শেয়ারবাজার

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ : ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর বীমা দাবি করবে আরএন স্পিনিং

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

গত সপ্তাহে কুমিল্পা ইপিজেডে অবস্থিত আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে কোম্পানিটির দুটি ইউনিট পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পর বীমা দাবি করা হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে আরএন স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব হান্নান মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, আগুনে কারখানার অ্যাক্রিলিক ও কটন সেকশন পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং সব যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠন করা তদন্ত কমিটির সমস্যরা কাজ করছেন। আমরা তাদের সহায়তা করছি। পাশাপাশি সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শেষ হলে আমরা নিজেরা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করব। তারপর বীমা দাবি করা হবে।

কবে নাগাদ কারখানার উৎপাদন চালু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুনের কারণে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। দুটি সেকশন প্রায় পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তাই এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না কবে থেকে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি। বীমার টাকার পাশাপাশি ব্যাংকসহ অন্যান্য উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে কারখানার সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল সোমবার রাতে কুমিল্লা ইপিজেডে আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগে। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নেভানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালান। শেষ পর্যন্ত সকাল ৬টার দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুনে কারখানাটির অ্যাক্রেলিক ও কটন সেকশন পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ১০ এপ্রিল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানায়।

সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৮ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ৮৪ পয়সা।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল আরএন স্পিনিং।

এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা ৯৬ পয়সা।

ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ৫ টাকা ৩০ পয়সা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএন স্পিনিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২০১ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৩৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক ৩৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে বাকি ৫০ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১১ দশমিক ৫১, অনিরীক্ষিত প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১০ দশমিক ৫২।