কুমিল্লায় তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা

গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কুমিল্লা | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

এবার মা ও শিশুসন্তানসহ তিনজনকে নৃশংস কায়দায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল কুমিল্লায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরো পাঁচজন। এ ঘটনার পর গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ঘাতক মোখলেছুর রহমানও। গতকাল সকাল সোয়া ১০টা নাগাদ জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাতক মোখলেছুর রহমান (৩৫) রাধানগর গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে। গতকাল সকালে রিকশা চালিয়ে ১০টা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসার কিছুক্ষণ পর লম্বা একটি ধারালো ছেনি নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ঘর থেকে বেরিয়েই প্রথমে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম, তার স্ত্রী নাজমা বেগম ও মা মাজেদা বেগমের ওপর হামলা চালান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই নাজমা বেগমের মৃত্যু ঘটে। এরপর একই বাড়ির মৃত শাহ আলমের শিশুসন্তান আবু হানিফকে (১০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ সময় হানিফের মা আনোয়ারা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে এলে মোখলেছুর রহমান তাকেও কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর বাড়িতে ও রাস্তায় আরো কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ঘাতক মোখলেছুর রহমান।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত নুরুল ইসলাম, ফাহিমা, রাবেয়া বেগম, মাজেদা বেগম ও জাহানারা বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘাতক মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও ভাবি মরিয়ম আক্তারকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত মোখলেছুর রহমানের স্ত্রী রাবেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তার স্বামী মাদকাসক্ত বা মানসিক রোগী ছিলেন না। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সাধারণত বিকালের দিকে বাড়ি ফিরে আসতেন তিনি। কিন্তু গতকাল সকালেই ফিরে আসেন তিনি। বাড়ি ফেরার পর তিনি হঠাৎ করেই ধারালো ছেনি নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই এলোপাতাড়ি কুপিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, ঘাতক একজন রিকশাচালক। তিনি মাদকাসক্ত বা মানসিক রোগী ছিলেন কিনা, এমন তথ্য জানা নেই।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার বলেন, ঘাতক আট-নয়জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত আমরা ঘাতকসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। হাসপাতালে আরো দুজনের মৃত্যুর গুজব থাকলেও এ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন কেউ মারা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা করা হবে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াৎ হোসেনসহ জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।