রবিবার | জুলাই ১২, ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

টকিজ

‘গণ্ডি’র গল্পটি বলা প্রয়োজন ছিল

ভুবন মাঝিখ্যাত নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন খান। তার দ্বিতীয় ছবি গণ্ডি। ফেব্রুয়ারি ছবিটি মুক্তির কথা রয়েছে। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা সব্যসাচী চক্রবর্তী। গত ২৪ জানুয়ারি ছবির ট্রেইলার প্রকাশের পর গণ্ডি দর্শকদের নজর কেড়েছে। ছবিটি নিয়ে সম্প্রতি টকিজের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইসা জান্নাত

গণ্ডি ছবি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

এটি ভিন্নধর্মী একটি ছবি। দেশের প্রেক্ষাপটে সচরাচর ধরনের ছবি দেখা যায় না। আমার ধারণা ধরনের নতুনত্বকে দর্শক গ্রহণ করবেন। গণ্ডির ইতিবাচক দিক হলো এটি পারিবারিক ছবি। অনেক দিন পর দর্শকরা পরিবার নিয়ে ছবি দেখতে পারবেন। শিশু থেকে বৃদ্ধসব বয়সের দর্শকদের জন্যই গণ্ডি।

ভিন্নধর্মী বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত। এমন গল্প বাছাইয়ের কারণ?

কলকাতার লেখক শুভদ্বীপ রায়ের পথের সাথী নামে একটি গল্প পড়েছিলাম। গল্পের অনুপ্রেরণায় দেশের প্রেক্ষাপটে ছবিটি নির্মাণ করেছি। রকম গল্প বেছে নেয়ার কারণ, গল্পের ভেতরে বিশ্বজনীন মানবিক বোধসম্পন্ন জোরালো একটি বক্তব্য আছে। বয়স, সীমারেখা, ধর্ম ধরনের কোনো গণ্ডি দিয়েই বন্ধুত্বকে আটকে রাখা যায় না। আমার মনে হয়েছে, এই সময়ে গল্পটি বলা প্রয়োজন।

নির্মাণের শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে বেশ প্রচার-প্রচারণা দেখা গেছে...

একটু ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা থাকে সবসময়। সেদিক থেকে গণ্ডি অন্য রকম গল্পের একটি ছবি। ধরনের চলচ্চিত্রের দর্শকরা অনেক দিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে আসেন না। তাছাড়া দর্শকদের বাংলা চলচ্চিত্র দেখার প্রবণতাও কমে গেছে। এসব কারণে একটি ছবির শুরু থেকেই বেশ সচেতন থাকতে হয়। ছবির গল্প, ধরনসবকিছু জানিয়ে, বুঝিয়ে তারপর তাদের প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসতে হয়। কাজেই গণ্ডি ছবির গল্পটা কী, এটা কী ধরনের ছবিশুরু থেকেই এগুলো দর্শকদের জানানোর চেষ্টা করেছি।

আপনার কথার প্রসঙ্গ ধরে বলছি, দর্শকদের চলচ্চিত্র দেখার প্রবণতা কমে গেছে, পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের সংকট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতিতে ছবিটি কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে হয়?

গণ্ডি ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাবে। মুক্তির তালিকায় সেদিন অন্য কোনো ছবি নেই। স্বাভাবিকভাবেই সেদিন অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহ ফাঁকা থাকবে। কিন্তু আমি মাত্র ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি দিচ্ছি। ঢাকার বাইরে বগুড়া, কক্সবাজার খুলনায় ছবিটি মুক্তি পাবে। এত কম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়ার কারণ, দেশের সব প্রেক্ষাগৃহের অবস্থা ভালো নয়। স্ক্রিন, প্রজেক্টর উন্নত নয়। ভুবন মাঝি ছবির অভিজ্ঞতা খুব খারাপ ছিল আমার। সে সময় আমি নিজে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ পর্যবেক্ষণ করেছি। তাছাড়া হলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই ছবির মান ভালো হবে ধারণাটি ভুল। কতটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল তার তুলনায় দর্শকরা ভালোভাবে ছবি দেখতে পারছেন কিনা, বিষয়টি আমার কাছে বেশি গুরুত্বের।


ভুবন মাঝির মতো ছবির গানের ক্ষেত্রেও কি কোনো বিশেষ নজর দিয়েছিলেন?

গণ্ডি ছবিতে চারটি গান রয়েছে। সবগুলো গানই দর্শকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ নজর নয়, বরং বলতে চাই গানের ক্ষেত্রে আমি বরাবরই ভাগ্যবান। ভুবন মাঝি ছবিতে আমি কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে পেয়েছিলাম। অনেকটা ভাগ্যের জোরেই। আবার গণ্ডি ছবির সংগীত আয়োজনে আমি দেবজ্যোতি মিশ্র এবং দ্বীপ লয়ের মতো দুজন সুরকারকে পেয়েছি। একজন নির্মাতার কাজ হলো একটি পরিস্থিতি সুরকারের কাছে তুলে ধরা। তারপর সে অনুযায়ী সুরকার সুর বের করে আনেন। আমার ছবির গানে তারা চমত্কার সুর করেছেন।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য সুবর্ণা মুস্তাফা সব্যসাচী চক্রবর্তীকে নেয়ার কারণ?

সুবর্ণা মুস্তাফার যে চরিত্র, সেটার জন্য তাকেই আমার পারফেক্ট মনে হয়েছে। সব্যসাচী চক্রবর্তীর চরিত্রটির জন্য তাকে নেয়ার পেছনে একটি কারণ ছিল। তিনি তার পুরো ক্যারিয়ারে কোনো রোমান্টিক কাজ করেননি। তাকে গোয়েন্দা, ফেলুদা ধরনের চরিত্রে বেশি দেখা গেছে। তিনি নিজেই বলেছেন, রোমান্টিক চরিত্রে তার কাজের অভিজ্ঞতা নেই। জায়গা থেকে তার চরিত্রে নতুনত্ব সৃষ্টি করা।

তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তাদের সঙ্গে কাজ করা জীবনের একটা বড় অর্জন। কাজের অভিজ্ঞতা আমার সবসময় মনে থাকবে। তাদের পেশাদারিত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং কাজের প্রতি গুরুত্বসবকিছু অসাধারণ।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন