খেলা

বিপিএলে দর্শক খরা

আহমেদ রিয়াদ | ১৯:২৬:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

এক সপ্তাহ হলো চলছে বিপিএলের খেলা। তারকা উপস্থিতি ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে এবার ছাপিয়ে গেছে অতীতের সব আসরকে। যুক্ত হয়েছে অত্যধুনিক ডিআরএস, ড্রোন ও স্পাইডার ক্যামেরা প্রযুক্তি। এ প্রথমবার বিপিএলে খেলতে এসেছেন স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যালেক্স হেলস। শিগগিরই যোগ দেবেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এত কিছুর পরও জমে ওঠেনি বিপিএল। স্টেডিয়ামের চারদিকের গ্যালারিগুলোর বেশির ভাগই ফাঁকা। সর্বশেষ চতুর্থদিনের খেলাগুলোতে মাঠে দর্শক উপস্থিতি ছিল হাজারখানেক। এত এত তারকার উপস্থিতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও কেন এমন দর্শক খরা?

এমন পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে আয়োজক কমিটিকে। দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ম্যাচের সময়সূচিতে পরিবর্তনও এনেছে বিপিএল গভর্নিং বডি। দুপুর সাড়ে ১২টার ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে বেলা দেড়টায়। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচগুলো বিকাল ৫টা ২০ মিনিটের পরিবর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিপিএলের টুর্নামেন্ট কমিটি।

বিপিএল খেলা উপভোগ করতে দর্শক মাঠমুখো হচ্ছে না, এর কারণ বহুবিধ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনায় অনেকটা চাপা পড়ে ছিল বিপিএল। নির্বাচনের মাত্র পাঁচদিন পর শুরু হয়েছে এবারের আসর। ফলে ঠিকমতো প্রচারণা হয়নি। তাছাড়া শুরু থেকেই দেখা গেছে নানা অব্যবস্থাপনা। টিভি সম্প্রচারের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাঠ থেকে সরাসরি প্রদর্শিত গ্রাফিকসে ভুল তো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নিয়েও। ডিআরএস আছে অথচ ‘আল্ট্রাএজ’ বা স্নিকোমিটার নেই। কেউ কেউ রসিকতা করে এমনও বলছেন, এ যেন চিকিৎসক ছাড়া হাসপাতাল! মাঠের ক্রিকেটে অনেক সময় থার্ড আম্পায়ারকে কটবিহাইন্ড বা এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে স্লো মোশন অথবা শব্দ শুনে।

এ বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ সোহেল বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে ভুল-ত্রুটি কাটিয়ে জমে উঠবে এবারের আসর। প্রডাকশনে যা কিছু প্রয়োজন আছে, আমরা সব নিয়ে এসেছি। এত বড় আয়োজনে ছোটখাটো ভুল থাকতে পারে, যা কিছু বাকি আছে তা দুয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’

দর্শক খরা প্রসঙ্গে শেখ সোহেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামের দর্শকশূন্যতা দেখে হতাশ হওয়া যাবে না। সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র দুদিনের মধ্যে বিপিএল শুরু। আশা রাখি পরবর্তী সপ্তাহ থেকে দর্শকে পরিপূর্ণ হবে গ্যালারি।’

অতীতে দর্শক টানতে নানা রকম চটকদার অফার দিতে দেখা যেত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। কিন্তু এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। তাদের ফ্যান ক্লাবগুলোর তেমন তত্পরতা নেই মাঠে কিংবা সোস্যাল মিডিয়াতেও। আর মাঠে দর্শক টানতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেরাই টিকিট কিনে দর্শক আনত। এবার সে উদ্যোগও দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে রংপুর রাইডার্সের সিইও ইশতিয়াক সাদিক বলেন, ‘আমাদের দর্শকদের জন্য এবার আমরা সত্যিই তেমন কিছু করতে পারছি না। তবে আমাদের কাছে টিকিট চাইলে আমরা দিচ্ছি। খুব শিগগিরই দলের খেলা দেখতে রংপুর রাইডার্সের দর্শকদের জন্য নানা রকম লোভনীয় আয়োজন করব। সিলেট ও চট্টগ্রামে আমরা ফ্যান ক্লাবগুলোর তত্পরতা বাড়াব।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘গ্যালারি দর্শকশূন্য থাকে, কারণ এখন ঘরে বসেই বিপিএল মানুষ দেখতে পারে। মোবাইলে লাইভ স্টিমিং হচ্ছে বিপিএলের ম্যাচগুলো। আর টিকিটের দামও হয়তো একটা বিষয়।’

এ ব্যাপারে বিসিবি পরিচালক ও ঢাকা ডায়নামাইটস কোচ খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘বিপিএলে কেন দর্শক আসছে না, সেটি সঠিকভাবে বলা মুশকিল। যদিও এবারের বিপিএল আরো বেশি জৌলুসপূর্ণ। আগের যেকোনো আসরের থেকে অনেক বেশি তারকা ক্রিকেটার উপস্থিতি বেড়েছে। খেলার সূচি একটা কারণ হয়তো হতে পারে। কেননা দুপুর সাড়ে ১২টা ও বিকাল ৫টার পর সময়গুলো স্কুল-কলেজ খোলা ও কোচিং থাকে। এ সময়টা অফিস-আদালত ছুটির সময়। তবে এখন যেহেতু সময় কিছুটা পেছানো হয়েছে, আশা করছি দর্শক বাড়বে।’

এদিকে দর্শক কম হওয়ার জন্য টিকিটের চড়া মূল্যকে দায়ী করছেন কেউ কেউ। টিকিট কোথায় পাওয়া যাচ্ছে তার কোনো সঠিক নির্দেশনা নেই। এমনকি এবার অনলাইনের টিকিট প্রাপ্তির কোনো সুযোগ নেই। মিরপুর স্টেডিয়ামের পাশে দুটি বুথে টিকিট বিক্রি করা হলেও তাতে তেমন কোনো সাড়া নেই। সূত্রের খবর, এসব বুথ থেকে কালোবাজারিরা টিকিট কিনে নিচ্ছেন। আর বিক্রি করছেন বেশি দামে। এতে করে বিপিএলে ম্যাচ দেখতে আসা দর্শক চড়া মূল্যে টিকিট কেনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্যালারিতে।