বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ষষ্ঠবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ‘প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৯’। ২০১২ সাল থেকে বণিক বার্তা ও দেশের প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করে আসছে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা

গতানুগতিক কার্যক্রমের বাইরে, স্ব-উদ্যোগী, উদীয়মান-সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা, যাদের উদ্যোগ-কার্যক্রম এখনো সবার কাছে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। অথচ তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন নিয়মিতভাবে। যারা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন নতুনভাবে। যাদের সফলতার পেছনে রয়েছে পরিশ্রম-প্রচেষ্টা-সংকল্প-সংগ্রাম-ত্যাগসহ নানা গল্প। যাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এক একটি গল্পের মতো। যা সামগ্রিক। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। আমরা তাদের হাতে তুলে দিয়ে থাকি প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা স্মারক।

আয়োজক

আপনারা জানেন, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বণিক বার্তা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অর্থনীতিসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে উপস্থাপন করে আসছে; ভূমিকা রাখছে সমৃদ্ধির সহযাত্রী হিসেবে। আমাদের এ উদ্যোগে শুধু নগরকেন্দ্রিকতা স্থান পায়নি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজে পালাবদলের যে আখ্যান চলছে, তারও যথাযথ উপস্থাপনে আমরা মনোযোগী।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) প্রকাশিত সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী বণিক বার্তার প্রচার সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার এবং অনলাইন পাঠক সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাফল্যের সঙ্গে সপ্তম বছর অতিক্রম করে অষ্টম বছরে পদার্পণ করেছে বণিক বার্তা।

কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সম্মাননায় ভূষিত করে আসছে। বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে বিশ্বাসযোগ্য গবেষণার জন্য একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এরই মধ্যে সুপরিচিত বিআইডিএস। এমনকি সরকারি নীতি-নির্ধারণেও বিআইডিএসের বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সক্রিয় থাকে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আমরা চাই, সেসব প্রতিভাবান উদ্যোক্তাকে সম্মান-স্বীকৃতি দিতে। মূলধারার ব্যবসায় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তাদের একটি সংযোগ ঘটাতে। তাদের কাজ, তাদের প্রতিভা, তাদের উদ্যোগকে সবার সামনে মেলে ধরতে। উদীয়মান উদ্যোক্তাদের প্রেরণার গল্প, তাদের অবদানের চিত্রগুলো সবার সামনে নিয়ে আসতে চাই। এর মাধ্যমে তারা তাদের উদ্যোগ-কার্যক্রম বড় পরিসরে পরিচালনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তারা আমাদের অর্থনীতিতে ও কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। আমরা চাই, কোনো প্রতিভাবান উদ্যোক্তা যেন হারিয়ে না যান। তাদের প্রচেষ্টা-অবদান-পরিশ্রমের পাশাপাশি আমাদের এ সম্মাননা তাদের সামনে চলার প্রেরণা জোগাবে। নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি পাবেন।

বাছাই প্রক্রিয়া

  • উদ্ভাবনী কার্যক্রম
  • নিজস্ব প্রচেষ্টা
  • কর্মসংস্থানের সুযোগ (প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে)
  • বণ্টন প্রণালি
  • বাজার তৈরি ও সম্প্রসারণ
  • রপ্তানি বা স্থানীয় বিক্রির পরিমাণ
  • সমাজের ওপর প্রভাব
  • অর্থনীতিতে প্রভাব
  • ব্যবসার সময়কাল

আবেদনপত্র পাঠানোর সময়

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৯-এর জন্য আবেদন করা যাবে ২০ মার্চ ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

উদ্যোগটি অবশ্যই সফল-নতুন-উদ্ভাবনীমূলক এবং কমপক্ষে তিন বছর সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হতে হবে। একজন উদ্যোক্তার একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক উদ্যোক্তা আবেদন করতে পারবেন। অধিক আবেদনকে বণিক বার্তা ও বিআইডিএস সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আবেদন ফরমটি বণিক বার্তার ওয়েবসাইট www.bonikbarta.com ও বিআইডিএসের ওয়েবসাইট www.bids.org.bd থেকে ডাউনলোডপূর্বক প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া আবেদনপত্রের ফটোকপি ব্যবহার করেও আবেদন করা যাবে।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৮

আফরোজা বেগম

খান’স কিচেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক


কর্মজীবী মানুষের মাঝে সময়মতো স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ফুড গ্রেড বক্স সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করে খান’স কিচেন। খান’স কিচেনে ভাত, সবজি, মাছ, মাংসসহ সব ধরনের খাবার তৈরি হয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে। রাজধানীর বেরাইদে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে কিচেনটি। মানুষকে উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে খান’স কিচেন।

মালিহা মেহের কাদিরী

সহজডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক


ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে বাস ও লঞ্চের টিকিট কেনার সুবিধা দিতে ২০১৪ সালে যাত্রা করে সহজডটকম। বর্তমানে বাস-লঞ্চের টিকিটের পাশাপাশি সিনেমা ও বিভিন্ন ইভেন্ট এবং ক্রিকেট ম্যাচের টিকিটও অনলাইনে কেনার সুবিধা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েবসাইট, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, পার্টনার নেটওয়ার্ক ও কল সেন্টারের মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট কেনার সুবিধা দিচ্ছে সহজডটকম।

মো. ফারুক হোসেনী

মদিনা মেটালের স্বত্বাধিকারী


মোটরসাইকেলের বিভিন্ন পার্টস আমদানি করতে গিয়ে দেশেই সেসব পার্টস উত্পাদনের চিন্তাভাবনা শুরু করেন তিনি। এ ভাবনা থেকেই ২০১০ সালে যশোরের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। আনুষ্ঠানিক উত্পাদন শুরু হয় ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তার কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫০ জনের।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৬

মো. আখতার হোসেন

প্রতিষ্ঠাতা মেসার্স এনায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এন্ড ফাউন্ড্রী


দেশীয় কাঁচামালে যানবাহনের ব্রেক ড্রাম বানানো শুরু করে বর্তমানে ৩০-৩৫ টি আইটেম সারা দেশে সরবরাহ করেন। ছোট একটি লেদ মেশিন থেকে উদ্যোগকে বিকশিত করেছেন গোটা দেশের মোটর পার্টস যোগানদান প্রতিষ্ঠানে।

মো. আনোয়ার উদ্দিন হোসাইনী

উদ্যোক্তা , এইমকো ফুটওয়্যার লিমিটেড


মাত্র দুই দশকে ডুবে যাওয়া এক লোকসানী প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ রফতানি মুখী শিল্প কারখানায় বদলে দিয়েছেন মোঃ আনোয়ার উদ্দিন হোসাইনী।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৫

বিপ্লব চাকমা ( মাঝে )

স্বত্বাধিকারী, মেসার্স আশিকা ক্রাফট অ্যান্ড ব্যাম্বো ফার্নিচার


২০০৮ সালে বিপ্লব চাকমা আশিকা ক্র্যাফট এন্ড ব্যাম্বো ফার্নিচার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার উৎপাদিত বাঁশের আসবাব দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা করেন।

মো. আবুল মিয়া ( বামে )

স্বত্বাধিকারি, মেসার্স আবুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস


দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে , কৃষকদের জন্য দেশীয় প্রযুক্তির কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছেন।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১৪

গোষ্ট চন্দ্র পাল

স্বত্বাধিকারী, মেসার্স কলারোয়া ক্লে টাইলস, সাতক্ষীরা


গোষ্ট চন্দ্র পালের তৈরী করা মাটির টালি বিদেশের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ মান সংক্রান্ত বলে , বিদেশ থেকে তাকে অর্ডার দেয়া হয়।

একেএম সেলিম

স্বত্বাধিকারী, মেসার্স লিলি কেমিক্যাল কোং


গাড়ির টিউবের লিকেজ ঠিক করতে যে আঠা ব্যবহার করা হয় তার ৮০ ভাগ যোগান দেন একেএম সেলিম এর মেসার্স মিলি কেমিক্যাল কোং।

প্রতিভাবান উদ্যোক্তা সম্মাননা ২০১২

জাহিদুল ইসলাম

প্রতিষ্ঠাতা, আদর্শ কৃষি খামার, ঈশ্বরদী, পাবনা


১৯৮৭ সালে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ১০ বিঘা জমি ইজারা নেয়া জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে গাজর রফতানি করেন রাশিয়ায় , আর তার গরুর সংখ্যা ১১৫ যা প্রতিদিন দুধ দেয় ১০-১২ মণ।

শারফ ইমদাদ

ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সলিউশনস বাংলাদেশ লিমিটেড


দেশীয় টেলিযোগাযোগ ইন্টারনেট , শিক্ষা ও অর্থনৈতিক খাতের প্রতিষ্ঠান গুলোয় অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও রক্ষনাবেক্ষন , অপটিক্যাল ফাইবার সংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানি একমাত্র সরকারি অপটিক্যাল ফাইবার উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

মাহবুবুল মতিন

সিস্টেমস সলিউশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজি লিমিটেড


গ্রহকের চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যার (কাস্টোমাইজড) ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভুত প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সমাধান (ফিন্যান্সিয়াল সলিউশন ) টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রদান।