শেষ পাতা

রাবি শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ডে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

বণিক বার্তা প্রতিনিধি রাজশাহী | ০২:১১:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন মামলার অন্য আট আসামি। রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার রায় গতকাল দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম মানিক, আবদুস সামাদ পিন্টু ও সবুজ শেখ। এর মধ্যে সবুজ শেখ বর্তমানে পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের ছেলে সৌমিন শাহরিদ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বলে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক শফিউলকে। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে নগরের মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছিল। আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামের একটি ফেসবুক পেজে এ হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করা হয়েছিল।

অন্যদিকে ওই বছরই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা নাসরিন আখতারের স্বামী আবদুস সামাদসহ ছয়জনকে আটক করে র্যাব। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাসরিন আখতারের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের প্রতিশোধ নিতেই শফিউলকে হত্যা করা হয়। পরে নাসরিন আখতারকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আটকের পর নাসরিন আখতার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর ডিবির তত্কালীন পরিদর্শক রেজাউস সাদিক আবদুস সামাদ ও নাসরিন আখতারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সে সময় তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরেই অধ্যাপক শফিউলকে হত্যা করা হয়েছে। ফেসবুকে আনসার আল ইসলামের দেয়া স্ট্যাটাসের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

এ মামলায় মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ১৩ মার্চ। অন্যদিকে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয় ৪ এপ্রিল।