সর্বজয়া

১২ বছরেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

ফিচার ডেস্ক | ১৯:৫১:০০ মিনিট, মে ২০, ২০১৭

জেরেমির বয়স এখন ১৩ বছর, গত বছর আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পড়ার সুযোগ পেয়ে সে রীতিমতো হইচই ফেলে দেয়। নিয়মমাফিক সে যদি তার স্নাতক শেষ করতে পারে, তাহলে মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের কৃতিত্বের অধিকারী হবে সে। তার আগে এত কম বয়সে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের কৃতিত্ব দেখাতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী।

মাত্র ১০ বছর বয়সে রসায়ন, মেকানিকস, বিদ্যুত্ ও চুম্বকত্ব, পরিসংখ্যান, মাইক্রোইকোনমিকসের মতো বিষয়গুলো আয়ত্তে আনে সে। বিজনেস ইনসাইডারের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জেরেমি জানায়, ‘সেদিন যখন জানতে পারলাম কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় আমার ভর্তি আবেদন গ্রহণ করেছে, তখন দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলাম। ভাবছিলাম, নতুন নতুন অনেক কিছু শিখব একই সঙ্গে নতুন কিছু বন্ধু পাব। যদিও আমি ক্যাম্পাস জীবন সম্পর্কে খুব একটা অবগত নই। তবে এখানে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে আমার মাত্র সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে মনে করি।’

মাত্র ১৫ মাস বয়স থেকেই ইংরেজি বর্ণমালা আয়ত্তে আনে আমেরিকান পিতা ও কোরিয়ান বংশোদ্ভূত মায়ের এ সন্তান। নিজের সব খেলনা থেকে শুরু করে মেঝের টাইলস, দেয়ালের ওয়াল পেপার সর্বত্র সে অক্ষর আর সংখ্যা খুঁজে পেত। বয়স যখন দেড় বছর, তখন সে তার মাকে বলে, সিউলে তার বন্ধুর কাছে সে একটি ই-মেইলই পাঠাতে চায়। সে সময় মা তাকে কোরিয়ান অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরের দিন তিনি দেখেন, ছেলে তার কোরিয়ান ভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ আওড়াচ্ছে এবং পরবর্তীতে একটি কোরিয়ান বইও পড়তে শুরু করেছে। মাত্র দুই বছর বয়সে সে খুব সহজে ইংরেজি ও কোরিয়ান ভাষা পড়তে পারদর্শিতা অর্জন করে।

জেরেমি নিজের পঞ্চম জন্মদিনের আগেই প্রি-ক্যালকুলাস (ম্যাথমেটিকসের বিশেষ কোর্স) নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। ওই বয়সেই তার পড়া হয়ে যায় ফ্যান্টাসি নভেল ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’ কিংবা ‘জার্নি থ্রো জিনিয়াস: দ্য গ্রেট থিওরিমস অব ম্যাথমেটিকস’-এর মতো তথ্যবহুল বই।

মহাকাশ প্রকৌশলের ওপর ডক্টরেট করে জেরেমির মা হেরি শুলার কাজ করছিলেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানেই অ্যান্ডি শুলারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। জেরেমির জন্মের পর হেরি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছেলেকে বাড়িতে বসেই পড়াবেন। হাইস্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংক আর বিজ্ঞানের যে শিক্ষা দেয়া হয়, তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সন্তানকে তা তিনি নিজেই পড়াতে পারবেন।

কারন তিনি খুব সহজে বুঝতে পারেন, তার ছেলের বিশেষ এ মেধা সম্পর্কে। কয়েক বছর আগে জেরেমির মেধা পরীক্ষার জন্য মা-বাবা তাকে স্যাট পরীক্ষায় বসিয়ে দেন। সে বছর আমেরিকায় যারা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়, সবার থেকে বেশি স্কোর অর্জন করে জেরেমি। স্যাট সাবজেক্ট টেস্টে অংক, পদার্থ আর রসায়নে ৮০০ এবং ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি ও লাতিনে তার স্কোর আসে ৭৫০।

জেরেমির যেহেতু বয়স কম এবং তার কোনো হাইস্কুল সনদ নেই, তাই কোনো কলেজে আবেদন করতে পারছিল না সে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তার মা-বাবা তাকে টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির একটি অনলাইন প্রোগ্রামে ভর্তি করে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা।

তবে কর্নেলে ভর্তি হওয়ার গল্পটা বেশ রোমাঞ্চকর। এখানে ভর্তির আবেদন করার পর জেরেমিকে ভিডিও ইন্টারভিউ দিতে হয়। তার পূর্ববর্তী স্কোর আর সাক্ষাত্কারকালীন কৃতিত্বের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগ্রহী হয় তাকে ভর্তি করতে। মজার ব্যাপার হলো, এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বাবা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন আর তার পিতামহ ছিলেন এখানের শিক্ষক।

 

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট