রবিবার| এপ্রিল ০৫, ২০২০| ২০চৈত্র১৪২৬

সংকেত

কমিশনের পদক্ষেপে ডিএসইতে ক্ষত কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে বড় পতনের মধ্য দিয়ে দেশের শেয়ারবাজারে আরেকটি সপ্তাহ শেষ হলো। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ কমল শেয়ার সূচক। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূচক কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। সূচকের পাশাপাশি উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেনও কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে চার কার্যদিবসে। এর মধ্যে তিন কার্যদিবসেই সূচকে বড় পতন হয়েছে। তবে শেষ কার্যদিবসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক নির্দেশনায় বড় উত্থান হয় শেয়ারবাজারে। গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স হারায় ১৬০ পয়েন্ট। ৪ হাজার ১২৯ পয়েন্ট নিয়ে রোববার লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিন শেষে ছিল ৩ হাজার ৯৬৯ পয়েন্টে। এর পরের কার্যদিবসে সোমবার ডিএসইএক্স ১৯৭ পয়েন্ট কমে ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। এদিন লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৩ হাজার ৭৭২ পয়েন্টে। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় সেদিন লেনদেন বন্ধ ছিল। পতনের ধারা অব্যাহত রেখে বুধবার ডিএসইএক্স ১৬৯ পয়েন্টে কমে ২০১৩ সালের ৯ মে পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে।

তবে শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইর সূচকে বড় উত্থান হয়। ওইদিন সরকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডে শেয়ারদরের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকারে নিম্নসীমা নির্ধারণ করে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু করতে বিলম্ব হয়। সেদিন মাত্র আধা ঘণ্টা লেনদেন হয়। তাতেই ডিএসইএক্স বাড়ে ১০ শতাংশের বেশি। ওইদিন ৩৭১ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়ায় ৩ হাজার ৯৭৪ পয়েন্টে। তবে এদিনের বড় উত্থান আগের তিন কার্যদিবসের মোট পতনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ফলে সার্বিকভাবে এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স কমেছে ১৫৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০ গত সপ্তাহে ৫৫ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে। অন্যদিকে চার কার্যদিবসে ৩৮ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ কমেছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৯১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯৫৭ পয়েন্ট। আর চলতি বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করা নতুন সূচক সিডিএসইটি বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে অবস্থান করছে ৭৮৫ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৮১৫ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। চার কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৬০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ৪৫টির, কমেছে ৩০৪টির, অপরিবর্তিত ছিল নয়টির আর লেনদেন হয়নি দুটির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১২ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। ১০ শতাংশ দখলে নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। এছাড়া ব্যাংক খাতের দখলে ৯ শতাংশ আর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দখলে মোট লেনদেনের ৮ শতাংশ ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বিএটিবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, বেক্সিমকো লিমিটেড ও সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। দরবৃদ্ধিতে (সমাপনী দরের ভিত্তিতে) শীর্ষে ছিল মুন্নু সিরামিক, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, এফএএস ফিন্যান্স, ‘রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএসআরএম লিমিটেড, বাটা সু ও সাউথইস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতে গত সপ্তাহে সিএসসিএক্স ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ৯১৫ পয়েন্ট কমে বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৬ হাজার ৭৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৭ হাজার ৬৬১ পয়েন্ট।

সিএসইতে চার কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩২ কোটি ২১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে আটটির, কমেছে ২৮২টির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটির বাজারদর।