আন্তর্জাতিক ব্যবসা

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যে ৫০ শতাংশ পতন

বণিক বার্তা ডেস্ক | ১৯:১৮:০০ মিনিট, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য গত মাসে ৫০ শতাংশের বেশি কমে এসেছে। উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘ আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় চীনের সমর্থনের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে এ প্রভাব পড়ে। গেল বছর কিম জং উনের উসকানিমূলক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ফলে উত্তর কোরিয়ার ওপর কয়েক দফা অবরোধ আরোপ করে জাতিসংঘ। খবর ব্লুমবার্গ।

শুক্রবার চীনের কাস্টমস বিভাগের প্রকাশিত উপাত্তে উঠে আসে, গত মাসে উত্তর কোরিয়ায় রফতানি হওয়া চীনা পণ্যের মোট মূল্য বছরওয়ারি ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরে দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ৮২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫১ শতাংশ।

২০১৭ সালের পুরো হিসাব নিলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা অর্থমূল্যে দাঁড়ায় ৫০০ কোটি ডলার। উত্তর কোরিয়ার ওপর চার দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিতে চীনের সমর্থন বাগিয়ে নিতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিল, কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য দেশটির সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী চীন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

জাতিসংঘ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করায় চীনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রায়ান হুক বলেন, ‘চীন অবরোধটি কার্যকর করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত।’

গেল বছরে উত্তর কোরিয়া তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এছাড়া বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এমন উসকানিমূলক আচরণের জবাবে দেশটির ওপর কয়েক দফা অবরোধ আরোপ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। দেশটি থেকে আমদানি-রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উত্তর কোরিয়া থেকে তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার ফলে মোট রফতানি রাজস্বের ৯০ শতাংশ হারায় দেশটি। 

কোরীয় উপদ্বীপে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। দুই বছর ধরে চলা দুই পক্ষের তিক্ত সম্পর্ক গত মঙ্গলবার একটি ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। দ্বিপক্ষীয় সে আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের প্রতিনিধি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানান উত্তর কোরিয়াকে।

কোরীয় উপদ্বীপটিকে পারমাণবিক হুমকিমুক্ত রাখার পক্ষে চীনের সমর্থন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র জোটের জবরদস্তিমূলক নীতিতে তাদের আপত্তি রয়েছে। চীন মনে করে, উত্তর কোরিয়ার ওপর কড়া অবরোধ দেশটিকে কোণঠাসা করে ফেলবে এবং ধ্বংসাত্মক কাজে বাধ্য করবে।