প্রথম পাতা

হৃদরোগের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত চিনি

বণিক বার্তা ডেস্ক   | ০১:৩৬:০০ মিনিট, অক্টোবর ০৯, ২০১৭

অতিরিক্ত চিনি খেলে হৃদরোগ হতে পারে। চিনির উপস্থিতিতে যকৃতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ইউনিভার্সিটি অব সারের গবেষকরা এ কথা জানিয়েছেন। খবর মেডিকেল নিউজ টুডে।

পরিপাকতন্ত্রে চর্বি স্থানান্তর ও ভাঙার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে যকৃতের। খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে যকৃতের এ দায়িত্বপালন বিঘ্নিত হয়। এতে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালিতে চর্বি জমাট বাঁধে, যা কার্যত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মাত্র তিন মাস অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খেলে যেকোনো সুস্থ মানুষের যকৃত্ ও রক্তে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে পারে বলে ইউনিভার্সিটি অব সারের গবেষণায় দেখা গেছে। ক্লিনিক্যাল সায়েন্স জার্নালে গবেষণাটির ফল প্রকাশ হয়েছে।

যকৃতে চর্বি জমাট বাঁধার সমস্যাটিকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) বলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণকারী মানুষের চর্বি পরিপাক প্রক্রিয়া এনএএফএলডি-আক্রান্তদের মতোই হয়ে থাকে।

সারে ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল মেটাবলিজম বিভাগের প্রফেসর ব্রুস গ্রিফিন বলেন, আমাদের গবেষণায় নতুন প্রমাণ মিলেছে, বেশি চিনি খেলে দেহের চর্বি পরিপাক প্রক্রিয়া পাল্টে যেতে পারে। এ পরিবর্তন এমন মাত্রার হয় যে, হৃদরোগের ঝুঁকিই বেড়ে যেতে পারে। হৃদরোগ হয় মূলত অ্যাথেরোস্লেরোসিসের কারণে। রক্তনালির অভ্যন্তরে চর্বি জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বিঘ্নিত হওয়াকেই অ্যাথেরোস্লেরোসিস বলা হয়। অ্যাথেরোস্লেরোসিসের কারণে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তনালিও বন্ধ হতে পারে। রক্তনালি বন্ধ হলে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক হয়। আর এ পুরো প্রক্রিয়াটির সূচনা হতে পারে চিনি থেকেই।

দুই দল লোকের ওপর ১২ সপ্তাহ পরীক্ষা চালিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সারের গবেষকরা তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। পরীক্ষার আওতাধীন মানুষের মধ্যে ১১ জন ছিল এনএএফএলডিতে আক্রান্ত, অর্থাত্ তাদের যকৃতে চর্বি বেঁধেছিল। আর একটি দলে ছিল ১৪ জন সুস্থ মানুষ। গবেষকরা দুটি দলের সবাইকেই নিয়মিত একই পরিমাণ ক্যালরির খাবার খেতে দেন। ক্যালরির পরিমাণ সমান হলেও খাবার ছিল দুই ধরনের। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যাদের দেয়া হয়, তাদের ক্যালরির ২৬ শতাংশ ছিল চিনি। আর স্বল্প চিনিযুক্ত খাবারে চিনির উপস্থিতি ছিল মোট ক্যালরির ৬ শতাংশ।

র্যানডমাইজড ক্রসওভার পদ্ধতিতে এ পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। অর্থাত্ পর্যবেক্ষণের আওতাধীন সবাইকেই দুই ধরনের খাবার দেয়া হয়। এর মধ্যে কেউ আগে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ও পরে স্বল্প চিনিযুক্ত খাবার খায়। আবার কেউ প্রথমে স্বল্প চিনিযুক্ত ও পরে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খায়। এরই মধ্যে দুই দলের সবার রক্তে লিপিড, কোলেস্টেরল তুলনা করা হয়। ১২ সপ্তাহ শেষে দেখা যায়, এনএএফএলডি-আক্রান্তদের চর্বি পরিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে এবং তাদের হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। অন্যদিকে যারা সুস্থ ছিল, ১২ সপ্তাহের মাথায় তাদের যকৃতের চর্বি জমাট বাঁধতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তাদের চর্বি পরিপাকক্রিয়াও এনএএফএলডি-আক্রান্তদের মতোই দেখা যায়।

গবেষণার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রফেসর ব্রুস গ্রিফিন বলেন, পুরো বিষয়টি নবীন প্রজন্মের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। আমরা পরীক্ষার প্রয়োজনে বয়স্কদের অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাইয়েছি। কিন্তু বেশি পরিমাণ ফিজি ড্রিংকস, ক্যান্ডি ও চকোলেট খাওয়ার কারণে শিশু ও টিনএজাররাও একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।