আন্তর্জাতিক ব্যবসা

পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ সাড়ে ১০ হাজার কোটি ডলার

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ১২, ২০১৯

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ ও দায় (ইডিএল) ১ হাজার ৬০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১০ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। সোমবার প্রকাশিত দেশটির ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮-১৯’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য ডন।

পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন উৎস থেকে এসেছে বলে ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮-১৯’-তে বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে দেশটির বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ শতাংশ বা প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। বোঝায় যাচ্ছে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগ দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকেই আসে। বলতে গেলে চলতি অর্থবছরে পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে পাওয়া বৈদেশিক ঋণের পুরোটাই চীন থেকে পেয়েছে। দ্বিপক্ষীয় উৎস বাবদ পাকিস্তান কেবল চীন থেকে মোট বৈদেশিক ঋণের ৯৭ শতাংশ বা ৩৮৮ কোটি ডলার পেয়েছে।

এ সমীক্ষার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার একাধারে বৈদেশিক ঋণ নেয়ার পরিবর্তে সম্প্রতি বন্ড কর্মসূচি গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজছে। এটা সম্ভব হলে দেশটিতে বিনিয়োগের ভিত্তি সংহত হবে, ঋণ বাবদ ব্যয় হ্রাস পাবে। বন্ড কর্মসূচি কার্যকর করতে পারলে পাকিস্তান সরকার চুক্তিগুলো ইস্যুকরণ ও ঋণ বাস্তবায়নের মেয়াদের দিক থেকে লাভবান হতে পারবে। এ সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ আরো বলছে, বন্ড কর্মসূচি সফল হলে পাকিস্তান সরকার উন্নয়ন বাবদ রেয়াতসহ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য চেষ্টা করতে পারবে।

এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৩৯০ কোটি ডলার, অথচ গত অর্থবছরের একই সময় বেড়েছিল ৬৭০ কোটি ডলার।

পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং এসবিপির বৈদেশিক মুদ্রাসহ যাবতীয় বৈদেশিক ঋণ দেশটির ইডিএলের আওতাধীন। এডিএলের ঋণ বাবদ শাখাটি পাকিস্তান সরকারের আওতাধীন, যা বৈদেশিক তহবিল সংকোচন ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের লেনদেন তদারকি করে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাকিস্তানের বাণিজ্যিক উৎস তথা বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ইউরোবন্ডস থেকে করা ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বৈদেশিক বাণিজ্যিক উৎস থেকে পাকিস্তান ঋণ করে থাকলেও দেশটির ঋণের বড় অংশটা বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে আসে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে, পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের ৭৮ শতাংশ বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে এসেছে।

এদিকে মার্চ পর্যন্ত হিসাবে পাকিস্তানে মোট বৈদেশিক বাণিজ্যিক ঋণ এসেছে প্রায় ৩১০ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক ঋণটা মূলত পেমেন্টে ভারসাম্য আনার জন্যই করা হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। বহুপক্ষীয় উৎস থেকে শুধু বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো বাবদ পাকিস্তান ঋণ করেছে ১১৫ কোটি ডলার।