মেয়ের বাল্যবিয়ে, অভিমানে মায়ের আত্মহত্যা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, রাঙামাটি | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

নাবালিকা মেয়ের সাথে ভাগ্নের বিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি না মেনে নিতে পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন জামেলা বেগম (৩৫) নামের এক মা।  গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, গত বুধবার রাতে গোপনে ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সাথে তারই খালাতো ভাই লাবলা মিয়ার (২২) সাথে বিয়ে দেন পিতা জামাল উদ্দীন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর (জামাল উদ্দীন ও জামেলা বেগম) কলহ চলছিল দু’দিন ধরে।

শুক্রবার সকালে নববধূকে নিয়ে কর্মস্থল ঢাকায় চলে যান লাবলা মিয়া। এরপর দুপুরে জামেলা বেগম ঘরে রাখা ফসলের বিষপান করে অসুস্থ হলে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামেলা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শনিবার সকালে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়।

লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফকরুল ইসলাম বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিষপান করা জামেলা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়িতে রেফার করা হয়। রোগীর স্বজনরা খাগড়াছড়ি না নিয়ে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হলে আবারও আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার মৃত্যু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের উপর ক্ষুব্ধ হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বগাচত্বর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সেন্টু জানান, মেয়ের বাল্যবিয়ে নিয়ে অমত ছিল মা জামেলা বেগমের। এ নিয়ে স্বামী জামাল উদ্দীনের সাথে পারিবারিক কলহের কারণে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

বাল্যবিয়ের সহায়তাকারী স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রঞ্জন কুমার সামন্ত জানান, শনিবার সকালে মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটিতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।