প্রথম পাতা, ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯, , ,

নতুন চ্যাম্পিয়নের অপেক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

দুই যুগের অবসান-খরা কাটতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখেছিল ক্রিকেট। ২৩ বছর পর আবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট। গতকাল এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতকে হারিয়ে আগেই ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। আগামী রোববার লর্ডসে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এ দুই দল। বলাবাহুল্য, ইংলিশদের মতো কিউইরাও আজ অবধি স্বাদ পায়নি বিশ্বকাপ শিরোপার। ইংল্যান্ড ফাইনালে হেরেছে তিনবার। আর নিউজিল্যান্ড ফাইনালে হেরেছে একবার।

ফাইনাল জেতার কোনো রেকর্ড নেই ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের। তবে এবার লর্ডসের ফাইনালে যে-ই জয়ী হোক না কেন, ক্রিকেট যে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাবে এ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তাই আর নেই। ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল শ্রীলংকা। এবার সেই সুযোগ ক্রিকেটের দুই কুলীন দল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের সামনে।

গতকাল এজবাস্টনে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে ন্যূনতম প্রতিরোধটুকু গড়ে তুলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিক বোলারদের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পুরো ৫০ ওভার ব্যাটও করতে পারেনি লিগ পর্বে দুর্দান্ত খেলা অস্ট্রেলিয়া। ৪৯ ওভারে মাত্র ২২৩ রানে গুটিয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। হেসেখেলেই সহজ টার্গেটে পৌঁছেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ১০৭ বল হাতে রেখেই সেমির বাধা পেরিয়েছে ইয়োন মরগানের দল।

জয়ের জন্য ২২৪ রানের টার্গেটের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১৭.২ ওভার থেকে ১২৪ রান তুলে নেন দুজনে। ৪৩ বলের ইনিংসে ৩৪ রান করে আউট হন বেয়ারস্টো। স্বল্প বিরতি দিয়ে বিদায় নেন বিধ্বংসী জেসন রয়। তবে ততক্ষণে ম্যাচ পরিণত হয়েছে আনুষ্ঠানিকতায়। ৬৫ বলের ইনিংসে ৬৫ রান করেন রয়। সাজানো ইনিংসটিতে পাঁচটি ছক্কা ছাড়াও বলকে সীমানা ছাড়া করেন নয়বার। রয় আউট হওয়ার সময় জয় থেকে ইংলিশদের দূরত্ব ছিল মাত্র ৭৭ রানের। নির্ভরতার সঙ্গে ব্যাট করে এ দূরত্ব পাড়ি দেন জো রুট (৪৯*) ও মরগান (৪৫*)।

ইংলিশদের জয়ের ভিত গড়ে দেন দলটির বোলাররা। একটা বড় স্কোর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। কিন্তু শুরু থেকেই ইংলিশ গতির ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। মাত্র ১৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। একে একে সাজঘরমুখো হন এবারের বিশ্বকাপে বোলারদের আতঙ্ক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা ফিঞ্চ (০), ডেভিড ওয়ার্নার (৯)। ধাক্কা সামলানোর আগেই সাজঘরমুখো হন ইনজুরি আক্রান্ত উসমান খাজার জায়গায় সুযোগ পাওয়া পিটার হ্যান্ডসকম্ব (৪)। অধিনায়ক ফিঞ্চের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ধসের সূচনা করেন জোফরা আর্চার। বাকি দুজনকে তুলে নেন ক্রিস ওকস।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ধসে পড়া ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। ১২৭ বলের জুটিতে ১০৩ রান যোগ করেন দুজনে। ৭০ বল খেলে ৪৬ রানে আউট হন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তাকে শিকারে পরিণত করেন লেগ স্পিনার আদিল রশিদ। এরপর লড়াইটা হয়ে ওঠে স্মিথের একার। এক প্রান্ত থেকে তিনি খেলে গেছেন আর অন্য প্রান্তে চলেছে ধ্বংসযজ্ঞ। কিছুটা সঙ্গ পেয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২২) ও মিচেল স্টার্কের (২৯) কাছ থেকে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট ছিল না। স্মিথের দুর্দান্ত ইনিংসটির পতন ঘটে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের মধ্য দিয়ে। ১১৯ বলের ইনিংসে ৮৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। স্মিথের আউট হওয়ার পর মাত্র ৬ রানের মধ্যেই শেষ ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

ইংলিশ বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট নিয়ে সাফল্য দেখান ওকস ও রশিদ। এছাড়া ২টি উইকেট নেন আর্চার।