খবর

অরিত্রীর শিক্ষিকা হাসনা হেনা কারাগারে

বণিক বার্তা অনলাইন | ১৭:১৫:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বরখাস্ত শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার রাতে গ্রেফতার করার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক কারুল হাসান তালুকদার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিনের আবেদন করেন। একইসঙ্গে বাদীপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন।

বিচারক শুনানি শেষে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানী পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় মামলাটি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কারণে অরিত্রী অধিকারীর বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ আনেন ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকারা। তারা তার বাবা-মাকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা করতে বলেন।

অরিত্রীর বাবার ভাষ্য, ‘৩ ডিসেম্বর আনুমানিক বেলা ১১টায় আমার স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও মেয়ে অরিত্রী অধিকারীকে নিয়ে আমি স্কুলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা প্রথমে ক্লাস টিচার হাসনা হেনার কাছে যাই। তিনি আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রভাতী শাখা প্রধান জিনাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদের দেখেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আমাদেরকে বলেন, আপনার মেয়েকে টিসি দিয়ে দেবো। তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আছেন বুঝতে পেরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি বলেন, আমার কিছু করার নেই। তখন আমরা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার মেয়ে তার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আমরাও ক্ষমা চাই। তারপর আমরা কেঁদে ফেলি। আমাদের বা অরিত্রীর কারও ক্ষমা প্রার্থনাই অধ্যক্ষের হৃদয় গলাতে পারেনি।’