সম্পাদকীয়

মানদণ্ডের চেয়ে কম গতি ফোরজি সেবায় : বিটিআরসির সক্রিয়তা কাম্য

০০:০০:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রথম কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা প্রণয়ন করে। বহুল আলোচিত এ নীতিমালায় সেলফোনে ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণসহ বিভিন্ন সেবার মানের ক্ষেত্রে বেঞ্চমার্ক ঠিক করে দেয়া হয়েছে। আর এসব বেঞ্চমার্কে অপারেটরগুলোর সেবার মান মূল্যায়ন করে র্যাংকিংয়ের কথা বলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি গত ৬ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় এক জরিপ চালিয়ে দেখেছে, সব অপারেটর কোনো না কোনো ক্ষেত্রে সেবার মানের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। জরিপে আরো উঠে এসেছে মানদণ্ডের চেয়ে কম গতির ফোরজি সেবার বিষয়টি। ফোরজি চালুর সময় বলা হয়েছিল, চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তির কারণে বাড়বে ইন্টারনেটের গতি, বাড়বে স্মার্টফোনভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার; কমবে ভয়েস ও ভিডিও উভয় ক্ষেত্রেই কলড্রপ। এর কোনোটিই পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারছে না গ্রাহকরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অপারেটরদের বারবার সতর্ক করার পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।

লাইসেন্স পাওয়ার আগে মোবাইল অপারেটরদের যে রকম প্রস্তুতি নেয়া দরকার ছিল, তারা সেটা নেননি; লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে কাজ শুরু করেছেন। ফোরজি উপযোগী করে নেটওয়ার্ক সাইটগুলো তৈরি করা, কানেক্টিভিটি তৈরি করা—এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে তেমন তথ্য মেলে না। মোবাইল অপারেটরগুলো বলছে, বাংলাদেশে ফোরজি সেবা চালু হলে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক, ভিডিও ডাউনলোড, লাইভ স্ট্রিমিংসহ নানা রকম সেবা পাবে সাধারণ মানুষ। কমবে কলড্রপ, বাড়বে সেবার মান। কিন্তু এর কোনো লক্ষ্যই অর্জন হয়নি। এজন্য অপারেটরগুলোকে দায়ী করছে গ্রাহকরা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত বিষয়টি আরো যাচাই-বাছাইপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং সেবার মান উন্নয়নে তদারকি বাড়ানো। নইলে ফোরজির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

ফোরজি সেবার জন্য শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। এ নেটওয়ার্কের দুর্বলতায় আগে থ্রিজিতেও সমস্যা হয়েছে এবং এই বড় সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। ফোরজি সেবায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ফোরজিতে সেবার মান নিশ্চিতে প্রয়োজন দ্রুত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, যা সেলফোন অপারেটরগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) বসানো না হলে ফোরজিতেও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। ফোরজি সেবায় ব্যান্ডউইডথ চাহিদা বাড়লে তা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের অবস্থা, ব্যান্ডউইডথের পর্যাপ্ততা ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বিবেচনায় দেশে ফোরজির গতি ৭ এমবিপিএসের (মেগাবিট পার সেকেন্ড) বেশি হবে না। যদিও বিশ্বে ফোরজির গড় গতি ১৬ দশমিক ৬ এমবিপিএস। এমন অবস্থায় ফোরজি সেবা নিশ্চিত না করে ফাইভজি চালুর চিন্তা বাতুলতামাত্র।