আন্তর্জাতিক খবর

পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায়  জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ০০:০০:০০ মিনিট, জুলাই ২০, ২০১৯

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেছেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি যে অঙ্গীকার করেছে, তা তারা বজায় রাখবে। তিনি আরো জানান, সামরিক অভিযান এড়ানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাড়তে থাকা মার্কিন-ইরান উত্তেজনা হ্রাস ও বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা ইরানের পারমাণবিক চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখায় সম্মিলিত ইউরোপীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল তেহরান পৌঁছেছেন মাস। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠক করবেন। খবর রয়টার্স ও ডয়েচে ভেলে।

গতকাল তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাস বলেন, আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে চাই। আমরা যে জাদুর মাধ্যমে সবকিছু ঠিক করে দেব তা নয়, তবে পারমাণবিক চুক্তি যেন ব্যর্থ না হয়ে যায়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করব।

মাস জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ এবং এসব আলোচনা খোলাখুলিভাবে করতে হবে। এ অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। বিদ্যমান উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সামরিক যুদ্ধেরও আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ জানিয়েছেন, বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় ইরান ও জার্মানির মধ্যে খোলাখুলি ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মাসের সঙ্গে আমাদের খোলাখুলি ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি রক্ষার জন্য তেহরান ইইউর চুক্তি স্বাক্ষরকারীদের সহযোগিতা করবে।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেন। এরপর এ চুক্তিটি বাতিলের মুখে পড়েছে। মাস এ চুক্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন।

মাসের সফরের আগে ইরানের সরকার জানিয়েছিল, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই কথার থেকে বেশি কিছু দিতে হবে। জারিফ বলেছিলেন, তিনি জানতে চান, পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় অংশীদাররা ঠিক কী ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে।

মাস বলেন, তিনি আশা করছেন এ বৈঠক উভয় পক্ষকে সহায়তা করবে চুক্তি রক্ষায় গঠনমূলক সমাধান খুঁজতে। তিনি বলেন, এ চুক্তি যেন টিকে থাকে, সেজন্য অবশ্যই ইরানকে আগ্রহী হতে হবে।

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাসে ইরানের ওপর অবরোধ কঠোর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন অবস্থানগুলোয় হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে চারটি তেল ট্যাংকারের হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে তারা। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাক থেকে নিজেদের অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে দেশে ফেরত এনেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্যান্য স্বাক্ষরকারীর সঙ্গে করা চুক্তি অনুসারে মাস চেষ্টা করছেন ইরান যেন পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে না যায়। তেহরানে মাস চেষ্টা করবেন একটি যুক্তিসংগত পরিস্থিতি সৃষ্টির। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য ইরান ৭ জুলাই পর্যন্ত যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তা প্রত্যাহারের।

ইরানে আসার আগে বার্লিনে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে মাসের। পারমাণবিক চুক্তির যে চেষ্টা ইউরোপীয় দেশগুলো করছে, তা ভালো চোখে দেখছে না ওয়াশিংটন। গত আড়াই বছরের মধ্যে এবারই প্রথম জার্মানির কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান সফরে এলেন এবং এটিকে ওয়াশিংটন ভালোভাবে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না।