টকিজ

আমির খানের ফরেস্ট গাম্প

ফিচার ডেস্ক | ০৩:৩২:০০ মিনিট, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

ফরেস্ট গাম্প বহু বছর ধরে শুধু ভক্ত-দর্শক নয়, নির্মাতাদেরও মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলে পরিচিত আমির খান থাগস অব হিন্দুস্তানের ব্যর্থতার পর তার নতুন ছবির নাম ঘোষণা করেছেন। আমির এবার কাজ করছেন ফরেস্ট গাম্পের আনুষ্ঠানিক রিমেক নিয়ে।

পরিচালক ও অভিনেতারাও দর্শকদের মতো কোনো কোনো ছবি নিয়ে মুগ্ধ হন এবং সবসময় সেটা চেপেও রাখতে পারেন না। আমির খানের ক্ষেত্রেও সম্প্রতি সেটা দেখা গেল। রবার্ট জেমেকির ক্ল্যাসিক ফরেস্ট গাম্পের (১৯৯৪) অফিশিয়াল রিমেক প্রযোজনা এবং ছবিতে অভিনয়ের ঘোষণা দিয়ে ফরেস্টের প্রতি আমির তার উন্মাদনাকেই প্রকাশ করলেন। আমিরের এ রিমেকের নাম হবে লাল সিং চাড্ডা। এ ছবির ঘোষণা দিয়ে আমির বলেছেন, ‘আমার পছন্দের ছবি ফরেস্ট গাম্প। এর মধ্যে একটা ভালো লাগার ব্যাপার আছে।’

অনেকদিন ধরে অবশ্য বলিউডে আমির খানকে ভারতীয় টম হ্যাংস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হিন্দি ভাষায় ফরেস্ট গাম্পের চরিত্রটি রিমেকে আমির খানই যে সবচেয়ে উপযুক্ত অভিনেতা, তাতে কারোরই আপত্তি নেই। তবে লাল সিং চাড্ডা কি কেবল ফরেস্ট গাম্পেরই প্রতিরূপ হবে নাকি তার চরিত্রে আরো কিছু থাকবে? ফরেস্ট গাম্প নিয়ে বলিউডে উন্মাদনা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে ফরেস্ট গাম্প মুক্তি পাওয়ার পর বলিউডে এর রিমেকের কথা উঠেছিল। সে সময় টম হ্যাংকসের চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল অনিল কাপুরের এবং ছবিটির পরিচালক হিসেবে নাম এসেছিল কুন্দন শাহের। ছবির কাজও শুরু হয়েছিল কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে কুন্দন শাহ জানান, অনিল কাপুরের কারণেই সেই ছবির কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘তারকারা কোনো ছবির ইন্ডিকেটর। তারা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টাকা ও সিনেমার সাফল্যের মূল অংশটা তারাই নিয়ে যান। এ পরিস্থিতি বদলাবে না, যদি পরিচালক নিজেই ছবির অভিনেতা না হন।’ বলা বাহুল্য, কুন্দন ও অনিল কাপুরের সেই রিমেক ছবিটির নির্মাণ কখনো শেষ হয়নি। পরে একবার কথা উঠেছিল যে, শাহরুখ খান সেই রিমেক শেষ করবেন, কিন্তু কোনো কার্যকর ফল দেখা যায়নি।

কুন্দন শাহ ও অনিল কাপুরের সেই প্রচেষ্টা আর আমির খানের রিমেকের মধ্যে তফাত বিস্তর। আমিরের এ ছবি পরিচালনা করবেন সিক্রেট সুপারস্টারের পরিচালক অদ্ভেত চন্দন। আমির ও অদ্ভেত মিলে ফরেস্ট গাম্পের যে রিমেক করতে যাচ্ছেন, তা আনুষ্ঠানিক রিমেক। এটা সেই কুন্দন শাহের আমলের রিমেক নয়, তখন কেবল হলিউডের ছবি দেখেই বলিউডের পরিচালকরা রিমেক তৈরি করে ফেলতেন।

আমির খানের ক্যারিয়ারে লাল সিং চাড্ডা নির্মাণের সময়টা কৌতূহলোদ্দীপক। ১৯৯৯ সালের সারফারোশ থেকেই আমির তার চরিত্রগুলোকে জীবনের চেয়ে বড় করে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। এটা করতে গিয়ে আমির কোনো অতিমানবীয় চরিত্রের আশ্রয় নেননি, বরং তার চরিত্রগুলোর সবাই সাধারণ মানুষ। কিন্তু এ সাধারণ মানুষগুলোই বিভিন্ন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ে অসাধারণ হয়ে ওঠে। লাগান (২০০১), রঙ দে বাসন্তি (২০০৬) ছবিগুলোয় সে রকমটাই দেখা গেছে। প্রথমটিতে আমিরের চরিত্র প্রতাপশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং দ্বিতীয়টিতে ভারতের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের মুখোমুখি হয়। এমনকি যে ছবিগুলোয় সরাসরি কোনো সামাজিক ইস্যু উত্থাপন হয়নি, সেগুলোয়ও আমিরের চরিত্রগুলো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।  যেমন ফানা (২০০৫), তারে জমিন পার (২০০৭), থ্রি ইডিয়টস (২০০৯), পিকে (২০১৪), দাঙ্গাল (২০১৬)। এসব ছবিতে আমিরের চরিত্রগুলোর মধ্যে কোনো মিল নেই, কিন্তু তার পরও একটি জায়গায় এরা সবাই এক—প্রত্যেকেই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভিন্ন ধরনের অসম্ভব কাজকে সম্ভব করে। চরিত্রগুলো বাস্তব হয়েও মানুষকে ছাড়িয়ে যায়। আমিরের ছবিতে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশও দেখা যায়। আমির সম্ভবত এ বৃত্ত ভাঙতেই থাগস অব হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলেন। এটা ছিল বলিউডের প্রচলিত মাসল ঘরানার ছবি। এ ছবিকে তার দর্শকরা যেভাবে নিয়েছেন, সেটাই বোধহয় আমিরকে পরের ছবি ফরেস্ট গাম্পের রিমেককেই বেছে নিতে বাধ্য করেছে। ভারতীয় নভোচারী রাকেশ শর্মার জীবনী নিয়ে একটি ছবিতে যুক্ত হওয়ার কথা উঠলেও এখন মনে হচ্ছে কার্যত আমির সেটা থেকে সরে এসেছেন। গুঞ্জন চলছে থাগস অব হিন্দুস্তানের ব্যর্থতাই তাকে লাল সিং চাড্ডা করার জন্য উৎসাহিত করেছে। অবশ্য শোনা যাচ্ছে রাকেশ শর্মার জীবনীনির্ভর ছবিতে যুক্ত হয়েছেন শাহরুখ খান। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, শাহরুখও তার জিরো ছবির সিক্যুয়েল তৈরি থেকে সরে এসেছেন।

ফরেস্ট গাম্পে অভিনয়ের সময় টম হ্যাংকসের বয়স ছিল ৩৮ আর এখন সেটার হিন্দি রিমেকে কাজ করার সময় আমির খানের বয়স ৫৪। বলিউডের বড় তারকাদের জীবনে যখন বাঁকবদলের প্রয়োজন হয়, তখন সেটা কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অবশ্য অনেকেই মনে করেন, অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমার, রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্র বা ঋষি কাপুরকে যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে, আমিরের জন্য সেটা তত কঠিন হবে না। ফরেস্ট গাম্পের রিমেক কি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের যে বাঁকবদল প্রয়োজন, সেই পথ আমিরের ক্ষেত্রে প্রশস্ত করবে? কী হবে সেটা লাল সিং চাড্ডার মুক্তির পরই স্পষ্ট হবে। তবে এটা নিশ্চিত, আমিরকে অনেকটা দৌড়াতেই হবে, ফরেস্ট গাম্পের মতো।

 

সূত্র : ডেইলি ও