খবর

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চায় দুদক

আদেশ ২০ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১:১৫:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল এ বিষয়ে শুনানি শেষে ২০ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন।

আদালতকে তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) মামলাটিতে আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন এবং আসামি খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা প্রদানের দিন ধার্য আছে। আজ দুজন আসামি আদালতে উপস্থিত আছেন। আগে তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হোক। এরপর জামিন বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান শুরু হতে পারে।

এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ম্যাডাম গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে এসেছিলেন। আপনার (বিচারক) কাছে বলেছেন, তিনি অসুস্থ। আর কারাকর্তৃপক্ষ বুধবার তার কাস্টডিতে লিখেছেন, তিনি আদালতে আসতে অনিচ্ছুক। আমরা মনে করি, তিনি অসুস্থতার জন্য আদালতে আসতে পারেননি। অন্য কোনো কারণ নেই। এটা আদালতের প্রতি অবজ্ঞা নয়। বিষয়টি জানার জন্য আমরা ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমাদেরকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিন। আমরা তার সঙ্গে দেখা করে তার অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করি।

এরপর আসামি জিয়াউল হক মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম এবং মো. আকতারুজ্জামান বলেন, আমরা বুধবার যে দরখাস্ত দিয়েছি, এটা আপনার (বিচারক) প্রতি অনাস্থা নয়, এটা ছিল কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে। এ বিষয়টি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পেনডিং আছে। দুদক আমাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করতে বলছেন। একজন আসামি কারাগারে, তিনি আজো আসেননি। কারাগারে থাকা আসামির অনুপস্থিতিতে এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হলে তা হবে বেআইনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দেখা করার আবেদন দিয়েছেন। আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার।

এরপর বেশ কিছুক্ষণ দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা ও তর্ক-বিতর্ক হয়। শুনানি শেষে বিচারক বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী ব্যবস্থা  নেবেন। উপস্থিত দুই আসামি জামিনে থাকবেন। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে কিনা এবং তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ প্রদান করা হবে।