বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রঙঢঙ

শীতেও অটুট প্রাণবন্ত ঠোঁট

প্রিয়তা চৌধুরী

বাহ্যিক শতভাগ রূপরহস্যের একটা বড় অংশ লুকিয়ে রয়েছে ঠোঁটে। কোমলময়ীর গোলাপ রাঙা ঠোঁটের একটা মিষ্টি হাসিতে উবে যায় কাচভাঙা ব্যথা-বেদনা। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আবেগ-অনুভূতি প্রকাশের এ অঙ্গই চোখে পড়ে সবার আগে। কিন্তু ঠাণ্ডা মৌসুমে সৌজন্যবোধের হাসি ফোটানো ঠোঁটে হিম বুড়ি পরিয়ে দেয় শিকল। ঠোঁট ঢেকে যায় শুষ্কতার আবরণে। শীতের মাসগুলোয় ঠোঁটে প্রাণ ধরে রাখতে একটু আগে থেকেই প্রয়োজন বাড়তি খেয়ালের। রোজকার রূপ রুটিনেই জুড়ে দিন সেসব—

 

ঠোঁট পেলব রাখার প্রথম শর্ত তা ময়েশ্চারাইজ রাখা। আমাদের ত্বকের নিচে রয়েছে সিবেসাস নামের গ্ল্যান্ড। এ গ্ল্যান্ড সিবাম নামে এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ উত্পন্ন করে, যা ত্বককে রাখে মসৃণ। আমাদের ঠোঁটেও কিছু পরিমাণ সিবাম উত্পন্ন হয়। শীতে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে বলে প্রয়োজন একটু বেশি ময়েশ্চারাইজার। তাই ঠোঁটে সবসময় পেট্রোলিয়াম জেলি, লিপ বাম অথবা কোকো বাটার লাগান। বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে রাখুন পেট্রোলিয়াম জেলি।

শীতে ঠোঁটে কালচে স্তর পড়ে যায়। সহজ উপায়ে কালচে ভাব দূর করতে রাতে শোয়ার আগে এক স্লাইস শসা ঠোঁটে ২-৩ মিনিট ঘষুন। কিছুক্ষণ রেখে পানিতে কটন বল ভিজিয়ে ঠোঁট মুছে ফেলুন। ঘুমানোর আগে লিপ বাম দিয়ে ঘুমান।

যাদের ঠোঁট এমনিতেই একটু শুষ্ক, এ সময় তাদের ঠোঁটের ওপরে ও নিচে ছোট ছোট আঁশের মতো ওঠে। এমন হলে বেদানার রস ও দুধের সর একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। ৩ টেবিল চামচ বেদানার রসের সঙ্গে ২-৩ চা চামচ দুধের সর পেস্ট করে রোজ ঠোঁটে লাগালে অল্প দিনেই ঠোঁট হয়ে উঠবে মসৃণ ও গোলাপি।

প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ করতে দুধে গোলাপের পাপড়ি ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এর পর পাপড়িগুলো তুলে পেস্ট করে নিন। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু ও গ্লিসারিন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান।

যাদের ঠোঁট কালো, তারা রঙ হালকা করতে এক টুকরো লেবুর ওপর চিনি ছড়িয়ে ঠোঁটে ঘষুন চিনির দানা নরম হয়ে গলে যাওয়া পর্যন্ত। নিয়মিত করলে ঠোঁটে গোলাপি আভা ফুটে উঠবে। লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ, যা ত্বকের রঙ হালকা করে। অন্যদিকে চিনি কার্যকর এক্সফলিয়েন্ট হিসেবে মরা কোষ দূর করে।

নরম-কোমল ঠোঁটের জন্য অ্যালোভেরা জেল ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ঠোঁটে পুষ্টি জোগাতে আঙ্গুরের রস লাগাতে পারেন। এর মধ্যকার ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ঠোঁটকে কোমল ও গোলাপি করে।

ঠোঁটের জেল্লা বাড়াতে সমপরিমাণ হলুদ গুঁড়ো ও দুধ দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে ঠোঁটে লাগান। এক সপ্তাহ বাদে উন্নতি টের পাবেন। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে মধু, চিনি ও আমন্ড অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে ১০ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করুন। এটি ঠোঁটের মরা কোষ দূর করে ঠোঁটকে সুন্দর ও কোমল রাখবে।

শীতকালে ঠোঁটের মরা কোষ দূর করার সহজ বুদ্ধি হচ্ছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠোঁটে একটু বেশি পরিমাণে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। ৫ মিনিট পর পুরনো টুথব্রাশ পানিতে ভিজিয়ে ঠোঁট ব্রাশ করে নিন। এতে সহজেই মরা চামড়া পরিষ্কার হবে। এর পর চাইলে এক টুকরো লেবু ঘষে ঠোঁট ক্লিনজিংয়ের কাজটা সেরে নিতে পারেন।

বাইরে বের হওয়ার সময় ঠোঁটে আগে নারকেল তেল লাগান। তেল বসে গেলে লিপস্টিক পরুন। গ্লসি ভাব আনতে লিপস্টিকের ওপর আরেকটু নারকেল তেল ঘষে নিন। এতে ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ থাকবে, ঠোঁটে গ্লসি ভাবও আসবে আর হবে রোদ সুরক্ষাও।

রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ঠোঁট থেকে লিপস্টিক তুলে ফেলতে হবে। বাইরে থেকে এসে ঠোঁটে বেবি অয়েল, আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল লাগান। তার পর কটন বল দিয়ে লিপস্টিক মুছে নিন। প্রয়োজন হলে ঠোঁটের স্ক্রাবিং সেরে ফেলতে পারেন। আর হ্যাঁ, ঘুমানোর আগে ঠোঁটে একটু বেশি পরিমাণে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে যান।