বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৯, ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

সিল্করুট

রেল আর চা নিয়ে ডিব্রুগড়ের ঔপনিবেশিক কালপর্ব

ফজল হাসান

তৎকালীন ভারতবর্ষের আসাম রাজ্য ব্রিটিশদের করতলে বন্দি হওয়ার অনেক আগেই আঠারো শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশরা আসামের মাটিতে পা রেখেছিল। তাদের সেই পদার্পণের অন্তরালে লুকিয়ে ছিল বিশেষ এক উদ্দেশ্য। কথিত আছে, তখন চা নিয়ে চীনাদের সঙ্গে ব্রিটিশদের মধ্যে এক ধরনের মনকষাকষি চলছিল। তাই চীনা চায়ের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোর জন্য ব্রিটিশরা বিকল্প পথের সন্ধানে নেমেছিল। একসময় আসামের বিখ্যাত চায়ের, যা বর্তমানে Camellia Asamica বা (আসাম চা) নামে বিশ্বজুড়ে সুপ্রসিদ্ধ, সুগন্ধ ব্রিটিশদের নাকে গিয়ে সুরভি ছড়িয়েছিল। সেই সুগন্ধিতে বুঁদ হয়ে তারা ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠা করে আসাম রেলওয়েজ অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি সংক্ষেপে এআর অ্যান্ড টিসি) পরবর্তী সময় সেই কোম্পানি আসামের উর্বর জমিতে চা উৎপাদন করে ব্রিটেনে রফতানি করা শুরু করেছিল।

তবে সেই সময়ে চা রফতানির কাজটি খুব সহজ ছিল না। কেননা উৎপাদিত চা পরিবহন করার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। উল্লেখ্য, আসামের উত্তরে চাবুয়া (চা অর্থাৎ চা এবং বুয়া অর্থ উৎপাদন) নামক এলাকায় বেশির ভাগ চা উৎপাদন করা হতো এবং তা ছিল ডিব্রুগড়ের অদূরবর্তী নদীবন্দর থেকে অনেক দূরে। যথাযথ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত চা কারখানা থেকে নদীবন্দরে নিয়ে যাওয়া ছিল রীতিমতো অসম্ভব কাজ। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য ব্রিটিশরা ডিব্রুগড়ের নিকটতম নদীবন্দরের সঙ্গে চা উৎপাদন এলাকার মধ্যে রেললাইন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে ভারতের সবচেয়ে উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত সেই রেলপথেরই নামকরণ করা হয় ডিব্রুগড়-শদিয়া রেললাইন

ডিব্রুগড়-শদিয়া রেললাইন নির্মাণের ইতিহাস এবং গুরুত্ব সম্পর্কে জানার আগে ডিব্রুগড় জেলার চা শিল্পের কথা জানা প্রয়োজন। বলাবাহুল্য, ডিব্রুগড়ের আরেক পরিচয় হলো টি টাউন অব ইন্ডিয়া, অর্থাৎ ভারতের চায়ের শহর ডিব্রুগড়ের সেই পরিচিতির সীমানা শুধু তদানীন্তন ভারতবর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ডিব্রুগড়ের নাম ছড়িয়ে পড়েছিল পাশ্চাত্যে। তার অন্যতম কারণ ছিল চা উৎপাদনে ডিব্রুগড়ের ভূমিকা ছিল অপরিসীম, অকল্পনীয়। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান দিয়ে বলা যায় ১৯৮০ সালে সমগ্র ভারতে সর্বমোট চা উৎপাদিত হয়েছিল ৫৭৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। শুধু আসাম রাজ্যেই উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ছিল ৩০৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম এবং তার মধ্যে ৯২ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা উত্পন্ন হয়েছিল ডিব্রুগড় জেলায়। আগে ভারত থেকে মোট চা রফতানি হতো ২২৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। তার মধ্যে আসাম রাজ্য থেকে রফতানি হতো ১২০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশ। সেই ৫৩ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ ডিব্রুগড় জেলা থেকে, বিশেষ করে ডিব্রুগড় শহর থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে চাবুয়া এলাকার চা বাগান থেকে। উল্লেখ্য, সেখানেই প্রথম আদি গাছপালার সঙ্গে চা উৎপাদন শুরু হয়েছিল।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পরে ইউরোপীয় লগ্নিকারীরা আসামের চা বাগানে বিনিয়োগ করতে দারুণ আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কেননা অন্যান্য জায়গার তুলনায় তখন আসাম ছিল শান্ত। তাই সেখানে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা তাদের অর্থকড়ি বিনিয়োগ করেছিল চা উৎপাদনের পেছনে। এছাড়া যেসব ব্যবসায়ী গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় নীল চাষে অর্থবিনিয়োগ করেছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায় আসামে এবং চা উৎপাদন ব্যবসা শুরু করে। ফলে চা বাগানের মালিকদের কণ্ঠে আরো শ্রমিক চাই, অনেক শ্রমিক আপ্ত বাক্যটি উচ্চারিত হয়। কেননা বন-জঙ্গল সাফ করে চা বাগান শুরু করার সময় স্বাভাবিক কারণেই প্রচুরসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই কায়িক পরিশ্রমের কাজ করতে মোটেও রাজি ছিল না। তাই শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করার জন্য চা বাগানের মালিকরা বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়ে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক আমদানি করেছিল। কিন্তু পরে তারা সেসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, বরং অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর রীতিমতো নির্যাতন করেছে।

তবে কথা সত্যি, চা উৎপাদনই ডিব্রুগড়ের নগরায়ণ ত্বরান্বিত করেছিল। ডিব্রুগড়ের ইতিহাস সম্পর্কে দীপালি বড়ুয়া তার আরবান হিস্ট্রি অব ইন্ডিয়া: কেস স্টাডি গ্রন্থে লিখেছেন: ডিব্রুগড়কে ১৮৪০ সালে জেলা সদর করা হয়। কিন্তু তা শুধু কৌশলগত গুরুত্বের জন্যই নয়, শিগগিরই শহরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আসামে ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ ছিল শহরের চারপাশে বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করা। ১৮২৩ সালের প্রথম দিকে ব্রিটিশরা শদিয়া অঞ্চলে চা আবিষ্কার করে। এছাড়া ডিব্রুগড় থেকে ২০ মাইল পূর্বে চাবুয়াতে ব্রিটিশরা স্থানীয় আদি উদ্ভিদের সঙ্গে চা চাষের প্রথম পরীক্ষা করে। পরবর্তী সময় ডিব্রুগড় শহরের কাছাকাছি এলাকায় তেল এবং কয়লা আবিষ্কৃত হয়। ১৮৮২ সালে ডিগবোইতে তেলের সন্ধান পাওয়া যায় এবং ১৮৭৬ সালে মার্ঘেরিটাতে কয়লা আবিষ্কৃত হয়। সেসব শিল্প, বাণিজ্যিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ডিব্রুগড়ের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

আসাম রাজ্যের কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভূমিকা এবং গুরুত্ব জানার সঙ্গে ডিব্রুগড়ের চা শিল্পের উত্পত্তি প্রসার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮৭১ সালে ডিব্রুগড় জেলায় ৯০টি চা বাগান তৈরি করা হয়। সেসব বাগান মাত্র নয় বা দশটি কোম্পানি এবং কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানার অধীনে ছিল। সেখানে অর্ধশতাধিক ইউরোপিয়ান কর্মকর্তা এবং পাঁচ হাজারের অধিকসংখ্যক স্থানীয় অভিবাসী শ্রমিক কাজ করতেন। পরবর্তী তিন বছরে, অর্থাৎ ১৮৭৪ সালে চা বাগানের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১১২ এবং আনুমানিক ১৫ হাজার শ্রমিক বা কুলি তখন সেখানে কাজ করেছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে চা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য স্বাভাবিক কারণেই চা শিল্পের বিপণন ব্যবস্থার প্রভাব পড়ে যাতায়াত অবকাঠামোর (ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার) ওপর। কেননা চা বাগান প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে শ্রমিকদের পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ। তাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নৌকা স্টিমারে শ্রমিক আনা হতো। পরে ১৮৪৭ সালে কলকাতা থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত স্টিমার সার্ভিস শুরু হয় এবং ১৮৬০ সালে ডিব্রুগড়ে নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা চালু হয়। ১৮৮২ সালে আসামে রেলওয়ে প্রবর্তন হওয়ার পর ১৮৮৩ সালে রেলওয়ের সম্প্রসারণ এবং আরো উন্নতি হয়। ফলে ডিব্রুগড়ে একটি রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হলে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮১ সালে আসাম রেলওয়ে ট্রেডিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় তিনটি মূল বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ডিব্রুগড়-শদিয়ার মধ্যে একটি কার্যকরী রেলপথ নির্মাণ করা ছিল প্রধান বিষয়। বাকি দুটি বিষয় ছিল কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি আধুনিকরণ এবং শিপিং রুট পরিষেবার উন্নতিসাধন। যাহোক, ডিব্রুগড়-শদিয়া রেললাইন নির্মাণের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আসাম রেলওয়ে ট্রেডিং কোম্পানির মধ্যে ১৮৮০ সালের মে মাসে এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরবর্তী সময় ১৮৮১ সালের ২৫ জুলাই কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে আসাম রেলওয়েজ অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী আসাম রেলওয়ে ট্রেডিং কোম্পানি ডিব্রুগড় বন্দর থেকে দিনজান পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করে। তারপর ১৮৮২ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চাবুয়া পর্যন্ত রেলপথ খুলে দেয়া হয়। তখনো শদিয়া রোড বরাবর মাকুম জংশন থেকে তালা পর্যন্ত লাইন ডুমডুমা সেতুসহ নির্মাণাধীন ছিল। অবশেষে মাকুম জংশন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের রুট জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১৮৮৩ সালের জুলাইয়ে, ডুমা পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হয় ১৮৮৪ সালের মে মাসে এবং পরবর্তী অংশ ১৮৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সবশেষে রেলপথটি ১৯০৩ সালে ডিব্রুগড়-শদিয়া লাইনে তিন সুকিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। বলাবাহুল্য, ডিব্রুগড়-শদিয়া রেলপথ ডিব্রুগড়ের পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ স্টিমার ঘাটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই সময় ব্রহ্মপুত্র নদের টার্মিনাস (স্টিমারঘাট) শুষ্ক মৌসুমে ডিব্রুগড় থেকে প্রায় পাঁচ মাইল দূরে ছিল। শুরুতে শুধু উৎপাদিত চা পরিবহনের জন্য চা উৎপাদন কেন্দ্র এবং স্টিমারঘাটের মধ্যে ডিব্রুগড়-শদিয়া রেলপথ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে অধিকাংশ চা উৎপাদনকারী এলাকা দেশের বাকি অংশের সঙ্গে মেইনলাইন বা শাখালাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে ডিব্রুগড় থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তৎকালীন সময়ে উজান আসাম, অর্থাৎ তিনসুকিয়া, শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, ডিব্রুগড় ইত্যাদি (বর্তমানে একেকটি জেলা) অঞ্চল থেকে উৎপাদিত চা কলকাতা বন্দর দিয়ে রফতানি করতে খরচ হতো প্রচুর। তাই লর্ড কার্জনের পূর্ববঙ্গ আসাম সফরের সময় চা-বণিকরা দাবি করেন, তিনি যেন চট্টগ্রাম পর্যন্ত নতুন রেলপথ স্থাপন করার ব্যবস্থা করেন। ১৯০৪ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলপথ লামডিং, বদরপুর, করিমগঞ্জ, মহিষাসন, কুলাউড়া হয়ে বর্তমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। কথিত আছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও সেই রেলপথ দিয়ে ১৯১৯ সালে করিমগঞ্জ হয়ে সিলেটে পদার্পণ করেছিলেন।

ডিব্রুগড়-শদিয়া রেললাইন মিটারগেজ রেলওয়ে, যা সব মিলিয়ে ১৪০ কিলোমিটার (প্রায় ৮৬ মাইল) দীর্ঘ ১৯৩৭ সালের পরিসংখ্যান (স্ট্যাটিস্টিকস অব ওয়ার্কিং) থেকে জানা যায়, সেই দূরত্বের মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার ছিল ডিব্রুগড়-শদিয়া রেলওয়ে এবং বাকি ১০ কিলোমিটার ছিল লেডো এবং টিকক মার্ঘেরিটা কোলিয়ারি রেলওয়ে

কথা সত্যি, ডিব্রুগড়-শদিয়া রেললাইন নির্মাণের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ-ভারত ইতিহাসে এক নয়াদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল কিন্তু কথায় আছে, সব সফল কাহিনীর আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে ত্যাগ-তিতিক্ষার করুণ গল্প, যেমন ভরা পূর্ণিমার চাঁদের একদিকে থাকে রুপালি আলো, কিন্তু উল্টো পিঠে লুকিয়ে থাকে কলঙ্ক। তেমনই আসামের চা শিল্পের সূচনা বিকাশ লাভের এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির আড়ালে চাপা পড়ে আছে চা বাগানের শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের করুণ কাহিনী। উদাহরণ দিলেই বুঝা যাবে, বৃহত্তর আসামে চা শিল্পের সূচনালগ্নে শ্রমিক কর্মচারীদের কী রকম দুর্বিষহ জীবন ছিল।

চা বাগানের শ্রমিকদের বলা হতো কুলি তাদের বসবাসের জন্য ঘিঞ্জি বাসস্থানের ব্যবস্থা ছিল, যার আয়তন ছিল মাত্র ২৫ বর্গফুট। সেই স্বল্প পরিসরে তারা রীতিমতো গাদাগাদি করে বসবাস করত। অসুখ-বিসুখ হলে বিশেষ করে সর্দারদের কোনো ছুটি ছিল না। এছাড়া কুলিদের ব্যক্তিগত কোনো স্বাধীনতা ছিল না। এক চা বাগানের কুলিরা অন্য চা বাগানের কুলিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারত না। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিক সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য জোর করা হতো, যাতে পরে তারা বড় হয়ে শ্রমিক হিসেবে চা বাগানে কাজ করতে পারে। তাই তাদের জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না তাদের মজুরি ছিল যৎসামান্য চা বাগানের মালিকরা কুলিদের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার, বিশেষ করে হাসপাতাল বা ডাক্তারখানা এবং ঔষধপত্র সুযোগ রাখেনি। ফলে প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখে অসংখ্য মানুষ মারা যেত। তবে ১৮৯০ সালের দিকে গুটিকয়েক চা বাগানের মালিক অসুস্থ কুলিদের চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার রেখেছিল।

লেখা শেষ করার আগে একটা তথ্য জানিয়ে রাখছি। গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ডিব্রুগড়-সাদিয়া রেলওয়ের ইতিহাস জানা এবং অতীতের বিভিন্ন নিদর্শন দেখার জন্য আসাম রাজ্যের তিনসুকিয়া শহরে নির্মাণ করা হয়েছে রেলওয়ে হেরিটেজ পার্ক জাদুঘর। ঐতিহাসিক অনেক জিনিসের সঙ্গে সেখানে সংরক্ষিত আছে লোকোমোটিভ স্টিমইঞ্জিন, যা দেখলে বিশ্বের বৃহত্তম রেলওয়ে সংস্থার, অর্থাৎ ভারতীয় রেলওয়ের সাফল্যের ইতিহাস জানা যায়।

তথ্যসূত্র কৃতজ্ঞতা স্বীকার: লেখায় ব্যবহূত প্রায় সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে একাধিক গ্রন্থ, ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং উইকিপিডিয়া থেকে। এছাড়া কিছু তথ্য সরবরাহ করেছেন আসামের করিমগঞ্জ নিবাসী কবি, গবেষক আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক . মুজিব স্বদেশী। তাদের কাছে বিশেষভাবে ঋণী।

 

ফজল হাসান: লেখক অনুবাদক