মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

সিল্করুট

ইতিহাসে উপেক্ষিতা

মোগল রাজমাতা মানমতি কিংবা আসলি যোধা বাঈ

মুহিত হাসান

মোগল সম্রাট আকবর রাজপুত রাজকন্যা যোধা বাঈয়ের প্রণয়-পরিণয় নিয়ে নানা গল্পগাছা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত আছে। এমনকি বলিউডে নিয়ে জবরদস্ত রোমান্টিক সিনেমাও তৈরি হয়ে গেছে হাল আমলে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যোধা বাঈ নামে কোনো জয়পুরের রাজপুত রাজকন্যাকে আকবর বিয়ে করেছিলেন, তার প্রমাণ কিছু নেই। যোধা বাঈ নামে যাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, বিয়ে-পরবর্তী নাম যার মরিয়ম-উজ জামানি (তার রাজপুত নাম জানা যায় না), তিনি ছিলেন আদতে জয়পুরের অম্বর রাজবংশের কন্যা, যোধপুরের মারওয়ার রাজবংশের নন। গোলমালটি উনিশ শতকে পয়লা তৈরি করেন ভারতে আসা গোরা মিলিটারি বাবু জেমস টড, তার ভুলে ভরা তথাকথিত মহাগ্রন্থ এনালস অ্যান্ড এন্টিকুইটিজ অব রাজস্থান- (টডের ভুলভালের ফিরিস্তি জানতে কালিকারঞ্জন কানুনগোর রাজস্থান কাহিনী বইটি পড়া যেতে পারে) যা হোক, টড সাহেবের সৃষ্ট ভুল তথ্য নিয়ে মেতে থাকতে থাকতে উপমহাদেশবাসী প্রকৃত যোধা বাঈয়ের কথা ভুলতে বসেছে।

কে এই আসলি যোধা বাঈ? তিনি এক দুর্ভাগা মোগল রাজমাতা মারওয়ার রাজবংশের রাজকন্যা। জন্ম ১৫৭৩ সালে। পরিবার প্রদত্ত নাম তার মানমতি বাঈজি লাল। মোগল দরবারে তার নাম হলো জগৎ গোসাঁই, যার অর্থ: পৃথিবীর কর্ত্রী। যোধপুরের মারওয়ারের মোটা রাজা (স্থূলকায় শরীরের জন্য) নামে পরিচিত উদয় সিং রানী মানরং দেবীর কন্যা। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অন্যতম স্ত্রী সর্বোপরি আরেক মোগল সম্রাট শাহজাহানের গর্ভধারিণী। কিন্তু রাজপুত-কন্যা কী করে মোগল বধূ হলেন? সেই কাহিনী জানতে মারওয়ারের ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরাতে হবে। উদয় সিংয়ের পিতা রাও মালদেওর সঙ্গে মোগলদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। একাধিকবার তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৫৬২ সালে রাও মালদেওর মৃত্যুর পর তার কনিষ্ঠ পুত্র রাওচন্দ্র সেন সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যান। কিন্তু আপন ভাইয়েরা তাকে সমর্থন করেননি। উদয় সিং ৮০ হাজার সৈন্য নিজের অধীনে থাকা সত্ত্বেও লড়াই করেননি, বরং মোগলদের সমর্থন দেন (ইনি কি রাজপুতদের মীর জাফর?) পরে রাওচন্দ্রের মৃত্যু হলে মোগলরাই উল্টো মারওয়ার দখল করে নেয়। পরে তাদের সঙ্গে সন্ধি করে উদয় সিং মারওয়ারের রাজা হন মোগলদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। মোগল দরবারের সঙ্গে মোটা রাজা সম্পর্কটা দহরম-মহরমেরই ছিল, কাজেই কন্যা মানমতিকে সম্রাট আকবরের পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে তিনি দ্বিধা করেননি। উল্টো বিয়েটা দ্রুত হোক, তা খুব করেই চাইছিলেন। মোগল শাহজাদার সঙ্গে রাজপুত-কন্যার বিয়ে আবার মেনে নিতে পারেননি রাজস্থানের রাঠোর গোত্রের নেতা কল্যাণদাস রাঠোর। তার কাছে এটা ছিল রাজপুত-অস্মিতায় মোগলদের নির্মম আঘাত। এজন্য তিনি একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর উদয় সিংকে খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে কল্যাণদাস উদয় সিংয়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করতে গিয়ে নিহত হন। আবার স্থানীয় ইতিহাসের কোনো কোনো সূত্র বলে, স্বয়ং আকবরের নির্দেশেই (তিনি সম্ভবত পুত্রকে খুনের হুমকি দেয়ায় ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন) নাকি উদয় সিং কল্যাণদাসকে খুন করেন।


যা হোক, ১৬ বছরের যুবরাজ সেলিমের সঙ্গে ১৩ বছরের মানমতির বিয়ে হলো ১৫৮৬ সালে। উল্লেখ্য, এটা ছিল সেলিম তথা জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়েটা হয়েছিল ভারি জাঁকজমকের সঙ্গে, প্রচুর খরচাপাতি করে। একই সঙ্গে হিন্দু মুসলিম রীতিতে বিবাহ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাকে বাঁধা পড়া, পুরোহিতদের সংস্কৃত মন্ত্রপাঠ যেমন হয়েছিল তেমনি মুসলিম বিয়ের সবকটি পালনীয় কর্তব্যও সম্পন্ন করা হয়েছিল। মোগল রাজদরবার সেনাবাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিলেন দরবারের প্রধান ইমামও। মোগল হারেমে মানমতিকে ডাকা হতো যোধা বাঈ অর্থাৎ যোধপুর থেকে আসা বোন বলে। হালে বহুল আলোচিত যোধা বাঈ নামটির প্রকৃত উৎস এখন নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। তবে তিনি জগৎ গোসাঁই নামেই মোগল মহলে বেশি পরিচিত ছিলেন। তার আরেক নাম ছিল তাজ বিবি। জাহাঙ্গীরের ঔরসে মানমতির গর্ভে জন্ম নেয়া প্রথম সন্তান ছিল একটি কন্যা, কিন্তু সে জন্মের এক বছরের মাথায় মারা যায়। ১৫৯২ সালে জন্ম নিল তার একমাত্র পুত্রসন্তান, যিনি কিনা পরে প্রেমিক মোগল সম্রাট শাহজাহান হিসেবে বিশ্বজোড়া পরিচিত হবেন। দাদা আকবর তার নাম রাখলেন খুররম, অর্থাৎ হাসিখুশি কিন্তু ভাগ্যের এমনই নির্মম পরিহাস যে একমাত্র পুত্রসন্তানকে তিনি জন্মের পর মাত্র ছয়দিন কাছে পেয়েছিলেন। পরে খুররমকে আকবরের প্রথমা স্ত্রী পাটরানী রুকাইয়া সুলতানা বেগমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। খুররমের উজ্জ্বল স্বাস্থ্য আকবরকে আকর্ষণ করেছিল, নাতিকে তিনি ভবিষ্যৎ মোগল সম্রাট হিসেবে দেখতে চাইছিলেন বলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন। এর নেপথ্যে রাজজ্যোতিষীদের পরামর্শও নাকি কাজ করেছিল, তারা খুররম ভবিষ্যতে সম্রাট হবেন এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আবার আকবরের নিঃসন্তান অথচ ক্ষমতাধর স্ত্রী রুকাইয়ার ইচ্ছা ছিল একটি সন্তান প্রতিপালনের, তা পূরণ করার উদ্দেশ্যেও খুররমকে মানমতির থেকে ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে। আসল ঘটনা যা- হোক না কেন, মনটা পুড়ল শেষমেশ মানমতিরই। একমাত্র পুত্রকে জন্ম দেয়ার ছয়দিনের মাথায়ই কোল থেকে হারাতে হয়েছিল তাকে। মানমতির জীবনের চরম বেদনা ভোলাতে তার শ্বশুরমশাই আকবর পরে যা করেছিলেন তা আবার গরু মেরে জুতা দানের শামিলতিনি মানমতিকে প্রচুর রত্নপাথর উপহার হিসেবে পাঠান। কিন্তু এতে কি সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার দুঃখ ভোলা যায়?

মানমতি এমনিতে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত সুন্দরী ছিলেন। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ উপস্থিত রসবোধের কারণে তিনি জাহাঙ্গীরের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীতে পরিণত হয়েছিলেন। ১৬০৫ সালে জাহাঙ্গীর ময়ূর সিংহাসনে আসীন হওয়ার পরও মানমতির প্রতি তার একচ্ছত্র ভালোবাসা অটুট ছিল। গোলটা বাধলো তখন, যখন জাহাঙ্গীর ১৬১১ সালে মেহেরুন্নিসা বা নূরজাহানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। লেখক সুভদ্রা সেনগুপ্তর ধারণা, মানমতি শুধু জাহাঙ্গীরের মনের প্রথম স্থান থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কায় নয়, অন্য আরো অনেক কারণে নূরজাহানকে অপছন্দ করতেন। রূপ গুণ ছাড়াও মানমতি ছিলেন একজন রাজার কন্যা, পুরোদস্তুর সখীসামন্ত নিয়ে চলা যার অভ্যাস। পারিবারিক পরিচয়ের পুঁজি ছাড়াও নিজের মেধাও তার কম ছিল না। অন্যপক্ষে নূরজাহান নিছক একজন দরবারি আমলার কন্যা, উপরন্তু এক মনসবদারের বিধবা বউও বটেন। এমন অবস্থায় যখন নূরজাহান জাহাঙ্গীরের কাছে গুরুত্ব পেতে পেতে একসময় সম্রাটকেই খানিক মলিন করে দিয়ে মোগল সাম্রাজ্যের পাদপ্রদীপে মূল খেলোয়াড় (তায় আবার প্রতাপশালী) হিসেবে পরিগণিত হতে থাকেন, তখন মানমতির পক্ষে ক্ষুব্ধ হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী বলে যে বইটি প্রচলিত রয়েছে (যদিও এটি আদৌ জাহাঙ্গীরের লেখা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা হয়), তাতেও নূরজাহান আছেন, কিন্তু নেই মানমতির কোনো কথা। শুধু তার মৃত্যুর তথ্যটুকু উল্লিখিত হয়েছে অল্প কয়েক লাইনে।


মানমতি আর নূরজাহানের মধ্যকার রেষারেষি নিয়ে মোগল দরবারে নানা গল্প প্রচলিত ছিল। এগুলো কতখানি সত্য, জানা নেই। কিন্তু তাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব যে কী চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল তা বোঝার জন্য কাহিনীগুলোর পাঠ নেয়া যেতে পারে। একটা বিষয় লক্ষ্যণীয়, মোগল আমলেই ইতিহাস লিখতে বসা দরবারের আনুকূল্যধন্য লেখকেরা নূরজাহানের ওপর ক্ষিপ্ত মানমতির প্রতি সহানুভূতিশীল। নূরজাহান হাতির পিঠে পর্দাঘেরা হাওদায় বসে বন্দুক দিয়ে বাঘ শিকার করতে দক্ষ ছিলেন বলে শোনা যেত, কিন্তু মানমতিও নাকি শিকারি হিসেবে কম যেতেন না। মোগল ঐতিহাসিক কাফি খান তার মুনতাখাব-আল লুবাব গ্রন্থে মানমতি শিকারে কতটা দড় ছিলেন তার একটা বিবরণ দিয়েছেন। একদিন নূরজাহান মানমতি একসঙ্গে জাহাঙ্গীরের শিকার দলের সহযাত্রী হয়ে জঙ্গল অভিযানে গিয়েছিলেন। এমন সময় তাদের সামনে হঠাৎ একটা বড়সড় সিংহ এসে পড়ে। সিংহের মুখোমুখি হয়ে নূরজাহান তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় স্তব্ধ হয়ে পড়েন, ঠিক সেই সময়ই মানমতি একটা বন্দুক হাতে তুলে নেন। তারপর সোজা গুলি করেন সিংহের বুকে। জাহাঙ্গীর তখন ঘুমিয়ে ছিলেন, গুলির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর সব ঘটনা জেনে তিনি মানমতির সাহসের খুব প্রশংসা করেন। কাফি খানের বর্ণনা করা ঘটনা আদৌ সত্যি নাকি নেহাতই গুলগপ্পোর বেনেজলে মেশানো কাহিনী, তা নির্ণয় করা কঠিন। তবে মোগল ঐতিহাসিকদের মানমতির প্রতি পক্ষপাতের নমুনা হিসেবে কাহিনীটি পাঠ করা যেতেই পারে।

ইতিহাস লেখক রাজিয়া সুজাউদ্দিন মুহাম্মদ সুজাউদ্দিন নূরজাহান মানমতির মধ্যকার ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ের আরো দুটি কাহিনী জানিয়েছেন। একদিন নূরজাহান মানমতির সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলাপ করছিলেন। সেদিন মানমতির পরনে ছিল রঙিন পোশাক, আর নূরজাহান পরেছিলেন সাদা। মানমতির রঙিন পোশাক দেখে তখনই নূরজাহান তাকে কটাক্ষ করে বলে ওঠেন, বাকি সবসময়ের মতো এই গেঁয়ো হিন্দু রমণীটি আজো রঙচঙে পোশাক পরেছে, তুলনায় অধিক অভিজাত বা সুন্দর রঙগুলোর বদলে! কটূক্তির ইটের বদলে বিদ্রূপের পাটকেল ছুড়তে মানমতি বিশেষ সময় নেননি। তার চটজলদি জবাব নাকি ছিল এমন: বিবাহিত মহিলারা তো সবসময় উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরবেই, যেমন বিধবারা সর্বদা সাদা কাপড় পরিধান করে। মানমতির উত্তরের ইঙ্গিতটা ছিল নূরজাহানের প্রথম বিয়ে এবং সেই সংসারে তার বিধবা হওয়ার প্রসঙ্গটির দিকে। আরেকদিন আবার নূরজাহান মানমতিকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, সম্রাট জাহাঙ্গীরের শ্বাস-প্রশ্বাসের গন্ধ ভারি মিষ্টি। কথা তিনি নাকি খোদ সম্রাটকেও বলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মানমতি এই উচ্ছলতার বিপরীতে ঠেস দিয়ে উল্টো বলেন, যে নারী একাধিক পুরুষের কাছে গিয়েছে সে- তো কেবল বলতে পারে কোন পুরুষের শ্বাসের গন্ধ কেমনমিঠা না খাট্টা! আর জাহাঙ্গীর দিনে কত পেয়ালা সুরা পান যে করেন, তার তো কোনো ইয়ত্তা নেই। কাজেই ওই গন্ধ জাহাঙ্গীরের মুখনিঃসৃত নাকি সবিশেষ দ্রব্যগুণে জারিত, তা- বা কে জানে! হয়তো এসব নিছক গল্পই, কিন্তু যা রটে তা কিছুটা তো বটে তত্ত্ব অনুযায়ী জাহাঙ্গীরের ওপর আধিপত্য বিস্তার আর ব্যক্তিত্বের সংঘর্ষে মানমতি নূরজাহানের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক যে ছিল, তা হলফ করেই বলা যায়।

দুঃখের বিষয়, পুত্র খুররমকে সম্রাট শাহজাহান হিসেবে মোগল মসনদে বসতে দেখার সৌভাগ্য হয়নি মানমতির। ১৬১৯ সালের ১৮ এপ্রিল আগ্রায় মারা যান তিনি। স্বামী জাহাঙ্গীর জীবদ্দশায় এক পর্যায়ে তাকে অবহেলা করলেও মৃত্যুর পর তাকে বিলকিস মাকানি (প্রকৃত গৃহবাসিনী বা খাঁটি গৃহিণী) আখ্যা দেন। জাহাঙ্গীরের কথিত আত্মজীবনীতে মানমতির মৃত্যু নিয়ে মাত্র একটি লাইন রয়েছে, সে আল্লাহর করুণা অর্জন করেছে মানবতির মৃত্যু-পরবর্তী রাজদরবারের সব দাপ্তরিক কাগজপত্রে যেন নামটিই লেখা হয়, এমন নির্দেশও তিনি দেন। তাকে আগ্রার বাগ- মুজাফফর খান এলাকায় যথাযথ মর্যাদাসহকারে সমাহিত করা হয়। সপ্রচুর কারুকার্যখচিত তার সমাধিস্থলে বড় তোরণ, একাধিক প্রবেশদ্বার মিনার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানি আমলে ইংরেজরা ১৮৩২ সালে মূল্যবান পাথর ইট পাওয়ার আশায় পুরো সমাধি প্রাঙ্গণটিই বারুদ দিয়ে উড়িয়ে দেয়। জীবদ্দশায় উপেক্ষিতা রাজমাতার সমাধিও স্থায়িত্ব পেল না!

 

তথ্যসূত্র:

মহল: পাওয়ার অ্যান্ড প্যাজেন্ট্রি ইন দ্য মোগল হারেমসুভদ্র সেনগুপ্ত (হ্যাচেট, ২০১৯)

শাহজাহান: দ্য রাইজ অ্যান ফল অব দ্য মোগল এম্পেররফার্গুস নিকোল (ভাইকিং, ২০০৯)

প্রিন্সেস অব মোগল এম্পায়ার: ১৫০৪-১৭১৯মুনিস ডি ফারুকি (কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০১৫)

 

মুহিত হাসান: নন-ফিকশন লেখক