কমনরুম

ফোর্বস স্বীকৃত উদ্যোক্তা

নাদিম মজিদ | ০০:০০:০০ মিনিট, মার্চ ১২, ২০১৬

শৈশবে ওসামা স্বপ্ন দেখতেন বৈমানিক হবেন। এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান নিয়েও পড়েছিলেন। কিন্তু অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে উচ্চ মাধ্যমিকে গণিত থাকা প্রয়োজন ছিল। তাই বৈমানিক হওয়ার ইচ্ছা মাটি হয়ে যায়। ভর্তি হন আপডেট ডেন্টাল কলেজে। দেশের মানুষের জন্য কিছু করার লক্ষ্যে জাগো ফাউন্ডেশন, ওয়ান ডিগ্রি ইনিশিয়েটিভ, ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ, সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ সোসাইটি, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজ করতে করতে মনে হলো, এমন একটি ফেসবুক পেজ থাকা যেতে পারে, যেখানে তরুণদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা জানানো হবে। ২০১২ সালে ফেসবুকে ইয়ুথ অপরচুনিটিজ পেজ চালু করেন। ওসামা জানান, ‘বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে তরুণদের স্কলারশিপ, কনফারেন্স, অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন খোঁজখবর দেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র মাকসুদুল আলমসহ আমরা এ পেজ চালু করি। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও প্রচুর স্কলারশিপের ঘোষণা থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কিছু স্কলারশিপের ঘোষণা থাকত তখন।’

মানুষ বিষয়টি কি দৃষ্টিতে দেখে, তা জানা ছিল না। ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু অল্প কয়দিনে পেজটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়। পোস্টগুলো প্রচুর শেয়ার হয়। নিজেদের ব্যক্তিগত কোনো লাভের আশা না করেই শুধু তরুণদের তথ্য দেয়ার কথা চিন্তা করে কাজটি তারা চালিয়ে নিয়ে যায়। ২০১৩ সাল শেষে পেজটি ৫০ হাজার লাইক পায়। প্রথম দিকে বাংলাদেশের ছোট ছোট স্কলারশিপের খবর দেয়া হতো। এসবের সুবিধা পেত শুধু বাংলাদেশীরা। কিন্তু পেজে ৫০ হাজার লাইক হওয়ার পর তারা পর্যবেক্ষণ করে, এ পেজে সবচেয়ে বেশি লাইক ভিয়েতনামের, তার পর ইন্দোনেশিয়ার। বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তমে। তার পর পেজটিকে তারা গ্লোবাল করে দেয়। শুধু একটি দেশের জন্য সুযোগ থাকলে তারা সে ঘোষণা দেয়া বন্ধ করে দেয়।

প্রয়োজন দেখা দেয় একটি ওয়েবসাইটের। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই আশরাফুল আমিনের সহযোগিতায় ২০১৪ সালের এপ্রিলে চালু হয় নতুন ওয়েবসাইট ইয়ুথঅপডট কম। ভিজিটর বেশি হওয়ার কারণে সাইট ডাউন হয়ে যায়। কয়দিন পরে নিজস্ব সার্ভারও কিনে দেন আশরাফুল আমিন। ‘ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ। একদিন ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি, ঢুকতে পারছি। আশরাফুল ভাইকে ফোন করলে তিনি জানান, সার্ভারও কেনা হয়ে গেছে। টাকা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। গুগল অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন থাকছে। ভিজিটর এলে টাকাও আসবে।’

ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সম্পর্কে দলের সদস্য মাকসুদুল আলম জানান, ‘www.youthop.com ওয়েবসাইটে কমপিটিশন, কনফারেন্স, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, ফেলোশিপ, ইন্টার্নশিপ, স্কলারশিপ, ওয়ার্কশপ, গ্র্যান্ট অ্যাওয়ার্ড— সব অপশন রয়েছে এখানে। কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলোর পোস্ট নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।’

আর এ ওয়েবসাইটের জন্য মিলেছে ফোর্বস ম্যাগাজিনের স্বীকৃতি। প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে গত  ২৫ ফেব্রুয়ারি ফোর্বস ম্যাগাজিন ওসামাকে স্বীকৃতি দেয়। ওয়েবসাইটটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন নূরকে এশিয়ায় ‘৩০ আন্ডার ৩০’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তালিকায় তার অবস্থান ষষ্ঠ।

ফোর্বস তার সম্পর্কে লিখেছে, ‘তরুণদের বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে ওসামা বিন নূর এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতারা ইয়ুথ অপরচুনিটি নামে একটি বৈশ্বিক প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন। এতে তরুণদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য বৃত্তি, সম্মেলন, প্রতিযোগিতা এবং এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের তথ্য দেয়া হয়। বর্তমানে ১৯২টি দেশের ৯৯ হাজার ব্যবহারকারী এ ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন।’

সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ইয়ুথ অপরচুনিটি নিয়ে ডকুমেন্টারি  তৈরি করছে। চিত্রগ্রহণ ও সাক্ষাত্কার নেয়া হয়ে গেছে।

নিজেদের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের কাজী সুমাইতা নাহার জানান, ‘আমাদের ওয়েবসাইটকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিসকভারি পোর্টাল বানাতে চাই।’