মঙ্গলবার | জুন ২৮, ২০২২ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯  

শিল্প বাণিজ্য

বিমানবন্দরে অভিযোগ না কমলে কঠোর ব্যবস্থা —সালমান এফ রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল বিকালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী এসবের সমাধান সমন্বয়ের কথা বলেছেন। আজকের পরিদর্শনের পর যদি দেখি অভিযোগের হার কমছে না, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আকস্মিক বিমানবন্দর পরিদর্শনের কারণ জানতে চাইলে সালমান এফ রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিমানবন্দরে নানা হয়রানি অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির খবর প্রকাশ হচ্ছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিদর্শনে এসেছি। পরিদর্শন করে কী কী সমস্যা আছে সেটি দেখার নির্দেশ দিয়েছি।

শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শনে কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, দুই-তিন জায়গায় হয়রানির কথা শুনেছিলাম। কভিডের সার্টিফিকেট এনেও এখানে দীর্ঘ লাইন হতো। এখানে এখন কিউআর কোড নিয়ে আসায় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। যারা কিউআর কোড আনেন না, তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অনেকে অভিযোগ করেছেন যাওয়া আসার সময় ইমিগ্রেশনে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে পাসপোর্ট সিল করে না। অনেক সময় ইমিগ্রেশনই হয় না বা আননেসেসারি হয়রানি করা হয়। আমরা আজ এসবির চিফকেও নিয়ে এসেছি। তিনিও শুনেছেন। ধরনের অভিযোগের সত্যতা পেলে ইমিগ্রেশনের সেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব সমস্যা সমাধানে শিগগিরই অ্যাপ উদ্বোধন করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশনের সময় ইমিগ্রেশন অফিসার হয়রানি করলে, টাকা চাইলে অভিযোগ করা যাবে অ্যাপসে। অ্যাপস চালু হলে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করার প্রবণতাও কমে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, এখানে সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান আছে তাদের কর্মকর্তাদের বলেছি, ঢাকায় যারা আসে তারা প্রথম বিমানবন্দরেই নামে। এটাই প্রথম এন্ট্রি। এর বাইরে কী হয় সেটা তো পরে। কিন্তু বিমানবন্দরেই যদি অভিজ্ঞতা খারাপ হয়, তাহলে কিন্তু বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি বা ধারণা তৈরি হয়। আর এখানে যদি নেতিবাচক ধারণা হয় তাহলে দেশের ইমেজ নষ্ট হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশে বিদেশী আসছেন, তার সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা আমাদের করতে হবে।

কাস্টমস সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেক যাত্রী স্বর্ণ আমদানি করেন। কিন্তু সেটা আনলে ট্যাক্স দিতে হবে। এটাই নিয়ম। কিন্তু ডিক্লারেশনে তারা এমাউন্ট দেয় এরপর টাকা দিতে ব্যাংকে যায়। কাস্টমস থেকে ব্যাংক বেশ দূরে। সে জন্য আমরা সময়ক্ষেপণ বন্ধ করতে কাস্টমস ব্যাংক পাশাপাশি আনার কথা বলেছি। কাস্টমস আশ্বস্ত করেছে। কাস্টমসে আসা ব্যাগেজ প্রি স্ক্যানিং করা যায় কিনা সেটা আমরা পরীক্ষা করতে বলেছি। কারণ প্রিস্ক্যানিং করা গেলে কাস্টমসের বাইরের চাপ কমবে। শুধু সেই ব্যাগেজ চেক করা হবে যেটা আগেই স্ক্যান করে মার্ক করা হয়েছে। যেটা বিদেশে হয়।

-গেট এখানে বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, ওভারঅল অনেক হয়রানি, ভোগান্তির অভিযোগ শুনছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আজকের পরিদর্শন। সরকার ব্যাপারে কঠোর। আশা করছি, এসবের সমাধান হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×