বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

সামনের মাসে পুঁজিবাজার খুলে দিতেই হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়েছেন। এর আগে সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী দিনের প্রত্যাশা করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত

গত বছরেরশুরু থেকেদেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরদরপতন আরোতীব্র হয়েছে। সর্বশেষ নভেলকরোনাভাইরাসের কারণেমার্চ থেকেপুঁজিবাজারের অবস্থা শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। দেশেরপুঁজিবাজারের অবস্থাকে আপনিকীভাবে দেখছেন?

পুঁজিবাজার নিম্নমুখীহওয়ার বেশকিছুকারণ রয়েছে।যদি পলিসিগতভুল-ত্রুটিথাকে, অর্থনীতিতেযদি সমস্যাথাকে কিংবাজনগণের কাছেযদি বিনিয়োগযোগ্যঅর্থ নাথাকে তাহলেবাজার নিম্নমুখীহয়। বিশ্বব্যাপীকরোনাভাইরাসের কারণেপুঁজিবাজার নিম্নমুখীহয়েছে। আমাদেরবাজারেও এরপ্রভাব পড়েছে।তবে একটিবিষয় আমিলক্ষ করেছিযে আজথেকে ১০-১৫বছর আগেওবিএসইসির নিজস্বভবন এবংপ্রয়োজনীয় অনেকআইনকানুন ছিলনা। কিন্তুপ্রধানমন্ত্রী এবংআগের কমিশনেযারা দায়িত্বেছিলেন তাদেরপ্রচেষ্টায় কমিশনেরনিজস্ব ভবনএবং অনেকআইনকানুন হয়েছে।আইনকানুন করতেগেলে অনেকসময় ত্রুটি-বিচ্যুতিথাকে এবংঅনেক সময়সেটি বাজারবান্ধবহয় না।যদি ধরনের কোনোভুল-ত্রুটিথাকে তাহলেআমরা সেগুলোঠিক করারব্যবস্থা নেব।আরেকটি বিষয়হচ্ছে আস্থা।আমরা যেসবপরিকল্পনা নিয়েছিসেগুলো বাস্তবায়িতহলে সামনেরদিনগুলোতে জনগণেরআশা-আকাঙ্ক্ষারপ্রতিফলন ঘটবেএবং আস্থাফিরে আসবে।এমনকি দেশী-বিদেশীঅনেকেই আমারসঙ্গে যোগাযোগকরেছেন, যারাএতদিন বাজারথেকে দূরেছিলেন। বাজারেফেরার জন্যতাদের মধ্যেযে উদ্দীপনাদেখেছি সেটিআমাকে বাজারসম্পর্কে আশাবাদীকরে তুলেছে।তাছাড়া পুঁজিবাজারবর্তমানে যেঅবস্থায় রয়েছেএটি কিন্তুশেয়ার কেনারসময়। তাইআমি পুঁজিবাজারনিয়ে আশাবাদী।

পুঁজিবাজার নিয়েআপনার লক্ষ্য পরিকল্পনাগুলোর বিষয়ে জানতেচাই?

নভেল করোনাভাইরাস-পরবর্তীপ্রভাব মোকাবেলায়আমাদের বেশকিছুউদ্যোগ নিতেহবে। কোম্পানিগুলোকেপুঁজিবাজারের মাধ্যমেকীভাবে আর্থিকসুবিধা দেয়াযায়, সেটিআমরা দেখছি।তাছাড়া করপোরেটকরহারে কিছুছাড়ের বিষয়ওরয়েছে। বিষয়ে আমরাসরকারের সঙ্গেআলোচনা করব।আমি বন্ডেরবিষয়ে জোর দিতে চাই।বর্তমানে ব্যাংকেরসুদের হারঅনেক কমেগেছে। আমরাযদি -শতাংশ রিটার্নেবন্ড ছাড়তেপারি তাহলেজনগণ তাদেরসঞ্চিত অর্থবিনিয়োগের বিপরীতেকিছু বাড়তিঅর্থ পাবে।অন্যদিকে নভেলকরোনাভাইরাসের প্রভাবেবিভিন্ন খাতেরযেসব কোম্পানিক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেতারাও এরমাধ্যমে তাদেরনগদ অর্থেরঘাটতি পুষিয়েনিতে পারবে।এক্ষেত্রে আমরাযদি বন্ডেরবিষয়টি আরোসহজ করেদিতে পারি,তাহলে এটিজনপ্রিয়তা পাবে।আমি সুকুকেরবিষয়টিকেও গুরুত্বদিতে চাইছি।ইসলামিক ফিন্যান্সেসুকুকের মাধ্যমেঅনেক বিনিয়োগেরসুযোগ রয়েছে।আমি খুবদ্রুতই এটিচালু করতেচাইছি। এরইমধ্যে দেশী-বিদেশীঅনেকেই সুকুকেরবিষয়ে তাদেরআগ্রহের কথাজানিয়েছেন। এরমাধ্যমে দেশেবড় ধরনেরবিনিয়োগের সুযোগরয়েছে। এছাড়াডেরিভেটিভস, অপশনস,ফিউচার মার্কেটেরমতো পণ্যআমাদের পুঁজিবাজারেনিয়ে আসতেচাই। আমিইকুইটিনির্ভরতা থেকেপুঁজিবাজারকে বেরকরে নিয়েআসতে চাইছি।অবশ্য আমাদেরবাজারে ধরনের অ্যাডভান্সডবিষয়ে কাজকরার মতোদক্ষ পেশাদারদেরওঘাটতি রয়েছে।ফলে এক্ষেত্রেকিছুটা ধীরগতিতেএগোতে হবে।কিন্তু আমিএটা শুরুকরব। এসবনতুন পণ্যেরবিষয়ে ব্যাপকআকারে প্রচার-প্রচারণারউদ্যোগ নেয়াহবে। যাতেকরে বিনিয়োগকারীসহবাজারসংশ্লিষ্ট সবাইএসব পণ্যেরসুবিধা-অসুবিধাসহবিস্তারিত সবকিছুসম্পর্কে জানতেপারে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুনকোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে অনেকআলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। আইপিওপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকউদ্যোক্তাই পুঁজিবাজারে আসতে চাননা। তাছাড়া আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসারপর অনেককোম্পানির পারফরম্যান্সে অধোগতি দেখাযায়। সার্বিকভাবে আইপিও নিয়েআপনার পরিকল্পনা কী?

বিষয়গুলোআমার নজরেওএসেছে। আমিদায়িত্ব নিয়েছিমাত্র কয়েকদিনহলো। আমিএটা নিয়েইকাজ করছি।আইপিও প্রক্রিয়ারসময় কমিয়েআনাসহ অন্যান্যযেসব সমস্যারয়েছে সেগুলোচিহ্নিত করারজন্য আমিসংশ্লিষ্ট সবারসঙ্গে আলোচনাকরছি। সমস্যাগুলোচিহ্নিত হয়েগেলেই তখনআমরা এরসমাধানের জন্যকাজ করতেপারব। আমাদেরনতুন কমিশনেরসদস্য যারাআছেন তারাএসব বিষয়েঅভিজ্ঞ, তাদেরপড়াশোনাও বিষয়ে। ফলেআমরা সবাইমিলে সমস্যাগুলো দূরকরতে পারববলে আশাকরছি।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নির্ভর হওয়ারকারণে আমাদের পুঁজিবাজারে অস্থিরতাও বেশি দেখাযায়। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন কমিশনের ভূমিকা কীহবে?

বিষয়টিনিয়ে দুদিনধরে অনেকেরসঙ্গে কথাহয়েছে। এমনকিবিদেশী প্রাতিষ্ঠানিকবিনিয়োগকারীরাও আমদেরএখানে বিনিয়োগেআগ্রহী। সবাই বিষয়টিঅনুধাবন করতেপেরেছে যেবাজার এভাবেনিম্নমুখী থাকতেপারে না। অবস্থাবজায় থাকলেতাদের নিজেদেরইক্ষতি। ফলেসামনের দিনগুলোআমাদের পুঁজিবাজারেদেশী-বিদেশীপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদেরঅংশগ্রহণ বাড়বেবলে আমিমনে করি।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেলকডাউন থাকাসত্ত্বেও পুঁজিবাজার চালু রয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি অটোমেটেড নাহওয়ার কারণেআমাদের দেশেপুঁজিবাজার দুইমাস ধরেবন্ধ রয়েছে। পুঁজিবাজারের পরিপূর্ণ ডিজিটাইজেশনে নতুনকমিশন উদ্যোগ নেবে কি?

মূলত পরিপূর্ণডিজিটাইজেশন ব্যবস্থানা থাকারকারণেই এতদিনধরে পুঁজিবাজারবন্ধ রয়েছে।আমরা যদিবর্তমান অভিজ্ঞতাথেকে শিক্ষানিয়ে বিষয়গুলো ঠিককরতে নাপারি তাহলেভবিষ্যতে যদিকরোনার মতোকোনো পরিস্থিতিআসে তখনআমাদের অবস্থাআরো শোচনীয়হবে। তাইআমাদের পরিপূর্ণঅটোমেশন ডিজিটাল প্রযুক্তিরদিকে চলেযেতে হবে।আমি কমিশনেরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরসঙ্গে সফটওয়্যার ডিজিটালপ্রযুক্তির বিষয়টিনিয়ে আলোচনাকরেছি। বিএসইসি,স্টক এক্সচেঞ্জ,সেন্ট্রাল ডিপোজিটরিঅব বাংলাদেশলিমিটেড (সিডিবিএল)এবং ফিন্যান্সিয়ালরিপোর্টিং কাউন্সিলের(এফআরসি) মধ্যেআমরা একটিঅনলাইন ব্যবস্থাচালু করব।তাছাড়া বাংলাদেশব্যাংকের সঙ্গেওআমরা সিআইবিটাঅনলাইন করারচেষ্টা করছি।

দেশে পুঁজিবাজার চালু হবেকবে নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উত্কণ্ঠার মধ্যেরয়েছেন। তাছাড়া বাজার চালুহলেও ফ্লোরপ্রাইস থাকারকারণে লেনদেনের পরিমাণ কমেযাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। পুঁজিবাজার চালু এবংফ্লোর প্রাইস থাকবে কিনা, বিষয়েসিদ্ধান্তের জন্যসবাই নতুনকমিশনের দিকেতাকিয়ে রয়েছে?

সারা পৃথিবীতেকেউ পুঁজিবাজারবন্ধ রাখেওনিআর রাখতেপারেনি। এরসঙ্গে আন্তর্জাতিকপর্যায়ে অনেককিছুর সংযুক্তিরয়েছে। ফলেআমাদের এখানেওআর বোধহয় বাজারবন্ধ রাখারসুযোগ নেই।জুন মাসেআমাদের পুঁজিবাজারখুলে দিতেইহবে। আরফ্লোর প্রাইসএকটি সাময়িকব্যবস্থা। আশাকরছি খোলারপর পুঁজিবাজারঊর্ধ্বমুখী হবেএবং ফ্লোরপ্রাইসের আরকোনো প্রয়োজনথাকবে না।এক্ষেত্রে আমরাসবসময় ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের স্বার্থটাইদেখব।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা....

বিনিয়োগকারীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, আমরা সঠিক উপায়ে ন্যায্যতার সঙ্গে আইনকানুন ঠিকঠাক করে বাজারটাকে সুসংহত করার যে চেষ্টা করছি তার ওপর আস্থা রাখার জন্য।  সামনের দিনগুলোতে অর্থবাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন