খবর

প্রাক-বাজেট আলোচনা

বিদেশী বিনিয়োগ ও স্থানীয় উৎপাদনবান্ধব বাজেটের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২:১১:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

দেশে বর্তমানে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে জানিয়ে তাতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে বাজেট প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। করপোরেট কর কমানো ও কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার দাবিও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদনশীল শিল্পকে নীতিসহায়তা দিয়ে বাজেট প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেজা ও বেপজা ছাড়াও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে পবন চৌধুরী বলেন, দেশে বিদেশী বিনিয়োগ আসছে। তবে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের করপোরেট করহার বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নানা অভিযোগ করছেন। বাংলাদেশে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগে আসতে চায়। জাপানের মিত্সুবিশি, সুমিটুবো করপোরেশন, মারিবোসহ অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে বেজার আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের বিষয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশেরও কিছু বড় প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। এ দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো আইনের ফাঁক গলে বৈধ উপায়ে বেতন ও লভ্যাংশ হিসেবে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। এখানে ৪০ শতাংশ করপোরেট কর আর অন্য দেশে যদি তা ১৭ শতাংশ হয়, তাহলে বিনিয়োগ তো সেখানেই যাবে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে মনোযোগ দিতে হবে। প্রকৃত জিডিপি বাড়াতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য রাজস্বের চেয়ে উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বেপজার সদস্য (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, বেপজার অধীনে আটটি জোনে ২ হাজার ৩৬২ একর জমি রয়েছে। সেখানে ৫ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এসব শ্রমিক বছরে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বেতন পায়। তিনি বলেন, এখানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে, এতে ৩৮টি দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। আরো কয়েকটি দেশ বিনিয়োগে আসবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ই-টিআইএন নেয়ার পর করদাতা যখন রিটার্ন দেয়া শুরু করবেন তখন তাকে একটি ই-টিআইএন কার্ড দিয়ে দেয়া যায় কিনা, তা আমরা চিন্তা করছি। সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ টিআইএন স্থায়ী হবে। তিনি বলেন, কোনো কোনো থিংক ট্যাংক বলছে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে বেশি সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। অনেক দেশ থেকেই কম মূল্যে আমদানির সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে আমদানিকে বাধাগ্রস্ত করছি কিনা, এটিও ভাবার বিষয়।