আন্তর্জাতিক ব্যবসা

বাণিজ্য আলোচনার আশাবাদে এশিয়ার শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:২৭:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রণোদনার প্রত্যাশা এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদের সুবাদে গতকাল চার মাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছে এশিয়ার শেয়ারবাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন দফা বাণিজ্য আলোচনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করেছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তৃত এমএসসিআই সূচকে কিছুটা জোরালো অবস্থা দেখা গেছে। এছাড়া সারা দিন অপরিবর্তিত থাকার পর জাপানের নিক্কেই সূচকে দশমিক ২ শতাংশ যোগ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান শেয়ারবাজারে দশমিক ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, যা সাড়ে চার মাসের সর্বোচ্চ। চীনের বাজারেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। চীনের ব্লু-চিপ সূচক দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতির ফলে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি দুটি আগামী ১ মার্চের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি দুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছলে অন্তত অতিরিক্ত শুল্কারোপ এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। নিজেদের বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে গতকাল ওয়াশিংটনে নতুন দফা বাণিজ্য আলোচনা শুরু করেছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহেই দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার কথা রয়েছে বলে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত আলোচনার তেমন কোনো বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার সময়সীমা ১ মার্চ থেকে বর্ধিত করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছিলেন। এদিকে ১ মার্চের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে তাত্ক্ষণিকভাবে ২০ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের চীনা পণ্যের ওপর আমদানি শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হবে।

বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে মার্কিন মনোভাব পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি মাসে চীনা শেয়ারদর দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে। এমএসসিআইয়ের চীনা ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত শেয়ারের সূচক ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চীনের দুর্বল অর্থনীতি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত প্রধান বাজারগুলোর সেরা পারফরম্যান্স।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বাজারগুলোয় ফিরে আসাও শেয়ারবাজারগুলোকে চাঙ্গা করছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল অর্থনীতির কারণে আপাতত সুদহার বৃদ্ধি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বাজারগুলোয় ফিরে আসতে উৎসাহিত করছে।

ব্যাংক অব আমেরিকা-মেরিল লিঞ্চের কৌশলী অজয় সিং কাপুর বলেন, গত সপ্তাহ থেকে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। যদি তেমনটাই ঘটে, তবে তা এশিয়া ও উদীয়মান শেয়ারবাজারগুলোর জন্য বেশ ইতিবাচক বিষয় হবে। কাপুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যালান্স শিট শেয়ারদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

মুদ্রাবাজারের ক্ষেত্রে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে আশাবাদের কারণে ইউরো এবং অন্য ঝুঁকিপ্রবণ মুদ্রাগুলোকে স্থিতিশীল থাকতে দেখা গেছে। যদিও অধিকাংশ মুদ্রাকে চিহ্নিত সীমায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল ইউরোপ্রতি ১ দশমিক ১৩০৪ ডলার বিনিময় হতে দেখা গেছে। এর আগে শুক্রবার ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। শুক্রবার ইউরোপ্রতি ১ দশমিক ১২৩৪ ডলার বিনিময় হয়। জার্মানির জিডিপিসহ ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলোর দুর্বল পরিসংখ্যান অভিন্ন মুদ্রাটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ব্রেক্সিট আলোচনার প্রভাবে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মান সামান্য দুর্বল হয়েছে। গতকাল পাউন্ডপ্রতি ১ দশমিক ২৯০৫ ডলার বিনিময় হয়।

এশিয়ার মুদ্রার ক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে কিছুটা শক্তি অর্জন করেছে ইয়েন। গতকাল ১ ডলারের বিপরীতে ১১০ দশমিক ৪৯ ইয়েন বিনিময় হতে দেখা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১ ডলারের বিপরীতে ১১১ দশমিক ১৩ ইয়েন বিনিময় হয়, যা সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন।