের রফতানি ছিল কোটি ডলারের কাছাকাছি। দেশে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্যের অনেক চাহিদা আছে বিদেশে। আর সুযোগ যখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হাতছাড়া করছে তখন তা কাজে লাগাচ্ছে আকিজ জুট মিলস লিমিটেড। পাট সুতা উৎপাদনকারী পাটজাত পণ্য রফতানিতে অসামান্য অবদান রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটি টানা ১৫ বছর ধরে জাতীয় রফতানি ট্রফি (স্বর্ণ) অর্জন করে দেশের শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। এছাড়া ২০১৮-২০১৯ কর বছরে পাট শ্রেণীতে সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা-২০১৯ পেয়েছে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি।

বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া প্রসঙ্গে বলেন, দেশের বেসরকারি পাট খাতের মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে আকিজ জুট মিলস। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা ছাড়াও সার্বিক ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক মানের জন্য কয়েক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে বিশেষ অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি দেশের পাট খাতকে জাগিয়ে তুলতে বিশেষ অবদান রাখছে আকিজ। পাটপণ্যের বৈশ্বিক রফতানি বাজারে সামনের দিনে আরো এগিয়ে যাবে। এজন্য সক্ষমতা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সরকারিভাবে সব ধরনের নীতিসহায়তা বেসরকারি পাট খাতকে দেয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন