বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রঙঢঙ

পুরুষের চুল পড়া রোধে ৯ দেখাশোনা

সানজিদা হক

ছেলেদের চুল পড়ে গেলে বয়সটা যেন আচমকাই বেড়ে যায়! চুল পড়ে মাথার একাংশ খালি হয়ে গেলে হেয়ারস্টাইল তো দূরে থাক, টুপি, ব্যান্ডানা আর স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকতে হয় তাদের।

একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক ১০০টি চুল পড়তে পারে। তবে ডায়েট, খনিজের অভাব, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, স্ট্রেস, দূষণ ও বংশগত ইত্যাদি অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ হতে পারে। অধিকাংশ সময় মাথায় হ্যাট, ক্যাপ ও হেলমেট পরার কারণেও চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন পুরুষেরা। চুল পড়ার সমস্যাকে বিদায় জানাতে থাকছে কিছু সহজ সমাধান—

রোজ কোমল শ্যাম্পু

চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে চুল পরিচ্ছন্ন থাকছে কিনা। চুল পড়া কমাতে প্রথম সমাধান রোজই কোমল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ও স্কাল্প পরিষ্কার করা। এতে ইনফেকশন ও খুশকির কারণে চুল ভেঙে যাওয়া ও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

 

খাবারে ভিটামিন ও প্রোটিন

শরীরে যদি ভিটামিনের ঘাটতি থাকে, তাহলে চুল পড়তে পারে। ভিটামিন এ মাথার ত্বকে সিবাম উত্পন্ন হতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গ্রন্থিকোষকে উত্পাদনশীল রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন বি চুলের স্বাস্থ্যকর রঙ ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। চর্বিমুক্ত মাংস, মাছ, মটরশুঁটি ও অন্যান্য প্রোটিন চুল পড়া কমাতে সহায়তা করে।

 

তেল ম্যাসাজ

যেহেতু রোজই শ্যাম্পু করার কথা বলা হচ্ছে, সেহেতু খেয়াল রাখতে হবে শ্যাম্পুর কারণে যেন চুলের ময়েশ্চার চলে না যায়। তাই বাড়ি ফিরে প্রথমে চুলে ঈষদুষ্ণ নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। তেলের সঙ্গে দুই ফোঁটা আমন্ড বা তিলের তেল যোগ করে নিতে পারেন। ম্যাসাজের আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন।

 

ভেজা চুল আঁচড়াতে নেই

চুল সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় থাকে যখন তা ভেজা থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ানো যাবে না। এতে চুল পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চুল মুছে আঙুল অথবা মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল সেট করে নিন।

 

রসুন, পেঁয়াজ বা আদার রস

রাতে ঘুমানোর আগে রসুন, পেঁয়াজ অথবা আদার রস মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। টানা এক সপ্তাহ এ পদ্ধতি মেনে চললে শিগগিরই ফলাফল পাবেন।

 

হাইড্রেশন

চুলের গোড়ার এক-চতুর্থাংশই পানি। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।

 

গ্রিন টি ম্যাসাজ

গবেষণায় দেখা গেছে, স্কাল্পে গ্রিন টি ম্যাসাজ চুল পড়ার সমস্যা সমাধান করে। এর জন্য এক কাপ গরম পানিতে দুটো গ্রিন টি ব্যাগ দিয়ে রেখে দিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তা স্কাল্প ও চুলে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পদ্ধতিটি এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন অব্যাহত রাখুন।

 

ঘামে ভেজা নয়

যেসব পুরুষের চুল তৈলাক্ত, তারা গ্রীষ্মেও খুশকির সমস্যায় ভোগেন। ফলে চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দেয় সমানতালে। এক্ষেত্রে বেছে নিন অ্যালোভেরা ও নিমের গুণাগুণসমৃদ্ধ শ্যাম্পু। যেসব পুরুষ হেলমেট ব্যবহার করেন, তাদের চুল খুব বেশি ঘামে। মাথার ত্বক ঘামার ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। তাই হেলমেট পরার আগে চুলটা স্কার্ফ দিয়ে জড়িয়ে তার পর হেলমেট পরুন। বাড়ি ফিরে বাতাসে চুল শুকিয়ে তার পর গোসলে যান।

 

ফিটনেস

চুল পড়ার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, জ্বর ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাছাড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও চুল পড়তে পারে। যদি এমন হয় যে, কোনো ওষুধ সেবনের পর থেকে চুল পড়া শুরু হয়, তাহলে তা ডাক্তারের নজরে আনতে হবে। এতে বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।