কমনরুম

গবেষণায় প্রণোদনা ও একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ফিচার প্রতিবেদক | ২১:৫৮:০০ মিনিট, মে ১৩, ২০১৯

সাধারণ অর্থে গবেষণা হলো জ্ঞান অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত। গবেষণাকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট তথ্য লাভের বৈজ্ঞানিক এবং পদ্ধতিগত অনুসন্ধানও বলা যায়। অর্থাৎ গবেষণা হলো বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের একটি শিল্প। উন্নত বিশ্বে গবেষণায় অনেক গুরুত্ব দেয়া হলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে। কৃষি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণায় কিছু সাফল্য থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে একদম পিছিয়ে বাংলাদেশ। এজন্য গবেষণায় অনাগ্রহ এবং অর্থসংকটকে দায়ী করা হয়।

গবেষণাকর্মে গবেষকদের উৎসাহিত করতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ পেপার অ্যাওয়ার্ড। এবারো ২৩টি গবেষণা পেপারকে পুরস্কৃত করা হয়। ১৭ এপ্রিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় পেপার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনাইটেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুদ্দিন হাসান রশিদ। বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড গ্রুপ গবেষণা পুরস্কার মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক ইউজিসি সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহিবুর রহমান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোফিজুর রহমান।

বিজ্ঞান ও প্রকৗশল, চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞান এবং কৃষিবিজ্ঞান এ তিন খাতে নির্বাচিত ২৩টি পেপারকে ইউনাইটেড গ্রুপ গবেষণা পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতি রিসার্চ পেপারের জন্য ১ লাখ টাকা ও একটি সনদপত্র দেয়া হয়। এর আগে ২০১৬ সালে ২২টি পেপারকে ২২ লাখ টাকা পুরস্কার এবং সনদ দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো গবেষণা। গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন জ্ঞানের, যা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অবদান রাখে। বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্ব সমাজে বাংলাদেশকে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করতে উচ্চমানের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিকল্প নেই।

আগামীদিনের সমৃদ্ধ দেশ গড়তে এসব গবেষণাকে এগিয়ে নেয়া খুব জরুরি। কাজটি সহজ হতে পারে একাডেমিক এবং কমার্শিয়াল পরিবেশের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টির মাধ্যমে। সরকারি-বেসরকারি তহবিল হতে পারে এক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি। গবেষণার এ প্রয়াস অব্যাহত থাকলে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে গবেষণালব্ধ ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে নিজস্ব প্রযুক্তির শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, গবেষণা খাতে সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা গবেষকদের আরো আগ্রহী করে তুলবে। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা ও উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৪০টি পেপারকে গবেষণা অ্যাওয়ার্ড দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে ইউনাইটেড গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।