সোমবার | জানুয়ারি ২৫, ২০২১ | ১২ মাঘ ১৪২৭

সংকেত

বাজার মূলধনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্টক এক্সচেঞ্জ

মেহেদী হাসান রাহাত

গ্লোবাল ইকোনমি ডটকমের পরিসংখ্যান অনুসারে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৮তম। গত বছর দেশের পুঁজিবাজারে অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। এ সময় সূচক ও বাজার মূলধনে ব্যাপক পতন হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান আরো অবনমন হবে ১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টক এক্সচেঞ্জ আমস্টারডাম স্টক এক্সচেঞ্জের যাত্রা হয়। এরপর গত কয়েক শতকে বিশ্বব্যাপী স্টক এক্সচেঞ্জের প্রসার ঘটেছে। স্টক এক্সচেঞ্জ মানেই পুঁজিপতিদের কারবার। এ কারণেই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জগুলো শীর্ষস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে ২০০ বছরের পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি মাত্র ১৮ বছরের স্টক এক্সচেঞ্জও রয়েছে।

বিশ্বের স্টক, ফিউচারস ও অপশন এক্সচেঞ্জগুলোর ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেস (ডব্লিউএফই) সংস্থাটি বর্তমানে বিশ্বের ২৫০টির বেশি স্টক, ফিউচার ও অপশন স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি (সিসিপি)—যেগুলো কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের অংশ নয়, সেগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছে। ডব্লিউএফইর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, বাজার মূলধনের আকার বিবেচনায় বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ হচ্ছে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (এনওয়াইএসই) ১৭৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ওয়াল স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন বর্তমানে ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৭৭ কোটি ডলার। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের কল্যাণে ওয়াল স্ট্রিট যেন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানায় রয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জ, যেটি এনওয়াইএসইতে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ২ হাজার ৩৫৬। নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০, এনওয়াইএসই কম্পোজিট সূচকসহ আরো বেশকিছু সূচক রয়েছে। তাছাড়া এক্সচেঞ্জটিতে ফিউচারস, অপশন, ডেরিভেটিভস, বন্ড, কমোডিটিজসহ বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য রয়েছে।

বাজার মূলধনের আকার বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আরেক স্টক এক্সচেঞ্জ নাসডাক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধনের পরিমাণ ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩৫ কোটি ডলার। এক্সচেঞ্জটির মালিকানায় রয়েছে নাসডাক ইনকরপোরেশন। এটির অধীন আর্মেনিয়ান স্টক এক্সচেঞ্জ, কোপেনহেগেন স্টক এক্সচেঞ্জ, হেলসিংকি স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসল্যান্ড স্টক এক্সচেঞ্জসহ ইউরোপের আটটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক্সচেঞ্জটিতে বর্তমানে ৩ হাজার ১০৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান এক্সচেঞ্জ গ্রুপ। এর বাজার মূলধনের পরিমাণ ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার। টোকিওতে অবস্থিত এক্সচেঞ্জটির মালিকানায় রয়েছে নিপ্পন তোরিহিকিজো গ্রুপ। গ্রুপটির মালিকানায় টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ, ওসাকা স্টক এক্সচেঞ্জসহ আরো বেশকিছু এক্সচেঞ্জ রয়েছে। ২০১৩ সালে দুই প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জটি গঠন করা হয়। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩ হাজার ৬৯০।

শীর্ষস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এর বাজার মূলধন ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৮৪ কোটি ডলার। ১৯০৪ সালে সাংহাই শেয়ারব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন এক্সচেঞ্জটি প্রতিষ্ঠা করে।  ১৯৯০ সালে এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক এসএসই কম্পোজিট, এসএসই ৫০ ও এসএসই ১৮০। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ১ হাজার ৫৭২।


৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৩ কোটি ডলার বাজার মূলধন নিয়ে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ হংকং স্টক এক্সচেঞ্জেস। এটি এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ। ১৮৯১ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৪ সালে এটি দ্য হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ নামকরণ করা হয়। এক্সচেঞ্জটিতে বর্তমানে ২ হাজার ৪৪৯টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর প্রধান সূচক হচ্ছে হ্যাং সেং।

শীর্ষস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইউরোনেক্সটের বাজার মূলধন ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩১৩ কোটি ডলার। ২০০০ সালে আমস্টারডাম, প্যারিস ও ব্রাসেলস স্টক এক্সচেঞ্জকে একীভূতকরণের মাধ্যমে ইউরোনেক্সট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান কার্যালয় ফ্রান্সের প্যারিসে। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটি আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, লন্ডন, লিসবন, ডাবলিন, অসলো ও প্যারিসের বাজার পরিচালনা করছে। এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পাানির সংখ্যা ১ হাজার ২২৯।

১৮০১ সাাল প্রতিষ্ঠিত লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের বর্তমানে বাজার মূলধন ৪ লাখ ১৮ হাজার ২৮৭ কোটি ডলার। এটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের মালিকানায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ, বোর্সা ইতালিয়ানা, এলএসইজি টেকনোলজি, রাসেল ইনডেক্স, এফটিএসই ইন্টারন্যাশনাল এবং এলসিএইচ ও এমটিএসের মেজরিটি শেয়ার রয়েছে। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে ২ হাজার ৪১০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ বাজার মূলধনের দিক দিয়ে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ। বর্তমানে এর বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৬ কোটি ডলার। ১৯৯০ সালে এক্সচেঞ্জটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এক্সচেঞ্জটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ২ হাজার ২০৫। শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের উল্লেখযোগ্য বেশকিছু সূচক হচ্ছে এসজেডএসই ১০০, এসজেডএসই ২০০, এসজেডএসই ৩০০, এসজেডএসই কম্পোনেন্ট, এসজেডএসই ৭০০, এসজেডএসই ১০০০ এবং এসজেডএসই কম্পোজিট।

কানাডার টিএমএক্স গ্রুপের বাজার মূলধন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার। এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে। টিএমএক্সের অধীন টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জ, টিএসএক্স ভেঞ্চার এক্সচেঞ্জ, মন্ট্রিল এক্সচেঞ্জ, এনএক্সজি ও টিএসএক্স আলফা এক্সচেঞ্জ রয়েছে। ২০০৮ সালে একীভূতকরণের মাধ্যমে টিএমএক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। অবশ্য এর অধীনে থাকা টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬১ সালে। বর্তমানে টিএসএক্সে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩ হাজার ৪১৩টি।

২ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৮ কোটি ডলার বাজার মূলধন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় দশম অবস্থানে রয়েছে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, বর্তমানে যা বিএসই লিমিটেড নামে পরিচিত। ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জ। এক্সচেঞ্জটির অন্যতম সূচক হচ্ছে বিএসই সেনসেক্স, এসঅ্যান্ডপি বিএসই স্মল ক্যাপ, এসঅ্যান্ডপি বিএসই মিড ক্যাপ, এসঅ্যান্ডপি বিএসই লার্জ ক্যাপ এবং বিএসই ৫০০। বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে ৫ হাজার ৫১২টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বয়স বিবেচনায় বিশ্বের অন্যান্য স্টক এক্সচেঞ্জের তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার সাংহাই ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইর পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় রয়েছে। ডিএসইর বাজার মূলধন বর্তমানে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা এবং মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ ৩ হাজার ৮১৮ কোটি ডলার। গ্লোবাল ইকোনমি ডটকমের পরিসংখ্যান অনুসারে বাজার মূলধনের দিক দিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৮তম স্থানে। গত বছর দেশের পুঁজিবাজারে অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। এ সময় সূচক ও বাজার মূলধনে ব্যাপক পতন হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান আরো অবনমন হবে।

 

উইকিপিডিয়া, ইনভেস্টোপিডিয়া ও ডব্লিউএফই অবলম্বনে