শনিবার | জুলাই ০৪, ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭

শিল্প বাণিজ্য

অর্ধেকে নামলো ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সুদ হার

বণিক বার্তা অনলাইন

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে করলো সরকার। তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ সুদ হারের স্থলে এখন ৬ শতাংশ পাওয়া যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই এ সুদ হার কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বেশ কিছু দিন ধরেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করার কথা বলছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদ হার এক লাফে অর্ধেক করা হলো। তবে অন্য সঞ্চয়পত্রে সুদহার এখনো কমানো হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে এক বছর মেয়াদে সুদহার হবে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ।

দুই বছর মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদহার হবে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর তিন বছর মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার হবে ৬ শতাংশ, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

আমানতকারী প্রতি ৬ মাস অন্তর মুনাফা উত্তোলন করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৪, দ্বিতীয় বছরে সাড়ে ৪ এবং তৃতীয় বছরে ৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। আগে যা ছিল যথাক্রমে ৯, সাড়ে ৯ এবং ১০ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি।


ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ বছর ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রেও সুদের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ এবং যাদের টিআইএন নেই, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১৫ শতাংশ।

এছাড়া এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারের এ পদক্ষেপ বেশ কাজে দিয়েছে। নানা শর্তারোপের কারণে সরকারের সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ কমেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের কিছু কম। সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি হয়েছে ৩২০ কোটি ৬২ লাখ টাকার। আগের বছর একই মাসে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন