খবর

বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ফের উন্মুক্তের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:০২:০০ মিনিট, মে ১৫, ২০১৯

বাংলাদেশীদের জন্য ফের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির সঙ্গে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। ৩০ ও ৩১ মে অনুষ্ঠেয় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গতকাল প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি দাতো সেরি উতামা মহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদমন্ত্রী তান কুলাসেগারানের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের দুটি আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকগুলোয় বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই উন্মুক্ত করে দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছে উভয় পক্ষ। এছাড়া বৈঠকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী তান কুলাসেগারান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার সরকার সবসময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। শিগগিরই বিষয়টি মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ ও ৩১ মে একটি দ্বিপক্ষীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই সভায় শ্রমবাজার প্রসঙ্গে করণীয় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষই মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বিদেশী কর্মীদের হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হওয়াসহ নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ শনিবার থেকে দেশটিতে অবস্থান করছেন। আগামীকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের কথা রয়েছে তার। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রতিমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে গত বছর একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি লোকজনের সংশ্লিষ্টতায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সরকারি খরচের অতিরিক্ত ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এর পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়া চালু করতে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও সংকটের সুরাহা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের গঠিত স্বাধীন কমিটি এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন মন্ত্রণালয়কে। কিন্তু সে সময়সীমাও পার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে গত বছরই মাঠে নেমেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সে অনুসন্ধানও এখন থমকে রয়েছে।

অন্যদিকে সংঘবদ্ধ চক্রটি আবারো এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে সচেষ্ট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।