আন্তর্জাতিক ব্যবসা

লন্ডনকে হটিয়ে শীর্ষ আর্থিক কেন্দ্র নিউইয়র্ক

বণিক বার্তা ডেস্ক | ১৮:০০:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য ভালো না মন্দ হবে— এ বিতর্কের অবসান এখনো হয়নি। যদিও গণভোটে দেশটির জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে রায় দিয়ে দিয়েছে। আগামী বছর এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটবে। দীর্ঘমেয়াদে ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই অনেকের মত। কেননা এর ফলে যুুক্তরাজ্যের বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও অভিবাসনের ওপর নতুন করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এসব ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন নিশ্চিত না হওয়া গেলেও ব্রেক্সিটের প্রভাবে লন্ডন আর বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর্থিক কেন্দ্রের শীর্ষ অবস্থানে নেই— সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর্থিক কেন্দ্রের তালিকায় লন্ডনকে হটিয়ে এক নম্বর স্থানটি দখল করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত লন্ডনে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহু ব্যাংককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার ধরার জন্য ব্যাংকগুলো ক্রমেই লন্ডন ছাড়ছে। ফলে লন্ডন যে ক্রমেই বিদ্যমান আকর্ষণীয় আর্থিক কেন্দ্রের সুনাম হারাচ্ছে, তার প্রমাণ এ জরিপের ফলাফল।

২০০৮-০৯ সালের আর্থিক সংকটের পর ব্রেক্সিট লন্ডন শহরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ ব্রেক্সিট ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় বাজারে প্রবেশের বাধা হয়ে দাঁড়াবে।   

জেড/ইয়েন প্রকাশিত ওই জরিপে নিউইয়র্কের পর আকর্ষণীয় আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে আছে লন্ডন, হংকং ও সিঙ্গাপুরের নাম। অবকাঠামো এবং দক্ষ মানসম্পন্ন কর্মীর সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে ১০০টি আকর্ষণীয় আর্থিক কেন্দ্রের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তালিকাটিতে।

গত ছয় মাসের মধ্যে লন্ডন র‍্যাংকিয়ে আট পয়েন্ট হারিয়েছে। তালিকার শীর্ষে অবস্থান করা কোনো কেন্দ্রের জন্য এটি বড় ধরনের হ্রাস। ব্রেক্সিট নিয়ে যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, জরিপের ফলাফল তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে জরিপ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।

ইনডেক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ইয়েনডেল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার দিন ঘনিয়ে আসছে। আমরা এখনো জানি না, লন্ডন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে কিনা। লন্ডনের এ অবনমনের জন্য দায়ী অন্য আর্থিক কেন্দ্রগুলোর কাছে ব্যবসা হারানোর ভয়।

দুই বছর আগে ব্রিটেনের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসতে ভোট দেয়। এরই মধ্যে লন্ডনে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক কোম্পানিগুলো ইইউতে তাদের ব্যবসায় স্থানান্তরের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ২০১৯ সালের পর দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য কোম্পানিগুলো ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ব্রিটেনের আর্থিক উৎপাদনে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান ১২ শতাংশ। তারা  সরকারকে যেকোনো খাতের তুলনায় বেশি পরিমাণে শুল্ক প্রদান করে থাকে।

আগামী মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে আসার আগেই প্রায় পাঁচ হাজার কোম্পানি লন্ডন থেকে ইইউর দেশগুলোয় চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বল্পমেয়াদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার কর্মসংস্থান ব্রেক্সিটের কারণে লন্ডন শহর থেকে স্থানান্তর হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন লন্ডন শহরপ্রধান।

অন্যদিকে জরিপে দেখা গেছে, এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ব্রিটেনের রাজধানী থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। এশিয়ার অন্যতম শহর হংকং মাত্র ৩ পয়েন্ট পেছনে রয়েছে।