প্রথম পাতা, খবর, , ,

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল

জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে বিএনপিকে বলা যেতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:১৩:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি ছিল জানিয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এখন জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে বিএনপিকে বলা যেতে পারে। গতকাল রাজধানীতে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, তড়িঘড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুলত্রুটি সংঘটিত হয়েছে, তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এ বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, আমরা অতীতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতির কথা চিন্তাও করিনি। ভবিষ্যতেও পরিষ্কার যে জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করব না। বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলবেন কিনা— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি বলা যেতে পারে।

জামায়াত প্রশ্নে ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিংবা গণফোরাম কোন পথে হাঁটবে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, আমাদের বক্তব্য একদম পরিষ্কার, জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি কখনো করিনি। কোনোদিন করার কথা চিন্তাও করিনি। যেটা করেছি, সেটা আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি, এটা তো আমাদের বলা হয়নি, তারা (জামায়াত) থাকবে এটার মধ্যে। ভবিষ্যতে ব্যাপারটি একদম পরিষ্কার, জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করব না।

এ সময় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট করেছি বিএনপির সঙ্গে, ২০ দলের সঙ্গে করিনি। তার পরও জামায়াতের নাম যখন চলে আসছে, ওদের ২২ জন ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তখন বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেলকে জানিয়েছি। তিনি (বিএনপি মহাসচিব) তার দলের মিটিংয়ে তা উত্থাপন করেছেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ দিয়েছে, না, জামায়াত হিসেবে কাউকে আমরা দিইনি, আমরা সব ধানের শীষ হিসেবে দিয়েছি। আমরা বলেছি অবিলম্বে ব্যাপারটা সুরাহা করার জন্য। অবশ্যই আমরা জামায়াতের ব্যাপারটার সুরাহা চাই। আমরা জামায়াতকে নিয়ে আগেও রাজনীতি করিনি, এখনো করি না, ভবিষ্যতেও করব না।

সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেন দু-তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সরকারি দল ছাড়া আর কেউ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেটা বলছে না। চাইলেও বলা সম্ভব না। দেশের স্বার্থে দু-তিন মাসের মধ্যে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে গণফোরাম জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির এ সভায় সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা অনতিবিলম্বে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

এর আগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মন্টু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, এসএম আলতাফ হোসেন, আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিকসহ দলের নেতারা।