বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রঙঢঙ

কেমন করে বাঁধব চুল?

ঘরে-বাইরে কিংবা ভ্রমণকালে!

২৪ বছরের তরুণী তূর্ণা। এ বয়সেই সমানতালে সামলে নিচ্ছেন কর্মস্থল ও পড়াশোনা। সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে পৌঁছা, এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়ই শুরু হয়ে যায় ইভিনিং এমবিএর ক্লাস। শুধু ক্যারিয়ার নয়, ফ্যাশন নিয়েও দারুণ এগিয়ে তূর্ণা। কিন্তু সমস্যাটা ওখানেই। অফিস আর বিশ্ববিদ্যালয় উভয় স্থানকে একসঙ্গে সামাল দিতে এমন পোশাক ও হেয়ারস্টাইল করে নিতে হয়, যাতে মানিয়ে যায় সবখানেই। আবার তারই ছোট বোন বর্ণা স্কুলে নবম বর্ষের ছাত্রী। রোজ চুলে দুই বেণি আর এক বেণি গেঁথে স্কুলে যেতে যেতে সে বিরক্ত। কোঁকড়া বলে চুলগুলো ঘরেও বেঁধে না রাখলেই নয়। ভীষণ ভ্রমণপিয়াসু এ দুই বোনকেই ছুটির দিনে বাড়িতে রাখাই দায়। কিন্তু এমন দিনগুলোয় ড্রেসিং টেবিলের সামনেই নষ্ট হয় অনেকটা সময়। কীভাবে বাঁধবে চুল? কী করে হবে তা সহজ আর সবার চেয়ে আলাদা?

 

ঘরের চুল

ঘরে অনেকে চুল খোলা রেখে অভ্যস্ত। আবার অনেকে খোলা চুলেই অস্বস্তিবোধ করেন। গোসলের পর পরই চুলে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে খোঁপা বেঁধে নেন। তবে এটি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। গোসলের পর চুল স্বাভাবিকভাবে বাসায় শুকিয়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিতে হবে। অনেকক্ষণ ধরে চুল আঁচড়ালে চুলের রুক্ষতা কমে যায়। ঘরে চুল বাঁধতে খুব বেশি আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। চুল যদি হয় মাঝারি বা লম্বা দৈর্ঘ্যের, তাহলে গোছাল ভাব আনতে মাঝ বরাবর সিঁথি কেটে কাঁধ ছুঁয়ে হালকা হাতখোঁপা করে নিতে পারেন। সামনে দিয়ে চুল কাটা থাকলে সেগুলোকে আঁচড় কেটে কানের দুই পাশে কালো ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। উষ্কখুষ্ক কোঁকড়া চুলগুলো যদি কাঁধ বরাবর বা কাঁধ বেয়ে খানিক নিচে নেমে যায়, তাহলে তাকে বাগে আনতে উঁচু করে পনিটেইল করুন। এবার চুলগুলোকে হাতের সাহায্যে টুইস্ট করে ডোনাটের মতো খোঁপা করে চুলের শেষ মাথায় ছোট পাঞ্চ ক্লিপ আটকে দিন। চুল খোলা রেখে আরাম পেলে সব চুল কপাল থেকে উল্টো করে আঁচড়ে মাথার পেছনে আলগা করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে রাখুন। অথবা মাথার ওপর থেকে অর্ধেকটা চুল নিয়ে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। এতে কাজ করার সময় চুল মুখে এসে পড়বে না। যাদের &dquote;&dquote;চুল কাঁধ বরাবর বা আরো ছোট অথবা সিল্কি, তারা চুলে হেডব্যান্ড ব্যবহার করুন। একপাশে সিঁথি করে কপাল থেকে কিছু পরিমাণ চুল নিয়ে টুইস্ট করুন। এর পর একটু ফুলিয়ে ববি ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। লম্বা চুলের অধিকারীরা চুল সামলাতে হতে পারেন খানিক ক্লাসিক্যাল। কপাল থেকে শুরু করে মাথার পেছনের শেষ পর্যন্ত মাঝ বরাবর সিঁথি কাটুন। এর পর দুই ভাগে ভাগ করে চুলগুলো খুব করে আঁচড়ে নিন। এবার দুই পাশে দুটো হাত খোঁপা করে নিলেই হয়ে গেল ঘরোয়া হেয়ারস্টাইল।

বাইরে হরহামেশা

হাইস্কুল ও কলেজগামী মেয়েদের চুল নিয়ে খুব বেশি কিছু করার নেই। কারণ সেখানে ছকবাঁধা নিয়মের বাইরে হেয়ারস্টাইল অনেকটা অগ্রাহ্যই বলা চলে। সেক্ষেত্রে পনিটেইল সহজ ও স্টাইলিশ হেয়ারস্টাইলের পরিচয় হতে পারে। উঁচু করে পনিটেইল করে কালো রাবার ব্যান্ড দিয়ে চুলটা শক্ত করে বেঁধে নিতে হবে। এবার বাম পাশ থেকে আধা ইঞ্চি চুল নিয়ে সেটিকে বেণি করুন। এর পর বেণিটি দিয়ে রাবারব্যান্ড দিয়ে বাঁধা অংশটা জড়িয়ে ছোট পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে পনিটেইলের নিচে লাগিয়ে দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়ারা ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে ফিশটেইল বেণি করে মাথায় ফ্লোরাল হেডব্যান্ড পরতে পারেন। পালাজ্জো, স্কার্ফ জ্যাকেট ও টি-শার্টের সঙ্গে চুলটাকে সেট করতে মাঝ বরাবর সিঁথি কাটুন। এবার দুই পাশেই সামনে থেকে কিছু পরিমাণ চুল নিয়ে বেণি করুন। ইচ্ছে হলে টুইস্ট করে নিতে পারেন। এবার দুই পাশের বেণি বা টুইস্ট করা চুল মাথার পেছনে নিয়ে স্টোনের পাঞ্চ ক্লিপ অথবা পার্লার ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। যাদের চুল বেশ কার্লি ও লম্বা, তারা অনেক সময় চুল ছেড়ে দিতে ইতস্তত বোধ করেন। কিন্তু এটাই যে আলাদা ঢঙ, সেটা জানেন তো! এমন চুলও খুলে রাখতে মানা নেই। চুল শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে খানিকটা হেয়ার জেল লাগিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এক পাশে এক-দেড় ইঞ্চি সিঁথি কেটে বাকি চুল পেছনের দিকে উল্টো করে আঁচড়ান। এর পর একরঙা, পলকা ডট বা ছাপার স্কার্ফ বেঁধে নিন সিঁথির শেষ চিহ্ন থেকে। স্কার্ফ নটটি মাথার পেছনে ঘাড় বরাবর দিলে স্কার্ফের দুই কোনা কাঁধের দুই পাশ থেকে সামনে ঝুলিয়ে রাখুন। এক পাশে নট বাঁধলে তা বাম পাশে কানের কিছু উপরে বাঁধুন। স্টোনের একটি ব্রুজও লাগিয়ে নিতে পারেন।

কর্মজীবী নারীদের হেয়ারস্টাইল হওয়া উচিত পেশা অনুযায়ী। তাছাড়া পোশাক কী পরছেন, তাও বিবেচনার বিষয়। এখনকার সময় হেয়ার বামপিটস খুব চলছে। চুলের সামনের অংশটা ব্যাংস কাট দিয়ে স্ট্রেট রেখে কিছু চুল বামপিটস দিয়ে একটু ফুলিয়ে পাঞ্চ অথবা পার্লার ক্লিপ দিয়ে আটকে দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে চুল যদি স্ট্রেট হয়, তাহলে তা ছেড়ে রাখা যেতে পারে। আর যদি কোঁকড়া হয়, তবে উঁচু করে খোঁপা বেঁধে নিন। চুল সোজা হলে অবশ্য খোলা রাখলেও ভালো দেখাবে। হাফ বান করে রাখলেও ভালো দেখাবে। তবে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় চুল খোঁপা করে বের হওয়া উচিত। কারণ পথের ধুলোবালিতে চুল নষ্ট হয়ে যায়, স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায় ও সারা দিনের তরতাজা ভাব থাকে না।

 

ভ্রমণের সময়

ভ্রমণের সময় চুলটা কীভাবে বাঁধবেন, তা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়ার চেয়ে পরিবেশ ও দূরত্বের সঙ্গে মেলানো উচিত। প্রথম কথা, ভ্রমণে চুল খোলা না রাখাই ভালো। যদি চুলের দৈর্ঘ্য কাঁধ পর্যন্ত থাকে, তাহলে বেশ। কিন্তু এর চেয়ে বড় চুল খোলা রাখা যাবে না। রোদ, ধুলোবালি, গাড়ির ধোঁয়া বা দূষণ চুলকে খুব দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। তাই চুল বেঁধে সুদূরযাত্রায় বের হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কাঁধ বরাবর খোঁপা, পনিটেইল বা পাঞ্চ দিয়ে চুল সেট করা থেকে বিরত থাকুন। এতে যাত্রার সময় আপনার রিল্যাক্সমেন্ট সমস্যা হতে পারে। খুব শক্ত করে বা খুব লুজ করে চুল বাঁধা যাবে না। এতে অস্বস্তি হতে পারে। চুল আঁচড়ে মাথার একদম উপরে খোঁপা বেঁধে নিতে পারেন। চুল সামলাতে ব্যবহার করা যেতে পারে হেডব্যান্ড। পোশাকের ধরন বুঝে দুই পাশে দুটো বেণি করে নেয়া যায়। সেক্ষেত্রে ডাবল ফিশটেইল হবে অভিনব। অনেকে চুল বেণি করেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রতিদিন এক ঘরানার বেণি লুকে একঘেয়েমি এনে দেয়। বেণিকেই যদি বিভিন্নভাবে করা যায়, তাহলে ওই হেয়ারস্টাইলেই ফুলস্টপ বা দাঁড়ি বসিয়ে দিতে পারেন। তবে মাঝারি দৈর্ঘ্যের চুল হলে নানা রকম বেণি করা সহজ। সেক্ষেত্রে ট্রাই করা যেতে পারে চারটি সহজ বেণি—

 

চার ভাগে বিনুনি

বেণি করার সময় চুলকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু পুরনো ঢঙ ভাঙতে বেণি করার সময় চুলকে ভাগ করে নিতে পারেন চার ভাগে। সেক্ষেত্রে বেণিটা দেখতে সাধারণ বেণির কাছাকাছি হলেও ছড়াবে ভিন্নমাত্রা। তিনটির জায়গায় চুলের চারটি ভাগ হওয়ায় ঝামেলার কিছু নেই। নিয়মটা সাধারণ বেণির মতোই হবে। শুধু বুনটের দিকে খেয়াল রাখুন। বেণি করার সময় আসার সামনে দাঁড়িয়ে করলে বুঝতে পারবেন বেণি করা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। এ বেণি দিনের বেলা বাইরে বের হওয়ার সময় করা যেতে পারে। বরং সাধারণ বেণির চেয়ে এটি চুলে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। বেশ কিছুদিন চর্চা করলে নিজেই পাঁচ, ছয় এমনকি ১১ ভাগে চুলকে ভাগ করেও বেণি গাঁথতে পারবেন।

 

ফিশটেইল বেণি

ফিশটেইল বেণি এখন খুব চলছে। ক্লাসে ওয়েস্টার্ন লুকে পরিপাটি হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গাউন পরে পার্টিতে যাওয়া পর্যন্ত সবখানেই ফিশটেইল বেণি মানানসই। ফিশটেইল বেণি করতে চুলকে সমান দুই ভাগে ভাগ করুন। বাম পাশের ভাগ থেকে আধা ইঞ্চি আরেকটি ভাগ বের করুন। এবার সেটিকে ওপর দিকে তুলে ডানপাশের ভাগের নিচে চুলের সঙ্গে মিলিয়ে দিন। এবার ডান &dquote;&dquote;পাশের ভাগ থেকে আধা ইঞ্চি চুল নিয়ে আরেকটি ভাগ করুন। এবার একইভাবে তা উপরের দিকে টেনে বাম পাশে চুলের ভাগের নিচে নিয়ে যান। ঠিক এভাবে বেণি গাঁথতে থাকুন একদম চুলের আগা পর্যন্ত। একটি ক্লিয়ার রাবার ব্যান্ড দিয়ে নিচের অংশ বেঁধে নিন। এ বেণি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন তা শক্ত হয়। বেণি হয়ে গেলে গোড়া থেকে নিচের হেয়ার ব্যান্ড পর্যন্ত বেণিটি দুই পাশ থেকে টেনে প্রশস্ত করে দিন। মুখের শেপ অনুযায়ী মাঝখানে বা এক পাশে সিঁথি কেটে বেণি করলে ভালো দেখাবে।

 

লেইস বেণি

চুল দিয়েই হোক হেডব্যান্ড। মাথার সামনের অংশের চুল চিরুনি কেটে ভাগ করুন। বাম কান থেকে ডান কান পর্যন্ত যতটুকু চুল রয়েছে। পেছনের বড় অংশের চুলকে একটি হেয়ারব্যান্ড দিয়ে বেঁধে নিন। এখন বাম কানের পাশ থেকে চুল নিয়ে বেণি গাঁথতে থাকুন ডান কান পর্যন্ত। এবার বেণির বাড়তি অংশের চুল একটি ক্লিয়ার রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে পার্লার ক্লিপ দিয়ে মূল চুলের নিচে পিনআপ করে দিন।

 

ওয়াটারফল বেণি

সিম্পল হেয়ারস্টাইলে অভ্যস্তরা চুলে বইয়ে দিতে পারেন জলপ্রপাত। প্রথমে চুলটাকে আঁচড়ে নিতে হবে। স্ট্রেট চুল হলে ভালো হয়। সাধারণ কোঁকড়া হলেও মানিয়ে যাবে। চুল সামনে যদি বেবি কাট বা ব্যাংস কাট হয়, তাহলে সে অংশটুকু রেখে বাকি চুলের এক-তৃতীয়াংশ উপর থেকে আলাদা করুন। এবার বেণি গেঁথে রাবারব্যান্ড দিয়ে আটকে নিন। ব্যস, হয়ে গেল ওয়াটারফল বেণি।

 

ব্যাগে রাখা চাই

দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় ব্যাগে রাখতে হবে চিরুনি, হেয়ার জেল, বেশ কয়েকটি রাবার ব্যান্ড, হেডব্যান্ড, বিভিন্ন আকারের কয়েকটি পাঞ্চ ক্লিপ, স্কার্ফ ও পার্লার ক্লিপ। শুধু ভ্রমণ নয়, সবসময় হ্যান্ডব্যাগে রাখুন কয়েকটি শ্যাম্পুর মিনি প্যাক। কারণ হঠাত্ প্রয়োজনে যেন ব্যবহার করা যায়। রাখতে পারেন ভালো ব্র্যান্ডের কোনো হেয়ার সিরাম। চুল শুষ্ক মনে হলে বুলিয়ে নেয়ার জন্য।