শেয়ারবাজার

ইলেকট্রনিক বিডিং সম্পন্ন

রানার অটোমোবাইলসের কাট অফ প্রাইস ৭৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১:৪৯:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের অনুমোদন পাওয়া রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের শেয়ারের কাট অফ প্রাইস (প্রান্তসীমা মূল্য) নির্ধারণ হয়েছে ৭৫ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) টানা ৭২ ঘণ্টার ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে এ দর নির্ধারিত হয়। ফলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী, কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ কমে অর্থাৎ ৬৮ টাকায় রানারের শেয়ার কিনতে পারবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বিত ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে গত সোমবার বিকাল ৫টা থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা রানার অটোমোবাইলসের বিডিং চলে। এ সময় মোট ৫৯২টি বিডিং প্রস্তাব আসে ইআইদের কাছ থেকে। বিডিংয়ে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ওঠে ৮৪ টাকা ও সর্বনিম্ন ২৫ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২৩ জন ইআই ৫০ টাকায় কোম্পানিটির ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ শেয়ার মোট ৪৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব দেয়। বিডিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৮টি প্রতিষ্ঠান ৫৫ টাকায় ৫ কোটি ৪৯ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ শেয়ার মোট ৩০২ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকায় কেনার প্রস্তাব দেয়। আর ২২টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শেয়ারপ্রতি ৭৫ টাকা করে ১ কোটি ৪ লাখ ২৩ হাজার ৮০০টি শেয়ার মোট ৭৮ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব দেয়। বিডিংয়ে ইআইদের জন্য শেয়ার বরাদ্দকৃত কোটার বিপরীতে মোট ১ হাজার ৫৮৩ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের দর প্রস্তাবের ক্রমযোজিত মূল্য (কিউমুলেটিভ ভ্যালু) ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা শেষ হয় প্রতি শেয়ার ৭৫ টাকায়। এর ফলে রানার অটোমোবাইলসের ‘কাট অফ’ প্রাইস নির্ধারণ হয় ৭৫ টাকায়। কাট অফ প্রাইসের ১০ শতাংশ কম দরে অর্থাৎ ৬৭ টাকা ৫০ পয়সায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ হওয়ার কথা। তবে ফ্র্যাকশন (ভগ্নাংশ) থাকার কারণে নিয়মানুযায়ী নিকটবর্তী পূর্ণসংখ্যা বিবেচনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৬৮ টাকায় রানারের শেয়ার পাবেন। ব্যবসা সম্প্রসারণে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৯টি শেয়ার ইস্যু করবে রানার অটোমোবাইলস। এর মধ্যে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০টি শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ গবেষণা ও উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর ব্যয় নির্বাহে খরচ করবে কোম্পানিটি। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৫৫ টাকা ৭০ পয়সা। এ উদ্বৃত্ত হিসাব না করলে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪১ টাকা ৯৪ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয়ের (ইপিএস) ভারিত গড় ৩ টাকা ৩১ পয়সা। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরতে রোড শোর আয়োজন করে রানার অটোমোবাইলস। সেখানে কোম্পানির চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান জানান, ৮০ থেকে ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তারা। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন মডেলের মোটরসাইকেল ও স্কুটার তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মডেলগুলোর মান আরো বাড়াতে চায় রানার। প্রসঙ্গত, গত বছর থেকে নেপালের বাজারে মোটরসাইকেল রফতানি করেছে রানার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার শুধু রফতানি বাজারের জন্য ৫০০ সিসি মোটরসাইকেল উৎপাদনেরও অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটিকে। দেশে ইউএম ব্র্যান্ডের বেশ কয়েকটি মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউনাইটেড মোটরসের সঙ্গে একটি চুক্তি রয়েছে রানার অটোমোবাইলসের। মোটরসাইকেল ব্যবসার বাইরে রানার গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিটি এখন দেশের বাজারে ভারতীয় বাজাজ অটোর থ্রি হুইলারের পরিবেশক হিসেবেও কাজ করছে। রানার অটোমোবাইলসের দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রানার মোটরস লিমিটেডের ৬১ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার এবং ফ্রিডম মোটরস লিমিটেডের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রানার অটোমোবাইলসের হাতে। রানার মোটরস বাংলাদেশে ভলভো-আইশারের বাণিজ্যিক যান বিপণন করছে, যে ব্যবসার বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ শতাংশ। ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজস্ব কারখানা কমপ্লেক্সে ভলভো আইশারের বাণিজ্যিক যান সংযোজনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে ভারতীয় একটি টু হুইলার ব্র্যান্ডের কারিগরি অংশীদারিত্বে ব্যবসা করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা অপর সাবসিডিয়ারি ফ্রিডম মোটরসের পরিচালন কার্যক্রম শুরু হয়নি। রেড হেরিং প্রসপেক্টাস অনুসারে, ২০০০ সালে যাত্রা করা রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২৮ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে বর্তমানে রানার অটোমোবাইলসের পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী দ্য ফ্রন্টিয়ার্স ফান্ডের একাধিক প্রতিনিধি। রানার অটোমোবাইলসকে শেয়ারবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। রেজিস্টার টু দ্য ইস্যু লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। নিরীক্ষক হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি।