মঙ্গলবার | জুন ২৮, ২০২২ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৯  

দেশের খবর

হিলিতে ঠাণ্ডাজনিত রোগী বেড়েছে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, হিলি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর ভিড় ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী

দিনাজপুরের হিলিতে আবারো শীত জেঁকে বসেছে। শীতের তীব্রতার কারণে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু বয়স্করা। ফলে অতিরিক্ত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সীমান্তবর্তী এলাকা দিনাজপুরের হিলিতে কিছুদিন তাপমাত্রা বাড়তি থাকলেও তিনদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় শীত জেঁকে বসেছে। সেই সঙ্গে সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো এলাকা। একই সঙ্গে হিমেল বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে তুলছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগী বাড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। প্রতিদিন ৩০-৪০ জন -সংক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আবার একই পরিমাণ রোগী আউটডোরে চিকিৎসক দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

শিশুকে নিয়ে আসা গৃহবধূ হাসি আকতার বলেন, দুই-তিনদিন আগে হিলিতে বৃষ্টির কারণে আবারো ঠাণ্ডা পড়েছে। কখনো গরম, কখনো ঠাণ্ডা আবহাওয়াজনিত কারণে শিশুদের ডায়রিয়া হচ্ছে। আমার বাচ্চারও ডায়রিয়া হয়েছে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা করায় একেবারে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না, খেলাধুলা করছে না। স্থানীয়ভাবে ওষুধ খাইয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

গৃহবধূ আলো আকতার বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে। কারণে বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। ডাক্তার দেখানো হয়েছে, যে ওষুধ লিখে দিয়েছেন সেগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

গৃহবধূ হাসিনা বানু বলেন, কখনো গরম কখনো ঠাণ্ডা পড়ায় পরিবারের ছোট-বড় সবার ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। আমার নিজেরও ডায়রিয়া হয়েছে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হচ্ছে। শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে, আর চলতে পারছি না। বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি।

হাসপাতালে ভর্তি নূর আলম জানান, শীতের মধ্যে কাজে বের হওয়ার কারণে ঠাণ্ডা লেগে আমার নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া দিনের মধ্যে ছয় থেকে সাতবার পাতলা পায়খানা হচ্ছে।  আমরা তো দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করি, খুব অসুবিধার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছি।  

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান বলেন, বর্তমানে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে তিন-চারদিন ধরে শীত বেশী অনুভূত হচ্ছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যা মাঝখানে কিছুদিন কমে গিয়েছিল। শীতের কারণে বয়স্ক শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশী দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তারা বেশীর ভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। রোগী বাড়ার কারণে আমাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বেশী করে গরম কাপড়-চোপড় পরিধান করতে হবে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ শীতকালীন নানা ধরনের সবজি খাওয়া, বয়স্ক শিশুদের ঠাণ্ডা পানি পান পরিহার করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন


×