স্বাস্থ্যযত্ন

পরিবেশের পক্ষে কথা বলে  অভিজাত যেসব ব্র্যান্ড

ফিচার ডেস্ক | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

কার্বন নির্গমন, বায়ুদূষণ থেকে শুরু করে পানিদূষণ এবং অতিরিক্ত পানি ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়ে পোশাক শিল্প পরিবেশকে দিন দিন বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে বেশকিছু নামি ও অভিজাত ব্র্যান্ড পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করছে পরিবেশের বন্ধু হয়ে

ফ্যাশন, সৌন্দর্য আর আভিজাত্য যখন এক সুতোয় বাঁধা থাকে, তখন কোনোভাবেই যেন বাঁধা যায় না পরিবেশের সুরক্ষা। কেননা পোশাক থেকে শুরু করে অভিজাত ফ্যাশনপণ্য যা-ই বলি না কেন, মোটামুটি সবকিছু তৈরিতেই পরিবেশকে বেশ বড় রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই বলে তো আর পোশাক কিংবা ফ্যাশন পণ্য ছাড়া জীবনযাপন সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবেশ যেভাবে বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে, এখনই সময় এর প্রতি আরো খানিকটা সদয় হওয়া। আর তাই হয়তোবা সুপরিচিত ও অভিজাত ব্র্যান্ডগুলো ভাবছে অন্যভাবে। যাতে পরিবেশের ক্ষতি না করেও পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়। তেমনই তিনটি আন্তর্জাতিক মানের অভিজাত ব্র্যান্ড নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন—

স্টেলা ম্যাককার্টনি

টেকসই, পুনর্ব্যবহূত কাপড় ও তন্তু, প্রাকৃতিক রঙ যাদের মূল উপাদান, তারা যে পরিবেশের কথা ভেবেই এসব ব্যবহার করছেন, সেটা বলাই বাহুল্য। উপাদান থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ সচেতন স্টেলা ম্যাককার্টনি।

শুরুটা ২০০১ সালে, ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা একটি প্রতিবেদনের ‘গ্রিন ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাক’ লাইনটি খুব মনে ধরেছিল বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলের পল ম্যাককার্টনির কন্যা স্টেলা ম্যাককার্টনির। ঠিক সে সময় অবশ্য স্টেলা ভাবছিলেন একটি অভিজাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড চালু করার, যা মূলত হবে সবুজবান্ধব। স্টেলার পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরিই মিলে যায় ফোর্বসের সে শিরোনামটি। ফলে স্থির হলেন এমন কিছুই করবেন, যা সবুজ রক্ষার কথা ক্ষণে ক্ষণে মনে করিয়ে দেবে ফ্যাশনপ্রেমীদের।

এর পরের বছর ব্রিটিশ এ নকশাকার তার ভক্তদের চমকে দেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পোশাক দিয়ে। এমনকি চামড়ার তৈরি কোনো অনুষঙ্গও রাখেননি তার ফ্যাশন লাইনে। বিকল্প তন্তু, উপাদান, পুনরায় ব্যবহূত উপাদান, ইকোনাইল সুতা, সানগ্লাস তৈরিতে জৈব অ্যাসিটেট, জুতার সোলের জন্য জৈব টিপিইউ রাবার এবং পুরনো প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ব্যাগ ইত্যাদি তৈরির ক্ষেত্রে তিনিই পথিকৃৎ। বলা চলে, ফ্যাশন জগতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয় তার হাত ধরে।

অবশ্য ব্যক্তি স্টেলাও পরিবেশবাদী। পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এ তারকা নকশাকার। যিনি ব্যক্তি হিসেবেই পরিবেশের বন্ধু হয়ে কাজ করেন, তিনি যে তার কাজের ক্ষেত্রটিতেও একই পথ অবলম্বন করবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।

ভিক্টর অ্যান্ড রোলফ

পুনর্ব্যবহূত কাপড়, তন্তু, পরিবেশবান্ধব নকশা, এমনকি কাজের ক্ষেত্রটিতে নীতি মেনে চলা প্রতিষ্ঠান ভিক্টর অ্যান্ড রোলফ। ভিক্টর হর্সটিং ও রোলফ স্নোয়েরেন—এ দুই ডাচ নকশাকার মিলে দেখিয়েছেন পোশাক শিল্প হয়ে উঠতে পারে টেকসই। শুধু পুরনো কাপড় দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন পুরো বিষয়টি। তাদের সংগ্রহে থাকা পুরনো সব পোশাককে নতুনভাবে তৈরি করে বিক্রি উপযোগী করে তুলেছেন।

তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্বের নামকরা সব পোশাক নকশাকারও। বলা যায়, এ দুই নকশাকার ফ্যাশন জগতের প্রচলিত ধারণা থেকে সবাইকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন ভালোভাবেই। কেননা পুরনো কাপড় থেকে নতুন কিছু হতে পারে, এখন এটা বেশ সাধারণ ভাবনাই হয়ে উঠেছে।

পুরনো কাপড়ে কীভাবে প্রাণ নিয়ে আসতে হয়, সেটাই যেন দেখাতে চেয়েছিলেন এ ফ্যাশন এক্সপার্টদ্বয়। টেকসই উন্নয়নের কথা ভেবেই তারা লোককে পুরনো কাপড়ে তৈরি নতুন পোশাকের বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছেন।

সালভাতোর ফেরাগামো

প্রাকৃতিক তন্তু, ন্যায্যমূল্য, শক্তি সংরক্ষণ, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা—এসব বিষয়ে বেশ সচেতন ফ্যাশন ব্র্যান্ড সালভাতোর ফেরাগামো। ২০১৪ সাল থেকে ইতালিয়ান অভিজাত ব্র্যান্ড হিসেবে ফ্যাশনপ্রেমীদের মনে ভালোভাবেই স্থান গড়ে নিয়েছে এ ফ্যাশন ব্র্যান্ড।

ফেরাগামোর সবচেয়ে চমত্কার বিষয়টি নিয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে এটির তন্তু নির্বাচনের বিষয়টি খুলে বলতে হবে। মূলত ফলের খোসা থেকে, ফেলে দেয়া অংশ ইত্যাদি থেকে এক ধরনের তন্তু তৈরি করা হয়; যা পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

শুধু এটিই নয়, এছাড়া আরো অনেক পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করে তারা ফ্যাশনেবল বিভিন্ন পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে। শুধু টেকসই উন্নয়ন আর পরিবেশ সংরক্ষণের কথা ভেবেই পাঁচ বছর ধরে ফ্যাশন জগতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ব্র্যান্ডটি। পরিবেশবাদী যে কারো কাছেই তাই ভরসা রাখার মতো ফ্যাশন ব্র্যান্ডের নাম সালভাতোর ফেরাগামো।

 

সূত্র: লাক্সারি লঞ্চেস