বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সংকেত

সূচকে চাঙ্গা ভাবে নতুন বছর শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঙ্গা ভাবের মধ্য দিয়েই নতুন বছর শুরু করল দেশের পুঁজিবাজার। আগের চার সপ্তাহ টানা কমেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ডিএসইএক্স ও লেনদেন। তবে গত সপ্তাহের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সর্বশেষ সপ্তাহে ডিএসইএক্স ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে। সূচক বেড়েছে দেশের আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির মূল সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে। তবে এ সময়ে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমতে দেখা গেছে।

দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে গত সপ্তাহে সব কার্যদিবসেই ডিএসইএক্স বেড়েছে। রোববার সূচকটিতে যোগ হয় ১৫ পয়েন্ট। ৪ হাজার ৪১৮ পয়েন্ট নিয়ে রোববার লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স দিন শেষে ছিল ৪ হাজার ৪৩৩ পয়েন্টে। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এ সূচক বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৫৯ পয়েন্ট। এক সপ্তাহে ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৪১ পয়েন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে থাকায় মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল।

ডিএসইএক্স বাড়লেও গত সপ্তাহে ২ পয়েন্ট হারিয়েছে ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০। দশমিক ১৯ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষে ১ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৫০৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে চার কার্যদিবসে প্রায় ১৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ১ হাজার ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯৯৪ পয়েন্ট।

চলতি বছরের প্রথম দিনে ডিএসইতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা হয়েছে নতুন সূচক সিডিএসইটির। ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের সাবসিডিয়ারি শেনজেন সিকিউরিটিজ ইনফরমেশন কোম্পানির সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতার অংশ হিসেবে বড়, মাঝারি ও ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোকে নিয়ে তিনটি আলাদা সূচক চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই, তার প্রথম পর্যায়ে বড় মূলধনি ৪০টি কোম্পানি নিয়ে সিএনআই-ডিএসই নির্বাচিত সূচকটি চালু করা হয়েছে। প্রথম দিন চালুর পর থেকেই সূচকটি ছিল নিম্নমুখী। বুধবার সিডিএসইটি ৮৯৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট থেকে কমে দিনের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ৮৯৫ দশমিক ১৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ লেনদেনের প্রথম দিন সূচকটি পয়েন্ট হারায় ৪ দশমিক ৬১। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সূচকটি অবস্থান করছে ৮৯৫ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৬৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চার কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩০২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৭৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মোট লেনদেন ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৫৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ২৩২টির, কমেছে ৮৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গেল সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় ব্যাংক খাত। এছাড়া ১২ শতাংশ দখলে নিয়ে বস্ত্র খাত তৃতীয়, ১১ শতাংশ নিয়ে ওষুধ ও রসায়ন খাত চতুর্থ এবং ৯ শতাংশ নিয়ে সাধারণ বীমা খাত পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহেও ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ সিকিউরিটিজ ছিল খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া লেনদেনে শীর্ষে ছিল যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড, সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সমাপনী দরের ভিত্তিতে ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল যথাক্রমে ওইমেক্স ইলেকট্রোড লিমিটেড, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড, এমএল ডায়িং লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিডিকম অনলাইন লিমিটেড ও ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সিএসসিএক্স দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ২০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ১৬৩ পয়েন্ট। একইভাবে নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৪৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১ হাজার ৩৫২ পয়েন্ট।

সিএসইতে চার কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৭টির, কমেছে ৮০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির।