দেশের খবর

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় : লক্ষ্মীপুর থানার ওসি-এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

বণিক বার্তা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি, এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন হারুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তি।

এদিকে প্রাথমিক শুনানি শেষে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের অভিযোগটি নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার আদেশ দেন আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, এসআই ইয়াকুব আলী ও লক্ষ্মীপুর পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১ জুন ব্যবসায়ী আবদুল আজিজের মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদর উপজেলার চরভূতা গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। এ সময় হারুনুর রশিদকে এসআই ইয়াকুব আজিজের ৩ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য বলেন তিনি। ওই টাকা না দিলে হারুন ও তার ছেলেদের ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি করে হাজতে দেয়ার হুমকি দেন এসআই। কিন্তু ব্যবসায়ী আজিজের সঙ্গে হারুনের কোনো লেনদেন নেই। এছাড়া হারুনুর রশীদ আবদুল আজিজকে চেনেনও না। একপর্যায়ে ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে হারুনুর রশিদকে থানা হাজতে রাখা হয় এবং এসআই ইয়াকুব আলী হারুনুর রশিদের ছেলে শাহীনকে ফোন করে ১ লাখ টাকা ও ব্যাংকের চেক নিয়ে থানায় আসতে বলেন। পরে শাহীনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক চেকে ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন এসআই ইয়াকুব।

বাদীর আইনজীবী তছলিম আলম বলেন, মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে ওসিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে নোয়াখালী পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, গত ২৯ মে হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে থানায় অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ। বিষয়টি সমাধান করতে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। এখানে কারো কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় ও বাধ্য করা হয়নি।