খবর

বাংলাদেশে আর কোনোদিন খুনিদের রাজত্ব আসবে না: প্রধানমন্ত্রী

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০২:০০:০০ মিনিট, আগস্ট ১৭, ২০১৮

বাংলাদেশে আর কোনোদিন খুনিদের রাজত্ব ফিরে আসবে না বলে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনোদিন খুনিদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। মুজিব আদর্শের প্রতিটি সৈনিককেই এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। খবর বাসস।

গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতার ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যত বড়ই হোক, কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই।

তিনি বলেন, যারা বংশপরম্পরায় চক্রান্ত করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণকে বলব এদের সম্পর্কে আপনাদেরও সচেতন থাকতে হবে। কারণ, এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ, মানুষের ভালো দেখতে চায় না। শুধু নিজেরাই ভালো থাকতে চায়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টার অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দেশের উন্নয়ন সহ্য হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যারা শিশুদের নিয়ে খেলতে চায়, তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যেকই আসলে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়। আলোর পথে যাত্রায় বাধা দিতে চায়।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন। দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, সিমিন হোসেন রিমি এবং কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন আলোচনায় অংশ নেন। দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভাটি পরিচালনা করেন।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিদেশী দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা এবং ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতার খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিলেন অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সেনাশাসক জিয়াউর রহমান। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে সেই খুনিদের জাতীয় সংসদে বসিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে জিয়া শুধু নিজেই নন, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্ট হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

খুনিরা সবসময়ই খুনিই হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই খুনিরাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে এবং বার বার হত্যার চেষ্টা করছে। কাজেই এদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের উন্নতি কী হবে? তিনি বলেন, অন্যায়ের মাধ্যমে যাদের ক্ষমতায় আরোহণ, তারা কখনো ন্যায়বিচার করতে পারে না।

তিনি বলেন, তার করে দেয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে উসকানি দিয়ে, মিথ্যা কথা বলে দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য কী? এখানে উসকানিদাতাদের অনেকেই অনেক বড় বড় আঁতেল হলেও তাদের রক্তের সূত্রটা ওই পাকিস্তানেই।