শেষ পাতা

এক অ্যাপে রেলের সব সেবা আসছে এপ্রিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:০৭:০০ মিনিট, মার্চ ২৫, ২০১৯

আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে অভিন্ন অ্যাপে রেলওয়ের সব সেবা মিলবে। অ্যাপটি ব্যবহার করে টিকিট কেনা, মূল্য পরিশোধ, ট্রেনের অবস্থান জানা, ক্যাটারিং থেকে খাবার কেনাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পাবেন আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরা। গতকাল রেলভবনে ‘টিকিট ব্যবস্থায় একই অ্যাপে সব সেবা’ সম্পর্কিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে ইন্টারনেট ও এসএমএসের মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেনে টিকিট বুকিং করতে পারছেন। ‘একই অ্যাপে সব সেবা’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একটি মাত্র প্লাটফর্ম থেকে রেলের সব সুবিধা পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ হওয়ারও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকালের বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। নির্মাণাধীন অ্যাপের বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা ও তাতে নতুন বিষয় যোগ করতে বৈঠকটি আয়োজন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে নির্মাণাধীন অ্যাপের সম্ভাব্য কিছু ফিচার তুলে ধরেন সিএনএসের নির্বাহী পরিচালক অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, অ্যাপটিতে টিকিট কাটা, সম্ভাব্য গন্তব্যের তথ্য, ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত, কোচ ভিউ, জরুরি যোগাযোগের পাশাপাশি অভিযোগ জানানোরও ব্যবস্থা থাকবে। যাত্রীরা তাদের মোবাইল ফোন থেকেই অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট বুকিং ও এর মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। সেই সঙ্গে স্টেশনের দূরত্ব, স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কেও এ অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে। ট্রেনের ভেতরে অ্যাপ থেকেই খাবার অর্ডার এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়লে রেল পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন যাত্রীরা।

বৈঠকে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী মাসের (এপ্রিল) মাঝামাঝি সময়ে অ্যাপটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা চাই ঈদুল ফিতরের আগেই অ্যাপটির সুফল মানুষকে দিতে। এবারের ঈদে ঘরমুখী মানুষকে যেন টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলের সেবাকে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত এবং সহজ করতে নির্মাণাধীন অ্যাপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।