ফিচার

সন্তান জন্ম দেবে রোবট!

বণিক বার্তা ডেস্ক

১৭:৩৩:০০ মিনিট, মার্চ ৩১, ২০১৯

শয্যাসঙ্গী হিসেবে রোবটের ভবিষ্যত্ নিয়ে আশা ও আতংকের কথা শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। সেক্সডল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও বিনিয়োগ করে চলেছে। পাশাপাশি রোবটকে সন্তানজন্মদানে সক্ষম করে তোলার ধারণাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বিষয়টি একটু অন্যভাবে ভাবছেন। মানুষের সঙ্গে যৌনতার বাইরে ‘যান্ত্রিক প্রজনন’ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন তারা। এই ধারণা নিয়ে কথা বলছেন তথাকথিত রোবট বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, নতুন রোবট তৈরি এবং এই মেশিনকে আরো উন্নত করার ঝক্কি কেন মানুষকে নিতে হবে, যদি রোবট নিজেই সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়ে ওঠে?

এ যেন হাইটেক ডারউইনবাদ! এরই মধ্যে বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। তাদের লক্ষ্য এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট তৈরি করা যা নিজের সোর্স কোড নিজেই বিশ্লেষণ করতে পারবে। এবং একই সঙ্গে অন্য এক বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে যৌথভাবে তাদের সোর্স কোডের সমাবেশ ও পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে নতুন রোবট তৈরি করতে পারবে। এই কাজটি অনেকটা প্রাণীর বংশবিস্তারের মতো ঘটনা হবে।

শুধু তাই নয়, জীব যেমন পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রভাবে ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় এবং অভিযোজিত হয় তেমনি রোবটের ‘সন্তান’ও পরিবেশের জন্য নিজেকে আরো উপযোগী করে তুলতে পারবে।

কিছু গবেষক এরই মধ্যে এই ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে। এমন তথ্যই দিয়েছে প্রযুক্তি পত্রিকা অয়্যার্ড। আমস্টারডামের ভ্রিজে ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা খুব সাধারণ একটি সিস্টেম তৈরি করে দেখিয়েছেন, ভবিষ্যতে রোবট কীভাবে নিজেদের ‘জেনেটিক ইনফরমেশন’ বিনিময়, সংযোজন, বিয়োজন ও সমন্বয় করতে সক্ষম হবে।

এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে নেচার মেশিন ইনটেলিজেন্স জার্নালে। এই গবেষক দলের উদ্ভাবিত সিস্টেম দেখিয়েছে, এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা একাধিক রোবট (বাবা-মা অর্থে) যেগুলো নতুন রোবট তৈরি করতে পারে- তাদের এই ‘সন্তান’ প্যারেন্ট রোবটগুলোর কোডের একটি মিশ্রণ ধারণ করে। তাছাড়া সোর্স কোডের কিছু মডিউল দেখে মনে হয়েছে সেগুলোর পরিব্যক্তি (মিউটেশন) ঘটে গেছে অথবা নিজের মধ্যেই সোর্স কোডের মিশ্রণ তৈরি করেছে।

এই প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডেভিড হাওয়ার্ড অয়্যার্ডকে বলেছেন, এইটা রোবটের জগতে আমাদের ব্যাপক বৈচিত্র্য এনে দেবে। তাছাড়া এটা এমনকিছু ডিজাইন করার সক্ষমতা দেবে যা সাধারণত আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হাওয়ার্ডের বিশ্বাস, বছর কুড়ির মধ্যেই মানুষ প্রজনন সক্ষম এমন রোবটের ব্যাপকভিত্তিক বাণিজ্যিক উত্পাদনে যাবে। আর একাধিক রোবট যখন মিলেমিশে নতুন রোবট তৈরি করবে সেটি হবে আরো দক্ষ, যেমনটি প্রাণীর বিবর্তনের ক্ষেত্রে ঘটেছে।