বুধবার | অক্টোবর ২০, ২০২১ | ৫ কার্তিক ১৪২৮

পণ্যবাজার

দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচকে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত

বণিক বার্তা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক নিলামে আবারো কমেছে বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের দাম। নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ডেল্টার প্রভাব বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মূলত কারণেই আন্তর্জাতিক নিলামে পণ্যটির দরপতনের ধারা অব্যাহত আছে।

নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দুগ্ধপণ্যের সর্বশেষ বৈশ্বিক নিলামে পণ্যটির দাম এর আগের নিলামের তুলনায় দশমিক শতাংশ কমেছে। নিয়ে টানা আট নিলামে মন্দা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক।

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে কভিড-১৯ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। দেশে দেশে করোনাভাইরাসের ধরনের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় মূল্যসূচকে পতন দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারবিশ্লেষকরা। তবে গত নিলামের তুলনায় কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দুগ্ধপণ্যের দাম ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতি মাসে দুবার বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। গত মঙ্গলবার চলতি মাসের দ্বিতীয় নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিলামের প্রধান পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি) ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ (এসএমপি) সর্বশেষ নিলামে পণ্য দুটির দাম সর্বাধিক হ্রাস পেয়েছে। প্রস্তাবিত সব দুগ্ধপণ্যের মধ্যে শুধু চেডার পনিরের দাম বেড়েছে।

সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৫৮০ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৪০৫ টন। সরবরাহ বিক্রি সমানভাবে কমেছে। নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি হাজার ৮৩৯ ডলার। এবারের নিলামে ১৫৪ জন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১১ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।

অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অর্থনৈতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টপ্যাকের ঊর্ধ্বতন কৃষি অর্থনীতিবিদ নাথান পেনি বলেন, দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক আবারো কমেছে। নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় দুগ্ধপণ্যের বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে এনজেড ব্যাংকের এএসবি ইকোনমিস্ট নাথানিয়েল কেইল বলেন, মহামারী নতুন আশঙ্কার জন্ম দিলেও দুগ্ধপণ্যের বাজার নিয়ে আমরা এখনো আশাবাদী। বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চাহিদা পূরণে যথাযথ সরবরাহ ধারা বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন খামারি ব্যবসায়ীরা। এতে করে বিশ্বজুড়ে দুগ্ধপণ্যের বাজার চাঙ্গা থাকবে।

আইরিশ ফার্মারস জার্নাল জানায়, ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধকে (ডব্লিউএমপি) জিডিটি নিলামের প্রধান পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূল্যসূচকের পতনে মূল ভূমিকা রেখেছে এটি। সর্বশেষ নিলামে ডব্লিউএমপির দাম দশমিক শতাংশ কমেছে। পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে টনপ্রতি হাজার ৭৩০ ডলার পর্যন্ত। এর আগের নিলামে দাম ছিল টনপ্রতি হাজার ৮৬৪ ডলার।

এদিকে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম দশমিক শতাংশ কমেছে। পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে টনপ্রতি হাজার ৯৭১ ডলার পর্যন্ত। এর আগের নিলামে দাম ছিল টনপ্রতি হাজার ১২৬ ডলার।

নিলামে শুধু চেডার পনিরের দাম বেড়েছে। পণ্যটির দাম দশমিক শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি হাজার ২২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া মাখনের দাম দশমিক শতাংশ কমে টনপ্রতি হাজার ৪১৯ ডলারে নেমে এসেছে। নিলামে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ প্রস্তাব করা হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন