আন্তর্জাতিক খবর

চার কারণে বাড়ছে এভারেস্টে মৃত্যুর ঘটনা

বিবিসি | ০১:৪৭:০০ মিনিট, মে ২৯, ২০১৯

হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করতে গিয়ে গত দুই দশকে মারা গেছেন প্রতি বছর গড়ে ছয়জন আরোহী। অথচ এ বছর, শুধু বসন্ত মৌসুমেই মৃত্যু হয়েছে ১০ পর্বতারোহীর। এসব মৃত্যুর জন্য এভারেস্টে আরোহীদের ভিড় লেগে যাওয়াকে দায়ী করা হলেও বিবিসির পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক নাভিন সিং খাদকা আরো চারটি কারণের কথা উল্লেখ করছেন:

খারাপ আবহাওয়া: আরোহীদের অনেকেই মে মাসের শুরু থেকে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবের কারণেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে এভারেস্টে আরোহণের বিষয়ে কিছু শঙ্কা ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরের কয়েকদিন হিমালয়ের আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। ঝড়ো বাতাসে কমপক্ষে ২০টি তাঁবু উড়ে যায়। এছাড়া খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বেশ কয়েকজন আরোহী, যারা এরই মধ্যে অনেক উপরের দিকে উঠে গিয়েছিলেন, তারা বেজ ক্যাম্পে নেমে আসেন। কিন্তু এরই মধ্যে বেজ ক্যাম্পে আরোহীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

ভিড় সামলানোর অব্যবস্থাপনা: এবারের এত প্রাণহানির জন্য পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, আরোহীরা যখন পরের সময়টিকে বেছে নেয়, তখনই সেখানে ঝামেলা তৈরি হয়। দিনটি ছিল ২৩ মে। এই একদিনেই সর্বোচ্চসংখ্যক আরোহী চূড়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তখন এতই ভিড় লেগে যায় যে ওঠা ও নামার পথে আরোহীদের চূড়ার নিচের ক্যাম্পে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের অনেকেই ততক্ষণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তাদের সিলিন্ডারের অক্সিজেনও ফুরিয়ে যেতে থাকে।

অনভিজ্ঞ আরোহী: অনভিজ্ঞ আরোহীর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। তাদের সঙ্গে থাকছেন না প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেরপা গাইড। যখন কোনো আরোহী বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তখন একজন শেরপা তাকে খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে না। নতুন আরোহীরা খুব দ্রুত উপরে উঠেই নেমে যেতে চায়। অন্যান্য শিখরে ওঠার সঙ্গে যে এভারেস্টে আরোহণের একটা তফাত আছে সেটা তারা জানে না, যা তাদের বিপদে ফেলে দিচ্ছে।

অভিজ্ঞ আরোহীরা বলছেন, আরোহণের ব্যাপারে এখন কিছু শর্ত আরোপ করার সময় এসেছে। যেমন যাদের ছয় হাজার মিটার উপরে ওঠার অভিজ্ঞতা আছে শুধু তাদেরই এভারেস্টে আরোহণের অনুমতি দিতে হবে।

অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা: এভারেস্টে আরোহণের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন কিছু অপারেটরও। তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। নতুন অপারেটররা আরোহীদের কাছ থেকে কম অর্থ নিচ্ছে। এ প্রতিযোগিতার কারণে পুরনো অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ফি কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এসব সংস্থা অনভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছে গাইড হিসেবে। ফলে খারাপ পরিস্থিতিতে তারা আর আরোহীকে খুব একটা সহযোগিতা করতে পারে না, যা আরোহীদের জীবনকে সংশয়ে ফেলে দিচ্ছে।