পণ্যবাজার

জ্বালানি তেল

পরিশোধন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা সৌদি আরামকোর

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২০:২৩:০০ মিনিট, জুন ১৪, ২০১৮

সৌদি আরামকো— সৌদি আরবের বৃহত্তম ও রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে কোম্পানিটি আয়ের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। শুধু জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও আর্থিক জায়ান্টদের মধ্যেও আয়ের দিক থেকে এগিয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলেছে সৌদি আরামকো। এ পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমানের দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোয় বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে সৌদি আরামকোর অংশীদারিত্ব আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর অয়েলপ্রাইস ডটকম, ব্লুমবার্গ ও অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ আল-জুদাইমি এক সাক্ষাত্কারে জানান, বর্তমানে সৌদি আরামকোর আওতাধীন কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন কেন্দ্রগুলো বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিশোধন করতে পারে। কয়েক বছরের মধ্যেই জ্বালানি পণ্যটির পরিশোধনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ সৌদি আরামকোর জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে দৈনিক এক কোটি ব্যারেলে পৌঁছে যাবে। আর ২০৪০ সাল নাগাদ পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনও দ্বিগুণ করবে সৌদি আরামকো।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের (সৌদি আরামকো) কৌশলগত লক্ষ্য খুবই পরিষ্কার। আমরা জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চাই। একই সঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই।’

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের তালিকায় সৌদি আরবের অবস্থান বিশ্বে প্রথম। দেশটির বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানি, সংক্ষেপে সৌদি আরামকো। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে সৌদি আরামকো নামে নতুন করে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত সৌদি আরামকো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত আছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সৌদি আরামকো মোট ৩ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা শুধু জ্বালানি নয় বরং প্রযুক্তি ও আর্থিক জায়ান্টদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ তালিকায় সৌদি আরামকো পেছনে ফেলেছে অ্যাপল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, জেপি মরগান, এক্সনমবিল, রয়াল ডাচ শেল, ফক্সওয়াগন, আলিবাবার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে। একই সঙ্গে জ্বালানি পণ্যের উত্তোলন ও আয়ের বিপরীতে ঋণের বিবেচনায়ও সৌদি আরামকো ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির নামে ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছিল। একই সময় অন্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমবিল ও রয়্যাল ডাচ শেলের ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ৭৯০ কোটি ও ৬ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অর্থনৈতিক সংস্কারের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সৌদি আরামকোর ৫ শতাংশ শেয়ার কিনতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির তহবিলে আরো ২০ হাজার কোটি ডলার যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে সৌদি প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরামকো।

আবদুল আজিজ আল-জুদাইমি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলো জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সৌদি আরামকোর জন্য বড় একটি সুযোগ। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে পরিবহন ব্যয় কম লাগায় এশিয়ার দেশগুলো সৌদি আরব থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত— দুই ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে দেবে। মূলত এশিয়ার ক্রমবর্ধমান বাজার ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরামকো।